ট্রাফিক পুলিশকে মাসোহারা : অবৈধভাবে চলছে ইজিবাইক


প্রকাশিত: ০৫:২২ এএম, ১৪ মে ২০১৫

খুলনা মহানগরী এখন ইজিবাইকের নগরীতে পরিণত হয়েছে। যারা যেভাবে পারছেন তারা সেভাবেই নগরীর রাস্তায় চালাতে শুরু করেছেন ব্যাটারি চালিত এই যাত্রী পরিবহনকারী বাহনটি। নগরীতে ইজিবাইক যতই বাড়ছে, ভূইফোঁড় ইউনিয়নের সংখ্যাও তত বাড়ছে। ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ দুই নেতার নাম ভাঙিয়ে চলছে সেই ইউনিয়নের চাঁদাবাজি। আর পুলিশ প্রশাসনের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে মাসোহারা।

মামলা করার এখতিয়ার নেই অজুহাত থাকলেও, খুলনা মেট্রোপলিটান পুলিশ (কেএমপি) অন্যকোন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারছে না এই বাহনটির বিরুদ্ধে।

একটি সূত্র জানায়, খুলনা মহানগরীতে গড়ে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০টি ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক রাস্তায় নামছে। সে হিসেব অনুযায়ী খুলনা মহানগরীর রাজপথসহ অলিগলিতে প্রতিদিন ২৫ থেকে ২৮ হাজার ইজি বাইক চলাচল করছে।

ইজিবাইক চালকদের সূত্র জানায়, সম্প্রতি নগরীতে ইজিবাইকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় কেএমপি এর উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। এতে করে নগরীতে প্রতিদিন মাত্র ৫ হাজার ইজিবাইক চলাচল করতে পারবে বলেও কেএমপি জানায়। একই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নগরীর প্রায় ইজিবাইক বিক্রির প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। তবুও নগরীর ইজিবাইক বিক্রির প্রতিষ্ঠান সমানে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের ব্যবসা।

অভিযোগ রয়েছে, নতুন কোন ইজিবাইক রাস্তায় নামাতে গেলে কেএমপিকে আগেই নগদ ৫ হাজার টাকা প্রদান করতে হয়। কেএমপিকে টাকা দিয়ে রাস্তায় নামার পর ইউনিয়নের কাছ থেকে ৮২০ টাকা থেকে ৯৫০ টাকা দিয়ে টোকেন সংগ্রহ করতে হয়। এই টোকেনধারী ইজিবাইক চালকদের প্রতি মাসে ২০০ টাকা দিতে হয় ইউনিয়ন অথবা সমিতিকে। যার কোন হিসাব তাদেরকে পরবর্তীতে দেয়া হয় না।
এই টোকেনে খুলনা-২ আসনের এমপি মিজানুর রহমান মিজান এবং কেএমপির কমিশনারের স্বাক্ষর থাকার কথা থাকলেও তা নেই বলে জানিয়েছেন অনেক চালক।

এদিকে নগরীতে যত ইজিবাইকের সংখ্যা বাড়ছে ভূইফোঁড় শ্রমিক ইউনিয়ন এবং সমিতির সংখ্যা ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইজিবাইক চালকরা জানান, নগরীর বয়রা বাজার, সোনাডাঙ্গা বাস স্ট্যান্ড, বৈকালী বাজার, আবু নাসের হাসপাতালের সামনে, খুমেক হাসপাতালের সামনে, রূপসা ট্রাফিক মোড়, রূপসা ব্রীজের সংযোগ সড়ক, গল্লামারী ব্রিজ এলাকাসহ আরো বেশ কয়েকটি স্থানে গড়ে উঠেছে ইউনিয়ন এবং সমিতি। প্রতিদিন এই সংগঠনগুলো প্রতি বাইক থেকে ১০ টাকা করে আদায় করে নিজেরা ভাগবাটোয়ারা করে নিচ্ছে। কোন প্রতিবাদ করলে চালককে শারিরীক নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। এসময় চাঁদা আদায়কারীরা বলছেন, এটা এমপি মিজানের ইউনিয়ন। টাকা না দিলে রাস্তায় গাড়ি উঠবে না।

এ ব্যাপারে ইজিবাইক চালক শহিদুল, কওছার, কালামসহ আরো কয়েকজন জানান, এসব জায়গায় বাইক নিয়ে গেলেই ১০ টাকা করে দিতে হয়। না দিলে গাড়ি দাঁড়াতে দেয় না, যাত্রী নামিয়ে দেন সন্ত্রাসীরা, মারপিট করে এমনকি গাড়ি ভাঙচুর করেন।

এ ব্যাপারে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. মনিরুজ্জামান মনি জাগো নিউজকে বলেন, এগুলোর লাইসেন্স দেয়ার কোন সুযোগ নেই। তবুও আগে যেগুলো দেয়া হয়েছে, সেগুলো ছাড়া বাকি ইজিবাইকগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এই বাইকগুলোর চালকরা গাড়ি চালানোর কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কাও করনি না বলে জানান তিনি।

তবে খুলনার এমপি মিজানুর রহমান মিজান জাগো নিউজকে বলেন, এভাবে চলতে পারে না। ইজিবাইকের কারণে খুলনার ট্রাফিক ব্যবস্থা একেবারেই ভেঙে পড়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থা ঠিক করতে এবং সড়ক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ইজিবাইকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরো বলেন, তিনিও শুনেছেন তার নাম ভাঙিয়ে কোথাও কোথাও চাঁদাবাজি করা হয়। এটা তার সুনাম ক্ষুন্ন করতেই করা হয়। তিনি তার নাম ভাঙানোর চেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

কেএমপির সহকারী কমিশনার (এসি ট্রাফিক) মোল্লা আজাদ জাগো নিউজকে বলেন, রেকার করে নিয়ন্ত্রণ করে নেবার চেষ্টা চলছে। এই গাড়িগুলোর অনুমোদনের কোন সুযোগ নেই। সিটি কর্পোরেশন থেকে অনুমোদন দেয়া হলেও তারা তা দিতে পারে না। তিনি বলেন, যারা সড়কে যত্রতত্র পার্কিং করে যানজট সৃষ্টি করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে ইজিবাইকের বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না বিধায় সুযোগ গ্রহণ করছেন অনেকে।

পুলিশের আর্থিক সুযোগ নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এর কোন ভিত্তি নেই। পুলিশ কোন ইজিবাইক চালক বা সমিতি অথবা ইউনিয়ন থেকে কোন অর্থ গ্রহণ করে না। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।

আলমগীর হান্নান/এমজেড/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।