রাজশাহীর মেলায় সর্বশান্ত হচ্ছেন খেটে খাওয়া মানুষ


প্রকাশিত: ০৩:১৫ এএম, ২৬ মে ২০১৫

রাজশাহীতে মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ও মোটর শ্রমিকদের হাসপাতাল নির্মাণের নাম দিয়ে শুরু হওয়া আনন্দ মেলায় প্রকাশ্যে চলছে লটারি, হাউজি ও জুয়ার বোর্ড। মেলাগুলোতে লটারি ও জুয়ার বোর্ডে বাম্পার পুরস্কার দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিদিন সারা নগরী জুড়ে চলছে মাইকিং। আর সেই প্রলোভনের ফাঁদে পা দিয়ে সর্বশান্ত হচ্ছেন নগরবাসী। বিশেষ করে নগরীর খেটে খাওয়া মানুষগুলো বাম্পার পুরস্কার পাওয়ার আশায় লটারি ও হাউজি খেলাতে অংশগ্রহণ করে প্রতারিত হচ্ছেন।  

এদিকে, মেলাগুলোতে আসা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা দেয়ার নামে বসানো হয়েছে পুলিশ বক্স। ফলে পুলিশের প্রকাশ্য মদদে লটারি, হাউজি ও জুয়ার আসর থেকে প্রতিদিন লেনদেন হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। গত কয়েকদিন ধরে রাজশাহীতে এমনই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বিরাজ করায় ক্রমেই ক্ষোভের দানা বাধছে সাধারণ নগরবাসীর মনে। তাই এখনই এসব বন্ধ হওয়া উচিত বলে মনে করছেন নগরীর বিশিষ্টজনরা।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নিজস্ব হাসপাতাল চালুর কথা বলে আনন্দ মেলার উদ্বোধন করা হয়।

আরএমপির পুলিশ কমিশনার মো. শামসুদ্দিন এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এ মেলার উদ্বোধন করেন। এসময় অনুষ্ঠানে রাজশাহী মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ডা. আব্দুল মান্নান, সহকারী কমান্ডার জহির উদ্দিন (জসি), রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কামাল হোসেন রবি ও সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব উদ্দিন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত বছর এই হাসপাতালের নামেই মাসব্যাপী আনন্দ মেলার কথা বলে দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে নগ্ন নৃত্য, ৮টি জুয়ার বোর্ড ও লটারির নামে প্রতারণাসহ নানা অপকর্মের আড্ডায় পরিণত করা হয়েছিল রাজশাহী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালটিকে।

এবারও হাউজি, যাত্রাপালা, পুতুল নাচ, চুড়ি খেলা ও জুয়ার বোর্ড বসিয়ে এসব অপকর্ম চালানো হচ্ছে। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে মেলায় পুলিশের উপস্থিতিতে হাউজি ও জুয়ার আসর ও পুতুল নাচের নামে উদাম নৃত্যের আসর।


আর দিনের বেলা মেলাগুলোতে ২০ টাকা দামের লটারির টিকেট বিক্রি করে নগরবাসীর নিকট থেকে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। বিনিময়ে রাতে ওই লটারির প্রকাশ্যে ড্র করার নামে কয়েকটি পুরস্কার বিতরণ করা হচ্ছে। এই দেখে মেলাগুলোতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষগুলো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কামাল হোসেন রবি জাগো নিউজকে জানান, শ্রমিকদের স্বার্থেই এই হাসপাতালটি করা হচ্ছে। এখনো এটি চালু করতে অনেক টাকা প্রয়োজন। তাই আবারো মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, নগরীর সিঅ্যান্ডবি মোড় এলাকায় কালেক্টরেট মাঠে গত ৪ মে থেকে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা। প্রতিবারের মতো এবারো মেলায় দর্শনার্থীদের প্রবেশের টিকিট মূল্য ধরা হয়েছে ২০ টাকা। তবে এই মেলায় এবার নতুন মাত্রায় যোগ হয়েছে র‌্যাফেল ড্র ও হাউজি খেলা।


অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই মেলায় লটারিতে পুরস্কার পাওয়ার লোভে পড়ে প্রতিদিন অন্তত এক লাখ টিকেট কিনছেন। এর ফলে আদায় হচ্ছে কমপক্ষে ২০ লাখ টাকা। কিন্তু পুরস্কার দেয়া হচ্ছে মাত্র ৪/৫ লাখ টাকার। আর এ লোভেই নগরীর সাধারণ মানুষগুলো হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন বাণিজ্য মেলার লটারির টিকিট কিনতে।

মেলায় অংশ নেয়া দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীরা জানান, হাউজি ও র‌্যাফেল ড্রয়ের কারণে দিনের বেলা মেলায় তেমন ক্রেতা আসছেন না। ফলে বেচা-বিক্রিও হচ্ছে না। রাতে হাউজি ও র‌্যাফেল ড্রতে অংশ নিতে যেসব লোক মেলায় আসছেন তারা কিছুই কিনছেন না। এতে  মেলার ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন।
 
এ ব্যাপারে বাণিজ্য মেলার আয়োজকদের মধ্যে অন্যতম রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মনিরুজ্জামান মনি জানান, নগরীর নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিদের সংগঠন বোয়ালিয়া ক্লাবের সার্বিক সহযোগিতায় হাউজি ও র্যাফেল ড্র চলছে। মেলাতে লোক সমাগম বাড়াতেই এইবার নতুন এই আয়োজন।

তবে এ বিষয়ে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান অভিযোগ করে জানান, পুলিশের মদদেই মেলাগুলোতে হাউজি ও জুয়ার আসর বসছে। এভাবে বেশীদিন চললে বিভিন্ন দিক থেকে পিছিয়ে পড়া রাজশাহী অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু হয়ে যাবে।

এই বিষয়ে আরএমপি`র উপপুলিশ কমিশনার (সদর) তানভির হায়দার চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জাগো নিউজকে জানান, মেলার ভেতরে যা হচ্ছে, সে ব্যাপারে মেলার আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ করাই ভালো। আর মেলাগুলোতে আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

শাহরিয়ার অনতু/এমজেড/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।