রাজশাহীর বাজারে উঠতে শুরু করেছে রসালো আম
আমের শহরখ্যাত রাজশাহীর বাজারে উঠতে শুরু করেছে আম। যদিও রসালো এই ফলে ফরমালিন ঠেকাতে জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা ছিলো আগামী ৫ জুনের আগে গাছ থেকে আম পারা যাবে না। কিন্তু, তীব্র তাপদাহে এবার আম একটু আগে পাকার কারণে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই রাজশাহীর বিভিন্ন বাজারে উঠতে শুরু করেছে আম।
প্রতি বছর এ অঞ্চলে প্রায় আড়ইশ জাতের আম উৎপন্ন হয়। তবে এবার গোপালভোগ, ক্ষিরসাপাত, ল্যাংড়া, বোম্বাই, হিমসাগর, ফজলি, আমরোপালি, আশ্বিনা, লক্ষণভোগ, কালীভোগ, তোতাপরী, দুধসর, লকনা, রাণীপছন্দ ও মোহনভোগ জাতের আম বেশি চাষ হয়েছে।
এ বছর মৌসুমের শুরুতেই প্রথম দিকে বাজারে উঠেছে গোপালভোগ, ক্ষিরসাপাত ও রানীপছন্দ আম। আর এক সপ্তাহের মধ্যেই বাজারে লখনা, ল্যাংড়া, লক্ষণভোগ, দুধসর, মোহনভোগসহ বিভিন্ন জাতের আম বাজারগুলোতে শোভা পাবে। এরপর চলতি মৌসুমের আকর্ষণীয় ফল ফজলি এবং সর্বশেষ বাজারে দেখা মিলবে আশ্বিনার।
বর্তমানে মহানগরী ও জেলার বাজারগুলোতে গোপালভোগ ও ক্ষিরসাপাত এই দুই ধরনের আম দেখা যাচ্ছে। তবে দাম বেশ চড়া। রাজশাহী জেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় পাইকারী আমের বাজার বসে পুঠিয়া থানাধীন বানেশ্বর বাজারে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে এ বাজারে নিয়ে আসে আম। শুধু তাই নয় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এ বাজারে আম কেনার জন্য আসে। প্রতি বছরের মতো এ বছরও ব্যবসায়ীরা বানেশ্বর বাজারে আমের পসরা সাজিয়েছে। তবে এ বছর আমের শুরুতেই বাজারগুলোতে দাম বেশ চড়া লক্ষ্য করা গেছে।
সরজমিনে দেখা গেছে, জেলার বানেশ্বরের ট্রাফিক মোড় থেকে শুরু হয়ে ৩ কি.মি. রাস্তা জুড়ে বসেছে বিশাল আমের বাজার। ব্যবসায়ীরা ভ্যানে ভ্যানে আমের টুকরি সাজিয়ে বসেছে। আর জেলা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে আগত ক্রেতা ও ব্যবসায়ী এ বাজারে এসেছে আম কেনার জন্য। তবে আমের শুরুতে দামটা বেশি হওয়ায় কেনাবেচা এখনো বেশ জমে উঠেনি।
এ বাজারের শরিফুল নামের এক পাইকারী আম ব্যবসায়ী জানায়, এ বছর মৌসুমের শুরুতেই কয়েক দফা কালবৈশাখী ও টানা তাপদাহে শেষ পর্যন্ত আমের আশানুরূপ ফলন পাওয়া যায়নি। আর গতবার জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রথমে বাজারে আম নামলেও এবার প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে এ বছর তা হয় নি। তবে, তীব্র গরমে আমের আকার ছোট হয়েছে, আর পাকছেও তাড়াতাড়ি। তাই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গাছের আম ভেঙে বাজারে নিয়ে আসা হয়েছে। এ বাজারে বিভিন্ন ধরনের গোপালভোগ পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা মণ দরে। আর রানীপছন্দ গোপালভোগের দামেই বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বানেশ্বর বাজারে অপর ব্যবসায়ী আরিফুল জানান, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আমের আমদানি দ্বিগুণ হবে। ওই সময় গোপালভোগ ও ক্ষিরসাপাত না থাকলেও অনেক জাতের আম নামবে। তবে এর চেয়ে আর বেশি দাম কমার সম্ভাবনা নেই।
এদিকে, নগরীর সাহেব বাজার, শালবাগান, কোর্ট বাজার ও লক্ষীপুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে আম ব্যবসায়ীরা আমের পসরা সাজিয়ে বসে আসে। তবে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে তেমন কোনো ভিন্নতা পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে নগরীর শালবাগান এলাকার নাদিম নামের এক আম ব্যবসায়ী জানান, গত বারের তুলনায় এ বছর আমের আমদানি অনেক কম। গোপালভোগসহ কয়েক প্রজাতির আম উঠেছে বাজারে। প্রতি কেজি আম বিক্রি হচ্ছে ৭০/৮০ টাকায়। সামনের সপ্তাহে আমের আমদানি বাড়লে দাম কিছুটা কমার সম্ভবনা আছে বলেও জানান তিনি।
আমের ফলন সম্পর্কে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক হযরত আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ বছর রাজশাহীতে আমের আবাদ হয়েছে ১৬ হাজার ৫১৯ হেক্টর জমিতে। কিন্তু, লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে গত বছরের উৎপাদনের অর্থাৎ ২ লাখ ৫৭ হাজার ৫৩১ মেট্রিক টন।
তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে আমের আশানুরূপ ফলন পাওয়া যাচ্ছে না। টানা তাপদাহে আমের ফলন ব্যহত হচ্ছে। অনেক গাছে আম পরিপক্ক না হতেই ঝরে গেছে অথবা ফেটে গেছে। আবার আম যেভাবে বড় হওয়ার দরকার সেভাবে না হয়ে আকারেও অনেক ছোট হয়েছে। এরপরও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হতে পারে বলে জানান তিনি।
এসএস/এমএস/ এমএএস