রামগড় সাব্রুম স্থলবন্দর চালুর প্রাথমিক কাজ শুরু

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:০৮ এএম, ১৮ মে ২০১৫

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খুব শিগগিরই শুরু হচ্ছে খাগড়াছড়ির রামগড়ে স্থলবন্দর চালুর কাজ। এটি হবে বাংলাদেশের ১৫তম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম স্থলবন্দর। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ করতে সরকার রামগড় সাব্রুম সীমান্তে এ স্থলবন্দর স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে।

স্থলবন্দরের কার্যক্রম চালু করার লক্ষ্যে সীমান্তবর্তী ফেনী নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরুর প্রাক প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। চার লেইন বিশিষ্টি আর্ন্তজাতিক মানের এ ব্রিজটি নির্মাণ করবে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য সরকার। ইতোমধ্যে দুই দেশের একটি যৌথ প্রতিনিধিদল রামগড়ের মহামুনি সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করে এ ব্রিজ নির্মাণের স্থান চূড়ান্ত করেছেন।

রামগড় পৌর এলাকার মহামুনি ও সাব্রুমের আনন্দপাড়ায় ফেনী নদীর উপর দু`দেশের মধ্যে এ সংযোগ সেতুটি নির্মাণ করা হবে। সেতুটি নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার পরই চালু হবে রামগড় সাব্রুম স্থল বন্দরের কার্যক্রম। ভারত সরকার ইতোমধ্যে রামগড়ের মহামুনি সীমান্তের ওপারে সাব্রুমের আনন্দপাড়ায় স্থলবন্দরের বিভিন্ন অবকাঠামোর নির্মাণ কাজও সম্পন্ন করেছে।
 
গত শুক্রবার বিশ্ব ব্যাংকের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল রামগড় স্থলবন্দর এলাকা পরিদর্শন করেছেন। রামগড়-সাব্রুম স্থলবন্দরের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত বারৈয়ারহাট রামগড় সড়কের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থ সহায়তা দিতে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দলটি স্থলবন্দরের নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেন।

প্রতিনিধি দলটি রামগড়ের মহামুনি এলাকায় বন্দরের টার্মিনাল, ওয়্যার হাউসসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের জন্য নির্ধারিত স্থান এবং ফেনী নদীর উপর রামগড় সাব্রুম সংযোগ সেতু নির্মাণের স্থান পরিদর্শন করেন।

সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে এ স্থলবন্দরের সংযুক্ত বারৈয়ারহাট-রামগড় সড়কটি চার লেনে পুনঃনির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে রামগড়ে বন্দরের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ, টার্মিনাল স্থাপন ইত্যাদির জন্য ভূমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়াও দ্রুত সম্পন্ন করার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সয়েল টেস্টের (মাটি পরীক্ষা) কাজও গত ১২ মে থেকে শুরু করেছে ভারতের পিডব্লিউডি বিভাগ। সীমান্তের উভয় অংশে এখন কাজ চলছে।

সূত্রে আরো জানা যায়, সীমান্তের এপার এবং ওপারে  দুটি ল্যান্ড কাস্টমসের মাধ্যমে রামগড় ও সাব্রুমের লোকজন দু’দেশে ভ্রমণ করতো। আশির দশকে পার্বত্য চট্টগ্রামের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাজনিত কারণে এ ল্যান্ড কাস্টমস দুটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এখন আবারো এগুলো চারুর দাবি ওঠেছে।

আরএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।