মুরগির খামারে অতিষ্ট এলাকাবাসী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজবাড়ী
প্রকাশিত: ০৫:৩৮ এএম, ১০ আগস্ট ২০১৭

ইটভাটা, কল-কারখানা, গরু-ছাগল কিংবা হাঁস-মুরগির ফার্ম এ জাতীয় প্রতিষ্ঠান তৈরিতে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা আছে। যেখানে এ ধরনের ফার্ম লোকালয় থেকে দূরে গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে এসব প্রতিষ্ঠান এখন লোকালয়ে গড়ে উঠছে। ফলে ওইসব এলাকার পরিবেশ মারাত্মক ভাবে দূষিত হচ্ছে। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে জনজীবন।

রাজবাড়ী জেলা সদরের মিজানপুর ইউনিয়নের বড়চর বেনীনগর এলাকার লোকালয়ে ইউনুছ ফকির নামে একজন গড়ে তুলেছেন এমনি একটি মুরগির খামার। খামারটিতে ৪টি, বাড়ির বাইরের আঙিনায় ৩টি ও বাড়ির ভেতরের আঙিনায় ১টি সেড রয়েছে। খামারটির চারপাশে প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি পরিবারের বসবাস। যথাযত নিয়মে খামার পরিচর্যা না করা ও মুরগির বিষ্টা নির্দিষ্ট স্থানে না ফেলে যত্রতত্র ফেলার কারণে ওই এলাকায় বসবাস করা দায় হয়ে পড়েছে। দুর্গন্ধে অতিষ্ট এলাকাবাসী জেলা প্রশাসকের কাছে এ থেকে মুক্তির জন্য একটি গণপিটিশনও পেশ করেছেন।

সরজমিনে দেখা যায়, খামার থেকে ওই এলাকার বসত বাড়ির দূরত্ব ১৫ গজ। আর ১৫০ গজের মধ্যে প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি পরিবারের বসবাস। এছাড়া খামারের মুরগির বিষ্টা ওইসব বসতবাড়ির মাঝে থাকা একটি ছোট গর্তে ফেলা হচ্ছে। যাতে ওই গর্তে মশা, মাছিসহ বিভিন্ন জীবানুর সৃষ্টি হচ্ছে এবং দুর্গন্ধে টিকতে পারছে না ওই এলাকার বাসিন্দারা। তাছাড়া মরা মুরগী প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ফেলা হয়েছে রাস্তার পাশের নালার পানিতে।

RAJBARI-FARM

ফার্মের আশপাশের বাসিন্দা ফরিদা বেগম, খাদিজা বেগম, মিলি বেগম, শিল্পি বেগম, চামিলি বেগম, সালমা বেগম, আব্দুল কুদ্দুস ফকির, আব্দুল শুকুর বলেন, মুরগির খামার ও তার বিষ্টার গন্ধে তাদের এখানে বসবাস করাই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। একটু বাতাস হলেই গন্ধে এ এলাকায় টিকতে পারেন না তারা।

খামারের মালিককে অনেক বার নিষেধ করা হয়েছে মুরগির বিষ্টা এখানে না ফেলতে কিন্তু তিনি কিছুই শোনেন না। বহুদিন ধরে তিনি এভাবে মুরগীর বিষ্টা ফেলে যাচ্ছেন। এগুলো বলতে গেলেই অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করেন খামার মালিক ইউনুছ। এ জন্য তারা এই গন্ধ থেকে বাঁচতে জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিফতরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

RAJBARI-FARM

মুরগীর খামারের মালিক ইউনুছ ফকির বলেন, নিয়ম মেনেই তিনি খামার করেছেন, এতে পরিবশ দূষণ হচ্ছে না। তাছাড়া তার জমিতে তিনি খামার করেছেন এবং মুরগির বিষ্টা তিনি তার জমিতে ফেলছেন। বিষ্টা যে গর্তে ফেলছেন তা ফেলার পর মাটি দিয়ে ঢেকে দেন। পরিবেশ দুষণের কারণে যদি কেউ অসুস্থ হয়ে থাকে তাহলে তারা মেডিকেল সার্টিফিকেট দেখাক, শুধু শুধু তারা মিথ্যা বলছে।

সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নুরুল্লাহ মো. আহ্সান বলেন, প্রাণি সম্পদ বিভাগ থেকে গবাদি পশু হাঁস-মুরগি খামারের রেজেস্ট্রেশন দেওয়া হয় এবং দেখা হয় সেগুলো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক কিনা। যদি কোনো খামার পরিবেশের জন্য হুমিক ও আশপাশের বসবাসরত জনগণের জন্য ক্ষতিকারক মনে হয় তাহলে তখন তার রেজিস্ট্রেশন সরকার বাতিল করতে পারে। এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে সরজমিনে তদন্ত করে ফার্মের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করাসহ বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

রুবেলুর রহমান/এফএ/আইআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।