মামলা করে হুমকিতে নির্যাতিত সেই শিশুর পরিবার
ঝালকাঠির আলোচিত চুরির অপবাদে স্কুলছাত্রকে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা দায়ের করায় আসামিদের হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে আহত সাগরের পরিবার। আসামিরা মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছে সাগরের পরিবারকে। এ ঘটনায় ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র সাগরের মা রাশিদা বেগম শনিবার সন্ধ্যায় ঝালকাঠি সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ১৩১৬, তারিখ ২৭ মে ২০১৭ইং) করেছেন।
১৪ মে রোববার সদর উপজেলার কির্ত্তীপাশা ইউনিয়নের আলিপুর গ্রামের ৯ বছরের শিশু সাগরকে টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করে এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল। এ ঘটনায় সাগরের বোন রাবেয়া আক্তার সুমী বাদী হয়ে ঝালকাঠি সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন, এলাকার মো. আতাহার হাওলাদার (৫৫), জামাল হাওলাদার (৪০), মো. হৃদয় কারিকর (১৯), মো. আনোয়ার হোসেন (৩০), শান্ত হোসেন (১৮), মো. আ. লতিফ হাওলাদার (৪০), মো. আব্দুস সত্তার চৌকিদার (৪৫), মো. আব্দুর রব হাওলাদার (৪০) ও মো. সোহরাব হাওলাদার।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়, মামলার আসামিরা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদানসহ হুমকি দিয়ে আসছে। আজকে না হলেও কোনো একদিন মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে চরমভাবে প্রতিশোধ নেয়ার কথা বলে বেড়াচ্ছে। এতে মামলার বাদী রাবেয়াসহ পুরো পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো দুর্ঘটনার আশঙ্কায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে বলেও জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সদর উপজেলার বাসন্ডা ইউনিয়নের আলিপুর গ্রামের মৃত সুলতান মুন্সির ছেলে আলিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শেণির ছাত্র সাগরের বিরুদ্ধে স্থানীয় জামে মসজিদের ইমাম মোস্তফা কামালের কক্ষ থেকে দু’হাজার টাকা চুরির অভিযোগ করে বেধড়ক মারধর করে পা ভেঙে দেয়া হয়। ১৪ মে রোববারের এ ঘটনায় সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বিষয়টি প্রচার হলে টনক নড়ে পুলিশের।
শুক্রবার (১৯ মে) সকালে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত হৃদয় কারিকর ও জামাল হাওলাদারকে আটক করে পুলিশ। পরে আটক আসামিরা আদালত থেকে জামিনে বের হয়।
মামলার বাদী রাবেয়া আক্তার সুমী জানান, ওই সময়ে আটক দু’জন বাদে অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার না করায় তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা প্রভাবশালী বিধায় এখন আমাদের পরিবারকে উৎখাতসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম জানান, আসামিরা আত্মগোপনে থাকায় গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না। তাদের আটকের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আতিকুর রহমান/এফএ/এমএস