উজিরপুরে শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ


প্রকাশিত: ০৪:৪০ এএম, ১৩ মে ২০১৫

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সোনার বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। একটি শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগ প্রত্যাশী দু’ জনের কাছ থেকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটি টাকা নেয়ায় তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। আর এ বিরোধের কারণে ঘুষের বিষয়টি জনসম্মুখে চলে আসে।

তবে প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা এ জন্য একে অপরকে দোষারোপ করছেন।

নিয়োগ সংশ্লিষ্টরা জানান, সোনার বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হলে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এতে ৯ জন প্রার্থী আবেদন করেন। গত শুক্রবার বরিশাল জিলা স্কুলে নিয়োগ পরীক্ষায় জন্য ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দেবাশিষ দাসসহ ৬ জন প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন।  

অন্যদিকে, নিয়োগ পরীক্ষার আগেই ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য প্রভাষক পান্না লালের বাংলাবাজার সংলগ্ন বাসভবনে বৈঠক করেন। দেবাশিষকে ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম, পিটিআই কমিটির সদস্য আশরাফ রাঢ়ী, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য কামাল মোল্লা, ইউসুফ রাঢ়ীসহ কয়েকজন ব্যক্তি।  

তাদের সিদ্ধান্তনুযায়ী নিয়োগ চূড়ান্ত করার জন্য রূপালী ব্যাংক শিকারপুর শাখায় বৃহস্পতিবার (৭ মে) ২২৩৩ নং একাউন্টে ৪২৬০৬ নং ভাউচারের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের একাউন্টে ৩ লক্ষ টাকা জমা করেন দেবাশিষ দাস। এছাড়া প্রধান শিক্ষকের কাছে আরো নগদ ২ লক্ষ টাকা প্রদান করেছে বলেও কমিটির সদস্যরা অভিযোগ করেন ।

কিন্তু নিয়োগ পরীক্ষায় মোহনকাঠী স্কুল এ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক সাইদুল ইসলাম খোকন প্রথম হন। খোকন নিয়োগ পেতে ৭ লাখ টাকা প্রদানের প্রস্তাব দেন।  ম্যানেজিং কমিটি ওই টাকা গ্রহণ করে দেবাশিষকে বাদ দিয়ে খোকনকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য তোড়জোড় শুরু করে।

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাজাহান হাওলাদার জানান, বর্তমানে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। দেবাশিষকে নিয়োগ দেওয়ার ব্যাপারে তার অজান্তে প্রধান শিক্ষক তার কাছ থেকে ব্যাংক একাউন্টে ৩ লাখ টাকা ও নগদ ২ লাখ টাকা নিয়েছে। খোকনের কাছ থেকেও ৭ লাখ টাকা নিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হওয়ায় পুনরায় নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার চেষ্টা চলছে ।

বিদ্যালয়ের  ব্যাংক একাউন্টে ৩ লাখ টাকা জমা হওয়ার কথা স্বীকার করে প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম জানান, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য’রা দেবাশিষ দাসের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা গ্রহণ করে তাকে  দিয়ে নিয়োগ দিতে চাপ সৃষ্টি করে। তবে তিনি নিরপেক্ষ পরীক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। নগদ কোন টাকা তিনি গ্রহণ করেননি। তিনি আরো বলেন, নিয়োগ পেতে হলে টাকাতো লাগবেই। তাই যে প্রথম হয়েছে তার কাছ থেকে স্কুল চালানোর জন্য কিছু অনুদান নিলে সেটা তো দোষের না।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা স্কুল প্রাঙ্গণে গত রোববার এক জরুরি সভা করে। সভায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইউসুফ হোসেন হাওলাদারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন আব্দুস ছাত্তার মল্লিক, হাবিবুর রহমান হাওলাদার, মুক্তার হোসেন হাওলাদার, জাহাঙ্গীর হোসেন হাং, আমিরুল ইসলাম দুলাল ডাকুয়া, ইউসুফ রাঢ়ী, খোকন হাং, কামাল মোল্লা, আফজাল শরীফসহ উপস্থিত অর্ধশত অভিভাবক। সভায় স্কুলের স্বার্থে নিরপক্ষভাবে একজন মেধাবী শিক্ষক নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহব্বান জানান তারা।

সাইফ আমীন/এসএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।