বকেয়া কর আদায় অভিযানে সিলেট সিটি কর্পোরেশন


প্রকাশিত: ১২:০৭ পিএম, ১৪ মে ২০১৫

প্রথমবারের মতো বকেয়া কর আদায়ে অভিযানে নেমেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। বৃহস্পতিবার বেলা ১ টা থেকে সিলেট নগরের কুমারপাড়া পয়েন্ট থেকে এই অভিযান শুরু করা হয়। পরে নাইওরপুল, জেলরোড, নয়াসড়ক ও বারুতখানা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকে।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীবের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর, উচ্চ পদস্থ সকল কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট শাখার সকল কর্মকর্তাবৃন্দ এবং পুলিশের একটি দল অংশ নেয়।

এ অভিযানে বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স ছাড়াও ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স আছে কীনা তা খতিয়ে দেখা হয়। অভিযানকালে কর ও ট্রেড লাইসেন্স বিষয়ে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের চিত্র ধরা পড়লে তাদেরকে আগামী ২৫মে এর মধ্যে সকল বকেয়া পরিশোধের আদেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে অনিয়ম সংশোধন ও বকেয়া কর পরিশোধ না করলে মালামাল ক্রোকসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেন নির্বাহী কর্মকর্তা।

সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, বেলা ১২ টার দিকে প্রথমেই অভিযান পরিচালনা করা হয় কুমারপাড়া পয়েন্টের শিশুদের পোশাকের মেগাশপ বেবিশপ এ। এই প্রতিষ্ঠানের ভবনটির হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধিত থাকলেও পরিদর্শনকালে বেবিশপ তাদের ট্রেড লাইসেন্স দেখাতে পারেনি। একই চিত্র দেখা যায়,পোশাক বিক্রয় প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টিনে। তাদেরও ট্রেড লাইসেন্স পাওয়া যায়নি।

সিলেটের নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘সিলেট গ্রামার স্কুল’ যে ভবনে অবস্থিত সে ভবনের মালিক ৯ বছর ধরে হোল্ডিং ট্যাক্স দেন। তার বকেয়া করের পরিমান ৮০ হাজার টাকা। মেসার্স ফরিদ আহমদ এ্যান্ড ব্রাদার্স কর্তৃপক্ষ তাদের নবায়নকৃত ট্রেড লাইসেন্স উপস্থাপন করতে পারেননি। এছাড়া বৃটিশ হাই কমিশনের কুমারপাড়া অফিস যে ভবনটিতে অবস্থিত (ইসমাইল মঞ্জিল, ব্লক এ/৩৭) সেই ভবনের মালিকের কাছে বিগত ৩ বছরের বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স এর পরিমান ১ লাখ ২০ হাজার ৫শত টাকা।

এছাড়া বসুন্ধরা মটরস শোরুমের ভবনের মালিকের কাছে বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স পাওনা ৯০ হাজার টাকা, মেট্রো ফার্নিচারের ট্রেড লাইসেন্স নেই। জেলরোডের আনন্দ টাওয়ার মার্কেট কর্তৃপক্ষের কাছে ৫ বছরের বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্সের পরিমান ১০ লাখ ৯৯ হাজার টাকা, বারুতখানা মেগাশপ ‘স্বপ্ন’ ও ডাচ বাংলা ব্যাংক যে ভবনে সে ভবন কর্তৃপক্ষের কাছে গত ৪ বছরের বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স এর পরিমান ৪ লাখ টাকা, নয়াসড়ক এর আড়ং যে ভবনে অবস্থিত সেই ভবন কর্তৃপক্ষের কাছে গত ৯ বছরের বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স এর পরিমান ১ লাখ ৫২ হাজার টাকা।

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব বলেন, সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের স্বার্থেই নগরবাসীদের কর পরিশোধে সচেতন হতে হবে। এই অভিযানের মাধ্যমে বকেয়া কর আদায়ের ব্যাপারে জনগণকে নোটিশ দেওয়ার পাশাপাশি আমরা তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করছি। এরপরও যারা কর বকেয়া রাখবেন তাদের ব্যাপারে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ অভিযান পর্যায়ক্রমে নগরের সব জায়গায় পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

ছামির মাহমুদ/এসএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।