তিস্তার চরে মিষ্টি কুমড়ার বাম্পার ফলন


প্রকাশিত: ০৬:৫৪ এএম, ০৪ জুন ২০১৫

নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদীর ধু ধু বালুচরে মিষ্টি কুমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে মিষ্টি কুমড়ার ভাল দাম ও ব্যাপক চাহিদা থাকায় চাষিদের মুখে ফুটেছে হাসি। এমনকি ক্ষেত থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানের ব্যবসায়ীরা ট্রাকে করে নিয়ে যাচ্ছে মিষ্টি কুমড়া।

সরেজমিনে দেখা যায়, তিস্তার বালুচরে যেখানে কোন ফসল স্বাভাবিকভাবে ফলানো সম্ভব হত না সেই চরে মিষ্টি কুমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে।

জানা যায়, ২০০৮ সাল থেকে বেসরকারি এনজিও ঝানজিরা সমাজ কল্যাণ সংস্থা (জেএসকেএস) তিস্তার পাড়ের হতদরিদ্রদের ভাগ্যের উন্নয়নে কাজ করে আসছে। তারা তিস্তার ভাঙ্গনে সর্বশান্ত  নর-নারীদের নিয়ে প্যাকটিক্যাল এ্যাকশন বাংলাদেশের সহযোগিতায় ও পিএফপি-সিঁড়ি প্রকল্পরি অধীনে ডিমলা উপজেলার নদীভাঙ্গা ৭ টি ইউনিয়নে ও জলঢাকা উপজেলার ৪ টি ইউনিয়নের ৩৩০ জন অতিদরিদ্র নারীকে নিয়ে ৭৬ একর বালুচরে ৩৩ হাজার ৩শ পিটে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করা হয়।

তিস্তার বালুতে মিষ্টি কুমড়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭শ মেট্রিক টন। মিষ্টি কুমড়া বীজ বপনের ৪ মাসের মাথায় প্রতিটি গাছে ৪-৫ টি পরিপক্ক ফল সুবিধাভোগীরা পেয়েছে। স্থানীয় বাজারে ১৫ কেজি ওজনের প্রতিটি মিষ্টি কুমড়ার দাম ৭৫ টাকা। তিস্তার বালুতে মিষ্টি কুমড়ার ওজন হয়েছে ১৫-২০ কেজি পর্যন্ত।

ঝানজিরা সমাজ কল্যাণ সংস্থার ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর শাখাওয়াত হোসেন জাগো নিউজকে জানায়, তিস্তার বালুর মিষ্টি কুমড়া হতদরিদ্রদের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে। হতদরিদ্র সুবিধাভোগীরা নিজের পুষ্টির চাহিদা পূরন করে বাজারে বিক্রি করে ব্যাপক লাভবান হবে।

ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর এস মোরশেদ জানায়, উপকারভোগীদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ, সার, কীটনাশক ও সেচের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

উত্তর খড়িবাড়ী গ্রামের শিল্পী আক্তার (২৫) জানায়, তিস্তার বালুতে মিষ্টি কুমড়ার সোনা ফলবে আগে বুঝতে পারেনি। তিনি ২০০টি মিষ্টি কুমড়ার গাছ লাগিয়ে ৪৫০টি মিষ্টি কুমড়ার ফলন পেয়েছে।

একই গ্রামের আমেনা বেগম (৩০) জানায়, বালুতে পানি ও সার দেয়ার কারণে প্রতিটি মিষ্টি কুমড়ার ওজন হয়েছে ১০-১৫ কেজি।

জহুরা বেগম (২৬) জানায়, বালুতে আগে কিছুই আবাদ করতে পারিনি। মিষ্টি কুমড়া চাষের কারণে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।

টেপা খড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন জাগো নিউজকে জানায়, মিষ্টি কুমড়ার ব্যাপক ফলন ও বাজারে প্রচুর চাহিদা হতদরিদ্রদের ভাগ্যের উন্নয়নের পাশাপাশি স্বাবলম্বী করে তুলেছে।

ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জাগো নিউজকে জানায়, তিস্তার বালুতে মিষ্টি কুমড়ার ভাল ফলন হয়েছে। তিনি চরাঞ্চলের নদী ভাঙ্গনে নিঃস্ব হতদরিদ্রের উন্নয়ন করতে মিষ্টি কুমড়া বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

নীলফামারী কৃষি অধিদফতরের উপ-পরিচালক (শষ্য) আফতাব হোসেন জাগো নিউজকে জানায়, তিস্তার ধু-ধু বালুতে কোন সফল ফলানো সম্ভব। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন এনজিও দুর্গম চরে কাজ করায় চরের বালুতে মিষ্টি কুমড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সবজির বাম্পার ফলন হচ্ছে।

এসএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।