শসার কেজি ২ টাকা!


প্রকাশিত: ০৯:৫৯ এএম, ১৪ জুন ২০১৭

শসা উৎপাদনে দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা। বহু বছর ধরে এ অঞ্চলে উৎপাদিত শসা নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে দেশের বিভিন্নস্থানে পাঠানো হয়।

কিন্তু এ বছর একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে এ উপজেলার কয়েক হাজার শসাচাষি প্রায় নিঃস্ব হতে চলেছেন। গত কয়েকদিনের বৈরী আবহাওয়ায় শসা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।

শৈলকুপা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ত্রিবেনী, মির্জাপুর, দিগনগর, কাঁচেরকোল ও দুধষর ইউনিয়নে প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে শশার চাষ হয়েছে। তবে এসব ইউনিয়নের মধ্যে বালাপাড়া, চরগোলকনগর, পদমদি, শেখপাড়া, রামচন্দ্রপুর, সাধুখালি, চরপাড়া, বিষ্ণদিয়া, আনন্দ নগর, ভদ্রডাঙ্গা গ্রামে এবার শসার চাষ হয়েছে বেশি। দুই থেকে তিন টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে এসব শসা।

আনন্দ নগর গ্রামের চাষি ইসলাম মিয়া জানান, ঝিনাইদহের ছয়টি উপজেলার মধ্যে শৈলকুপা একমাত্র উপজেলা যেখানকার প্রায় সব গ্রামেই ব্যাপকভাবে শসার চাষ হয়। তাই এখানকার গ্রামগুলো একত্রে শসাগ্রাম বলে পরিচিত। অল্প খরচে ভালো লাভ হওয়ায় দিনের পর দিন শসা চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা।

jhinaidha

তিনি বলেন, এ বছর একের পর এক প্রকৃতিক দুর্যোগ ও নিম্নচাপের ফলে কৃষকের উৎপাদিত শসার দাম একচেটিয়া পড়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এ এলাকার কয়েক হাজার কৃষক। আবার পচনশীল পণ্য হওয়ার কারণে কোনোভাবে মজুদ করার সুযোগ না থাকায় পানির দরে বাজারে শসা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি আমরা।

এ ব্যাপারে শেখপাড়া গ্রামের কৃষক সোলেমান উদ্দিন জানান, তবে সময়মত বৃষ্টি না হওয়ায় এবার সেচ খরচ বেশি পড়েছে। তিনি সার ও ওষুধের দাম কমানোর দাবি জানান।

শেখপাড়া বাজারে শসা কেনার সময় ব্যবসায়ী রেজাউল করিম জানান, গত ১০ বছর ধরে তিনি এ বাজার থেকে শসা কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠান। দেশীয় ও ভারতীয় ভ্যারাইটিজ নামে দু জাতের শসার চাষ হয় এখানে। চৈত্র মাসের মাঝামাঝি বীজ বপণের পর বৈশাখের মাঝামাঝি থেকে শসা তোলা শুরু করে হয়। শসা বিক্রির বড় বাজার শেখপাড়া ও চড়ুই বিল। সপ্তায় তিন দিন ট্রাকট্রাক শসা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যায়।

jhinaidha

আরেক চাষি হযরত আলী জানান, পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি গ্রামে শসার চাষ হচ্ছে। এক বিঘা জমিতে শসা চাষ করতে খরচ হয় প্রায় ১৮-২০ হাজার টাকা। আর বিক্রি করা যায় প্রায় ৬০-৮০ হাজার টাকায়। কিন্তু এ বছর দাম নেই। মাত্র ২-৫ টাকা কেজিতে শশা বিক্রি হচ্ছে স্থানীয় বাজারে।

শৈলকুপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার জানান, আধুনিক চাষ পদ্ধতি, ভালো বীজ বিতরণসহ মাঠ পর্যায়ে শসাচাষিদের পরামর্শ দেয়া হয়। শসা উৎপাদনের তিনটি মৌসুম আছে। প্রথম মৌসুম মাঘ মাসের মাঝামাঝি থেকে জ্যৈষ্ঠের মাঝামাঝি। দ্বিতীয়টি, ভাদ্রের মাঝামাঝি থেকে কার্তিকের মাঝামাঝি। কার্তিকের শেষ সময় থেকে পৌষের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলে তৃতীয় মৌসুম। শসা চাষের জন্য দোআঁশ ও এঁটেল-দোআঁশ মাটি উপযোগী।

তিনি আরও জানান, চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদন হওয়ায় আড়ৎদার ও দালালদের খপ্পরে পড়েছেন বিক্রেতারা।

আহমেদ নাসিম আনসারী/আরএআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।