সাইকেলে চড়ে কিশোরী তাহমিনার সাহসী যাত্রা


প্রকাশিত: ১১:৩৩ এএম, ২৭ এপ্রিল ২০১৭

‘বাল্যবিয়েকে না বলি, আপনার সচেতনতাই পারে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করতে’ স্লোগান সামনে রেখে পিরোজপুরের কাউখালীর কেউন্দিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির সাহসী শিক্ষার্থী তাহমিনা সাইকেলে চড়ে মাসব্যাপী বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে যাত্রা শুরু করেছেন।

নিজ গ্রাম কেউন্দিয়া থেকে সাইকেলে চড়ে ১০ মাইল দূরে উপজেলার উত্তর নিলতী সমতট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে প্রচার-প্রচারণা চালায় তাহমিনা। মাসব্যাপী কাউখালী উপজেলাজুড়ে এ প্রচার অভিযান চালাবে তাহমিনা।

pirojpore

স্থানীয় প্রতিবন্ধী স্কুলের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার সকালে সমতট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে ‘বাল্যবিয়েকে না বলি, আপনার সচেতনতাই পারে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করতে’ লেখা সংযুক্ত লাল কার্ড তুলে দেন সংগ্রামী তাহমিনা।

শিক্ষার্থীরা লাল কার্ড উঁচু করে বাল্যবিয়েকে না বলি স্লোগানে আশপাশ মুখরিত করে তোলে। এ সময় বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কিত লিফলেট বিতরণ করা হয়। পরে শিক্ষার্থীদের বাল্যবিয়ে না বলি এ বিষয়ে শপথবাক্য পাঠ করান তাহমিনা।

এ সময় উত্তর নিলতী সমতট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান, প্রতিবন্ধী স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষা উদ্যোক্তা আব্দুল লতিফ খসরু ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

pirojpore

একই দিন উপজেলার এস বি সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বাল্যবিয়ে না বলি, আপনার সচেনতাই পারে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করতে, এই স্লোগান সংযুক্ত লাল কার্ড শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হয়।

এ সময় এস বি সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মোস্তাফিজুর রহমান ও সহকারী শিক্ষক আব্দুল হালিম উপস্থিত ছিলেন। একই উপজেলার কেউন্দিয়া শহিদ স্মৃতি বালিকা বিদ্যালয়ে ও কেউন্দিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শপথ অনুষ্ঠিত হয়। পরে এই সচেতনতা কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানানো হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাহসী তাহমিনা উপজেলার কেউন্দিয়া গ্রামের একটি দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তার বাবা মো. রুহুল আমিন দিনমজুর, মা মাজেদা বেগম গৃহিণী। লেখাপড়ার পাশাপাশি তাহমিনা নারী জাগরণ ও বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে কাজ করছেন।

pirojpore

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাহমিনা জানায়, আমাদের সমাজে বাল্যবিয়ে সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে। বাল্যবিয়ে সংকুচিত করে দেয় নারীর পৃথিবী। সামাজিক সচেতনতা আর সম্মিলিত প্রচেষ্টাই কেবল বাল্যবিবাহ রোধ করে একটি কন্যাশিশুকে অধিকারসচেতন নারী কিংবা দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে নারী হিসেবে নিজেকে সচেতন হয়ে উঠতে হবে। পাশাপাশি সচেতন করতে হবে।

তাহমিনার ভাষ্য, নারী নিজেই যখন বাল্যবিবাহ সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠবে, তখন সামাজিক ঘৃণ্য অভিশাপ থেকে নিশ্চিতভাবে কন্যাশিশুরা মুক্তি পাবে। যখন দেশ, জাতি, রাষ্ট্র ও সমাজ এ বিষয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে, তখন বাল্যবিয়ে আড়ষ্টতা থেকে নারীরা বেরিয়ে আসবে। দেশ ও জাতির উন্নয়নে এটি এখন জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি তারই প্রচারণা শুরু করেছি মাত্র।

pirojpore

এ ব্যাপারে প্রতিবন্ধী স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষা উদ্যোক্তা আব্দুল লতিফ খসরু বলেন, বাল্যবিয়ে একটি সামাজিক ব্যাধি, এই ব্যাধিকে দূর করার জন্য নিজের দায়বদ্ধতা থেকে সংগ্রামী শিক্ষার্থী তাহমিনা মাঠে নেমেছে। আমি তাকে এ কাজে সহযোগিতা করছি। এই কাজটি করতে পেরে আমি আনন্দিত।

হাসান মামুন/এএম/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।