মাদারীপুরে চড়ক মেলায় হাজারো মানুষের ঢল
শরীরের বিভিন্ন অংশে বড়শি ফুটিয়ে মানুষকে শূন্যে ঘোরানো চড়কপূজোয় মাদারীপুর জেলার আমগ্রামের মেলা প্রাঙ্গণ হাজারো ভক্ত-অনুরাগীসহ সাধারণ মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। সপ্তাহব্যাপী এ চড়ক ঘুল্লা ও মেলা শেষ হবে আগামী রোববার।
চড়কপূজো মেলার আয়োজক দিনেশ চন্দ্র বালা জানান, রাজৈর উপজেলার আমগ্রাম দক্ষিণপাড়া ঐতিহ্যবাহী কালী মন্দির মাঠে বৈশাখ সংক্রান্তি ও নিল পূজা উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৯ মে) থেকে রোববার (২৫ মে) পর্যন্ত ৭ দিনব্যাপী চড়ক ঘুল্লা ও বৈশাখী মেলা শুরু হয়েছে। পূর্ব থেকেই দিনক্ষণ ঠিক থাকায় দুপুর থেকে মেলায় চড়ক ঘুল্লা দেখতে দর্শনার্থীরা আসতে শুরু করে। মধ্য আকাশের সূর্য পশ্চিম কোলে ঢলে পড়লে শিবের উপাসক ও সন্ন্যাসীরা পূজা ও প্রার্থনা শেষে শরীরের বিভিন্ন অংশে বড়শি ফোঁড়ানো শুরু করে।
পরে শিবের একাধিক ভক্তরা দুই হাত ও দুই পা চেপে ধরেন। আঙ্গুলগুলোর মতো মোটা লম্বা দু’টি লোহার বড়শি কারো জিহ্বায়, কারো উরুতে, কারো বুকে আবার কারো বা পিঠে ফুঁড়ে দেয়া হয়। এরপর বড়শিতে নতুন লাল সুতা ও একটি নতুন লাল গামছা বাঁধা হয়। এতে শিবের উপাসক তাপস বালা, সুশান্ত মন্ডল ও জয় রায়কে চড়ক গাছে লম্বা শক্ত দড়িতে বেঁধে শূন্যে ঘোরানো হয়। ৩০ ফুট উচুতে শূন্যে একে একে সাত পাক দিয়ে তাকে নামান অন্য সঙ্গীরা।
একইভাবে অন্য দুই শিব সাধককেই একইভাবে ঘোরানো হয়। এতে চড়কে পাক খাওয়া শিব উপাসকরা মনে করেন ভগবান ভোলানাথ সঙ্গে থাকায় কোন ব্যথা লাগে না এবং আনন্দ পাওয়া যায়। মিষ্টি বাতাশা ছিটিয়ে ভক্ত অনুরাগীদের স্বর্গের আগাম বার্তা এনে দেয়।
চড়ক ঘুল্লা দেখার জন্য মাদারীপুর ছাড়াও গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, ফরিদপুর, বরিশাল, রাজবাড়ীসহ বেশ কয়েকটি জেলার ভক্ত-অনুরাগীরা মেলায় অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারী সকলে আনন্দিত ও অনুপ্রাণিত।
বড়শি ফোঁড়ানোর গুরু কদমবাড়ির আড়ুয়াকান্দি গ্রামের রবিন রায় মনে করেন, ভগবান ভোলানাথ সঙ্গে থাকায় ব্যথা লাগে না। মন শান্ত আর প্রাণে ভক্তি থাকলে চড়ক ঘোরা কোনো কষ্টের বিষয় নয়।
চড়ক পূজা ও মেলার আয়োজক দিনেশ চন্দ্র বালা বলেন, প্রায় দু’শ বছর আগে থেকেই আমগ্রামে চড়ক মেলা হয়ে আসছে। অনেকে মন বাসনা পূরণের জন্য এ মানত করেন।
একেএম নাসিরুল হক/এসএস/এমএস