ছাদের ধস ঠেকাতে বাঁশের খুঁটি, তারই মাঝে চিকিৎসা!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৫:৪৭ এএম, ০৮ আগস্ট ২০১৭

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের পুরাতন ভবনে নিচ তলার ছাদ রক্ষায় বাঁশের খুঁটি লাগানো হয়েছে। আর উপরে ও নিচে দুই তলাতেই চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম। ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবনে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন রোগী, তাদের স্বজন, নার্স ও চিকিৎসকরা।

তবে গণপূর্ত বিভাগের দাবি- ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ নয়, সংস্কার করে ব্যবহার উপযোগী করা সম্ভব হবে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ৬ আগস্ট রোববার হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক কামরুল ইসলাম বেনু ভবনটি মেরামত ও সংস্কারের জন্য গণপূর্ত বিভাগকে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, হাসপাতালের পুরাতন সার্জারি ও মেডিসিন ওয়ার্ডের বারান্দার গ্রিলের উপরের বিমে ফাটল ধরেছে। গ্রিলের উপর চাপ পড়ায় বিমসহ গ্রিল ভেঙে যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের পুরাতন সার্জারি বিভাগের নিচতলার পূর্বপাশে বারান্দার ছাদের কিছু কিছু জায়গা ধসে পড়েছে ও অসংখ্য ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। সপ্তাহখানেক আগে ছাদের চাপে বারান্দার গ্রিল বেঁকে গেছে। নিচতলায় পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডের ছাদেও অসংখ্য ফাটল। প্লাস্টারে ধস রয়েছে। এ অবস্থায় শনিবার বিকেলে বারান্দার ছাদের সঙ্গে অন্তত ১০টি বাঁশের খুঁটি লাগানো হয়েছে। এরই মধ্যে নিচতলা ও উপর তলায় চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম।

ভবনটির দ্বিতীয় তলায় রয়েছে গাইনি ও মহিলা মেডিসিন বিভাগ। ৩০টির মত শয্যা থাকলেও এখানে রোগীর সংখ্যা ৭০’র উপরে। আর রোগীর স্বজনসহ সব মিলিয়ে দ্বিতীয় তলায় কয়েক’শ মানুষ অবস্থান করছেন। দ্বিতীয় তলার বারান্দায়ও শতাধিক মানুষের অবস্থান। ঠিক তার নিচেই বাঁশের খুঁটি দিয়ে ছাদ ধস ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। প্রতিদিন দ্বিতীয় তলার ব্যাপক মানুষের চাপ থাকে। নিচে বাঁশের খুঁটি দেয়া হলেও উপরে মানুষের ব্যাপক চাপ রয়েছে। এতে ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

দ্বিতীয় তলায় মেঝেতে অবস্থান নেয়া রোগী পলির স্বজন সাইফুল ইসলাম বলেন, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ, সেটি তো জানি না। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে এত রোগী ও স্বজনদের রাখা ঠিক হয়নি।

jossore2

দ্বিতীয়তলার মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের নার্স সুইট মল্লিক বলেন, এই ওয়ার্ডে শয্যা ১৪টি। কিন্তু ভর্তি আছে ৭৪ জন রোগী। এইসব রোগীর সঙ্গে ৪/৫জন করে স্বজন আছে। দ্বিতীয় তলায় কয়েকশ মানুষের আনাগোনা থাকে। প্রচণ্ড মানুষের চাপ। অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে আমরা দায়িত্ব পালন করছি।

নিচতলায় মোশাররফ হোসেন নামের এক রোগী বলেন, চিকিৎসা নিতে এসে মাথায় ছাদ ভেঙে পড়ার আতঙ্কে আছি। দ্রুত সমস্যা সমধান করা উচিত।

হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স রহিমা আক্তার জানান, ছাদে বাঁশের খুঁটি লাগানোর পর বেশি আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। রোগী-স্বজন সবাই আতঙ্ক নিয়ে অবস্থান করছেন। তিনি দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

আরেকজন নার্স তহমিনা পারভীন বলেন, বাঁশ দিয়ে ছাদ ধস ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বড় ধরণের দুর্ঘটনার আতঙ্ক নিয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। সবার মধ্যেই আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক কামরুল ইসলাম বেনু বলেন, ১৯৬০ সালে তৈরি ভবনটিতে ৫০টি শয্যা রয়েছে। সেখানে পুরুষ সার্জারি, মহিলা মেডিসিন ও গাইনি রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হয়। ২০০৪ সালে হাসপাতালটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। তখন ওই ভবনটি বাদে সবগুলো পুরাতন ভবন ভেঙে ফেলা হয়। ২০০৭ সালে ঝুঁকি দেখা দেয়ায় ভবনটি সংস্কার করা হয়। পরবর্তীতে আবারও সমস্যা দেখা দেয়ায় ২০১৩ সালে ফের সংস্কার করা হয়। সর্বশেষ গত ৩০ জুলাই ভবনের ছাদে ফাটল ও গ্রিল বাকা হওয়ার বিষয়টি নজরে আসে।

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে অবহিত করা হয়েছে। শনিবার নির্বাহী প্রকৌশলী ভবনটি পরিদর্শন করে বাঁশের খুঁটি দিয়ে গেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তবে এটি সংস্কার করতে হবে।

মিলন রহমান/আরএআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।