মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে মামলা করতে বাধা দেয়ায় বাবার আত্মহত্যা
সাভারে মেয়ের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় মামলা করতে চেয়েছিলেন দরিদ্র ভ্যানচালক আমিন মোল্লা (৩৫)। কিন্তু পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা তাতে বাধ সাধে। এতে ক্ষোভে-দুঃখে আত্মহত্যা করেন তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে সাভারের তালবাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বুধবার সকালে ওই এলকার ভাড়া বাসা থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত আমিন মোল্লা মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় থানার জাফরগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে আমিন মোল্লা তার মেয়ে তৃষার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় মামলা করা নিয়ে স্ত্রী জোসনা, ভাই ভাসান, ছেলে তুষার মোল্লা ও শাশুড়ি নুর বানুর সঙ্গে কথা বলছিলেন।
একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে মতের অমিল ঘটলে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। তারা রাতেই আমিন মোল্লাকে শ্বশুরের বাসা থেকে বের করে দিলে ভাড়া বাসায় ফিরে যান তিনি।
সকালে আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় আমিন মোল্লার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন পরিবারের সদস্যরা।
সাভার মডেল থানা পুলিশের এসআই জহির বলেন, মেয়ে তৃষা হত্যার বিচার চেয়ে মামলা করার জন্য বাবা উদ্যোগ নিলে পারিবারিকভাবে নিষেধ করা হয়। সে কারণেই তিনি রাগে-ক্ষোভে আত্মহত্যা করতে পারেন।
জানতে চাইলে সাভার মডেল থানা পুলিশের ওসি মহসিনুল কাদের বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, তৃষার ময়নাতদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, উচ্চস্থান থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ মামলা করলে গ্রহণ করা হবে।
গত ২৩ এপ্রিল ওই ভ্যানচালকের শিশু কন্যা তৃষা আক্তার নিখোঁজ হয়। এর একদিন পর রেডিওকলোনী এলাকায় তার খালার বাড়ি থেকে তিশার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তৃষা স্থানীয় কলকাকলী স্কুলের ৫ম শেণির ছাত্রী ছিল।
এএম/জেআইএম