নারায়ণগঞ্জে বাড়ছে ধর্ষণের ঘটনা


প্রকাশিত: ০৮:২২ এএম, ০২ মে ২০১৫

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে বেড়ে গেছে ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির ঘটনা। বাড়ছে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনাও। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুরাও এ থেকে বাদ পড়ছে না। আর ধর্ষকের তালিকা থেকে বাদ পড়েনি শিক্ষক ও মসজিদের ইমামও। বিশেষ করে শিক্ষকদের হাতে শিক্ষার্থী ধর্ষণ ও ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় শঙ্কিত অভিভাবক মহল।

জানা গেছে, গত ৪ এপ্রিল বন্দর উপজেলায় নবম শ্রেণীর ছাত্রী তারই শিক্ষক জহিরুল হকে লালসার শিকার হয়। ওইদিন জহিরুল হকের কাছে পড়তে যাওয়ার পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রচণ্ড বৃষ্টি শুরু হয়। এসময় লম্পট শিক্ষক তাকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে আহত অবস্থায় ঘরে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

গত ১১ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জের নতুন আইলপাড়া এলাকায় চতুর্থ শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রী নিট কনসার্নের শ্রমিক লম্পট মতিউর রহমানের যৌন আক্রোশের শিকার হয়। কোন ধর্ষণের ঘটনা স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা যাবেনা উচ্চ আদালতের এমন নির্দেশনা থাকলেও স্থানীয় মাতব্বরেরা ১০ হাজার টাকা জরিমানার মাধ্যমে ওই ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে ধর্ষিতার বাবা বাদী হয়ে ধর্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর এলাকায় উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ইউসুফগঞ্জ গ্রামের পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ুয়া মাদ্রাসা ছাত্রীকে প্রতিদিন মাদ্রাসায় আসা-যাওয়া পথে স্থানীয় হাবিবপুর গ্রামের বখাটে সাব্বিরসহ তার সহযোগীরা কুপ্রস্তাবসহ বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করত। কু-প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের দিন দুপুরে ওই ছাত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মাদ্রাসা ছাত্রীর ভাই ইব্রাহিম মিয়া বাদী হয়ে ১৫ এপ্রিল রাতে সোনারগাঁ থানায় একটি মামলা দায়ের করলে পুলিশ ওই রাতেই সাব্বিরকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে ১৬ এপ্রিল তাকে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তার ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এছাড়া ফতুল্লার পূর্ব ইসদাইর এলাকায় ১৯ এপ্রিল দুপুরে বাবুল মিয়া নামে এক ব্যক্তি একটি শিশুকে ঘরে একা পেয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এসময় শিশুটির চিৎকারে এলাকার লোকজন ছুটে এসে বাবুল মিয়াকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। অপরদিকে ফতুল্লার আফাজনগর এলাকার ১৩ বছরের এক স্কুল ছাত্রীকে রিফাত হোসেন নামের এক বখাটে উত্যক্ত করতো। তারই সূত্র ধরে ১৯ এপ্রিল রাতে  ছাত্রীটিকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এসময় স্কুল ছাত্রীর চিৎকারে তার মা ছুটে এসে মেয়েকে উদ্ধার করে রিফাতকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

গত ১৯ এপ্রিল সোনারগাঁ পৌরসভার গোয়ালদী গ্রামে এক গার্মেন্টস কর্মীর তিন বছরের শিশু কন্যাকে ধর্ষণের চেষ্টাকালে হাতেনাতে আটক করে তৈয়ব আলী (৫০) নামে এক লম্পটকে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী। এদিকে ফতুল্লার ভুইগড়ে দীর্ঘ সাত বছর প্রেমের সম্পর্কের পর গত ২১ এপ্রিল প্রেমিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন এক প্রেমিকা।

সিদ্ধিরগঞ্জ জালকুড়ি এলাকাতে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মসজিদের ইমাম বিল্লাল হোসেনকে (৪৯) গ্রেফতার করে পুলিশ। ২০ এপ্রিল রাতে পুলিশ খবর পেয়ে বিল্লালকে গ্রেফতার করলেও এর আগেই দুপুরে স্থানীয় মাতব্বরা বিচার শালিসের নামে বিল্লালকে জুতাপেটা করে।

বন্দরের সোনাকান্দা নোয়াদ্দা এলাকায় স্কুল পড়ুয়া এক ছাত্রীকে (১৬) প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন আরাফাত নামের এক প্রতারক। এ ঘটনায় ধর্ষিতার বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করলে গত ২৩ এপ্রিল আদালতের নির্দেশে পুলিশ প্রতারক ও ধর্ষক আরাফাতকে গ্রেফতার করে। এদিকে একই দিন আড়াইহাজার উপজেলার গোপালদী পৌরসভার রামচন্দ্রদী বাসস্ট্যান্ডের একটি ঘরে রাত ১০টার দিকে ৬০ বছরের বৃদ্ধ ও ৩০ বছরের এক নারী অসামাজিক কার্যকলাপের সময় হাতেনাতে ধরা পরে।

এছাড়া গত ২৩ এপ্রিল রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর থেকে স্বামী ও বেয়াইকে নিয়ে ফেরার পথে গার্মেন্টস কর্মী ধর্ষণের শিকার হয়। এ ঘটনায় থানা অভিযোগ দায়ের হলে অপহরণকারী বখাটেদের মধ্যে বন্দর রূপালী আবাসিক এলাকার রবিউলের বখাটে ছেলে জুয়েল, আয়ূব আলীর বখাটে ছেলে রমজানকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মো.শাহাদাৎ হোসেন/এসএস/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।