হাসপাতালে গৃহবধূর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী-শাশুড়ি
গাজীপুরের টঙ্গী সরকারি হাসপাতাল থেকে শুক্রবার সকালে ফাতেমা-তুজ-জোহরা মনিষা (২০) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুপুরে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
নিহত মনিষা ঢাকার উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ব্যবসায়ী মোস্তফা কামালের মেয়ে।
গৃহবধূর বাবা ও পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, মানিষাকে তার স্বামী তারেক শ্বাসরোধ করে হত্যার করে মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে গেছে।
মোস্তফা কামাল জানান, প্রায় ১৬ মাস আগে উত্তরার দক্ষিণখান এলাকার দেওয়ান বাড়ির হাজী আক্তারুজ্জামানের ছেলে এএসএম তারেকের সঙ্গে মনিষার বিয়ে হয়। তারেক একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করে। বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে তারেকের বাবা মোবাইলে ফোনে জানায় মনিষা গলায় ওড়না পেঁচিয়ে বাথরুমে ঝুলে ছিল। তাকে উদ্ধার করে উত্তরার বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে।
রাত পৌনে ৩টার দিকে তিনি হাসপাতালে গিয়ে দেখেন সেখানে তারেক ও তার বাবা-মা অপেক্ষা করছে। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মনিষাকে মৃত ঘোষণা করলে মরদেহ ফেলে স্বামী-শাশুড়ি পালিয়ে যায়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে মানিষার মরদেহ টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে আনা হয়। খবর পেয়ে টঙ্গী থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। এক পর্যায়ে মানিষার শ্বশুরও গা ঢাকা দেয়।
মনিষার বাবা জানান, কিছুদিন আগে বাসার এসি নষ্ট হয়ে গেছে জানিয়ে মনিষা তাকে একটি নতুন এসি কিনে দিতে বলেছিল। সোমবার ছেলেকে দিয়ে তিনি এক লাখ টাকা পাঠিয়েছিলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে তারেক শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। ওরা মরদেহ হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে গেছে। ঘটনার পর থেকে তারেকের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।
টঙ্গী থানা পুলিশের এসআই আবদুর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, টঙ্গী হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যা না আত্মহত্যা ময়নাতদন্তের রির্পোট পেলে জানা যাবে।
আমিনুল ইসলাম/আরএআর/পিআর