বঙ্গবন্ধু সেতু রক্ষা গাইড বাঁধে ফের ভাঙন
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব প্রান্তের দক্ষিণে গড়িলাবাড়িতে সেতু রক্ষা গাইড বাঁধে বুধবার ভোর থেকে তৃতীয় দফায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার যমুনা নদীর তীরবর্তী কয়েকটি গ্রামের অর্ধশত ঘর-বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন প্রতিরোধে কাজ করছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ) বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব সাইট অফিস কর্তৃপক্ষ।
বঙ্গবন্ধু সেতু ঘেঁষেই যমুনা নদীতে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও সেতু কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই এই ভাঙন সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
সরেজমিনে বঙ্গবন্ধু সেতুর দক্ষিণে ভাঙন কবলিত গড়িলাবাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বুধবার ভোর থেকে শুরু হওয়া ভাঙনে সেতু রক্ষা বাঁধের ২০০ মিটার নদী গর্ভে চলে গেছে। সেই সঙ্গে গড়িলাবাড়ি, বিনোদ লুহুরিয়াসহ কয়েকটি গ্রামে কমপক্ষে অর্ধশত ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের খবর শুনেই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন কালিহাতী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজহারুল ইসলাম তালুকদার ঠাণ্ডু ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু নাসার উদ্দিন প্রমুখ।
ভাঙন অব্যাহত থাকায় হুমকির মধ্যে রয়েছে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৃহৎ স্থাপনা বঙ্গবন্ধু সেতু। ভাঙনের শিকার লোকজন জানান, যমুনা নদীতে দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে গোহালিয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হযরত আলী তালুকদার ও গোহালিয়াবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদসহ স্থানীয় প্রভাবশালীরা। আর এই কারণেই শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙন। এছাড়া ভাঙনরোধে বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব সাইট অফিসের কর্মকর্তারা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
বাঁধটি দ্রুত মেরামত করা না গেলে একদিকে যেমন বঙ্গবন্ধু সেতু বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হবে। অন্যদিকে আশপাশের ৭ থেকে ৮টি গ্রাম নদী গর্ভে একেবারেই বিলীন হয়ে যাবে।
ভাঙনের শিকার গড়িলাবাড়ি গ্রামের হাফিজুর রহমান বলেন, বুধবার ভোর থেকে ভাঙনে আমাদের এলাকার চাঁন মিয়া শিকদার, আবুল হোসেন দোকানদার, কোরবান আলী, বক্কার আলী, আবুল হোসেন মন্ডল, আকবর আলী, আব্দুল হাই, শাহাদত হোসেনসহ আরও বহু মানুষের বাড়িঘর নদী গর্ভে চলে গেছে। আমরা ঘরবাড়ি সরানোর সময়টুকু পাই নাই। সব কিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছি।
বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব সাইট অফিসের সহকারী প্রকৌশলী মো. ওয়াশিম আলী বলেন, এই ভাঙন মূল সেতুর বাইরে। ভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙনরোধ করার চেষ্টা চলছে। বঙ্গবন্ধু সেতু ঘেঁষেই যমুনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্তার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু নাসার উদ্দিন যমুনা নদীতে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধে বুধবার দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছেন। তিনি জানান, ড্রেজারে থাকা চারজন শ্রমিককে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ২লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এরা হলেন- কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুরের বাবুল হোসেনের ছেলে রকিবুল ইসলাম, ফরিদপুরের আমির হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার ওসমান গনির ছেলে কাজল মিয়া ও নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মৃত আহসান আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন। বালু উত্তোলনের মূল হোতা গোহালিয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা হযরত আলীকে পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, ২০০৩ সালে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব কালিহাতী উপজেলার গড়িলাবাড়ি এলাকায় সেতুর দক্ষিণে গাইড বাঁধে সেতু রক্ষার্থে যমুনা নদীতে ব্লক ও কার্পেটিং করে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ)। বাঁধ তৈরির মাত্র ১৪ বছর পরেই বিবিএ কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে সেতুর গাইড বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে।
আরিফ উর রহমান টগর/আরএআর/এমএস