পায়ের নিচে ফেলে ছাত্রকে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি গাজীপুর
প্রকাশিত: ০৩:৫৫ পিএম, ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৭

গাজীপুরে পায়ের নিচে ফেলে এক মাদরাসাছাত্রকে নির্যাতনের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় ওই ছাত্রের মা শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

বৃহস্পতিবার শিশুটির মা বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় এ মামলা করেন। জয়দেবপুরের পূবাইল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ মামলার আসামিরা হলেন- পূবাইল রহমানিয়া এতিমখানা মাদরাসার শিক্ষক আমজাদ হোসেন (৪২) ও তার সহযোগী বাছির উদ্দিন (৪১)। এছাড়া আজ্ঞাত পরিচয় আরও ২/৩ জনকে আসামি করা হয়।

পুলিশ জানায়, নির্যাতনের শিকার তাওহীদুল ইসলাম ওরফে শোয়েব মোল্লা পূবাইল রহমানিয়া এতিমখানা মাদরাসার ছাত্র।

মামলার বরাত দিয়ে পূবাইল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. রফিকুল ইসলাম জানান, পূবাইলের নয়ানিপাড়া এলাকার পূবাইল রহমানিয়া এতিমখানা মাদরাসার ছাত্র তাওহীদুল ইসলাম ওরফে শোয়েব মোল্লাকে তার মা মঞ্জুরা বেগম গত শুক্রবার (২৫ অগাস্ট) বিকেলে এতিমখানার হোস্টেলে দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন।

কিন্তু শোয়েব মাদরাসায় থাকতে রাজি হচ্ছিল না এবং মার সঙ্গে বাড়ি চলে যেতে পেছনে পেছনে ছুটতে থাকে। বিষয়টি মাদরাসা শিক্ষক আমজাদ হোসেন দেখে শোয়েবকে টেনেহিঁচড়ে পা দিয়ে পিষে নির্যাতন শুরু করেন। এ কাজে তাকে তার বন্ধু বাছির উদ্দিন সহযোগিতা করেন।

এ সময় এলাকার এক যুবক ঘটনাটির ভিডিও চিত্র ধারণ করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ তদন্ত করতে ঘটনাস্থলে যায়। পরে শিশুটির মা থানায় মামলা করেন।

স্থানীয়রা জানায়, এ ঘটনার দুইদিন পর থেকে মাদরাসাটি বন্ধ রয়েছে। শুক্রবার সকালে সরেজমিনেও মাদরাসার মূল ফটক ও হোস্টেলেও তালা ঝুলতে দেখা গেছে।

জানতে চাইলে শোয়েবের মা মঞ্জুরা বেগম বলেন, চার ছেলে দুই মেয়ের মধ্যে শোয়েব হলো সবার ছোট। শোয়েব আগে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত লেখাপড়া করলেও তাকে কোরআনে হাফেজ বানানো ইচ্ছা তার।

তিনি বলেন, দুই মাস আগে তাকে স্কুল থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে দুই হাজার মাসিক খরচ দিয়ে ওই এতিমখানার হোস্টেলে ভর্তি করিয়ে দিই।

গত ২৪ অগাস্ট রাতে শোয়েবকে এতিমখানা থেকে একদিনের ছুটিতে বাড়ি নিয়ে আসি। ছুটি শেষে পরদিন বিকেলে তাকে এতিমখানায় রেখে আসার পর সেখান থেকে বাড়ি চলে আসতে চাইলে শিক্ষক আমজাদ হোসেন আমার শিশু ছেলেকে মাটিতে ফেলে পা দিয়ে চেপে পিষতে থাকেন এবং চড়-থাপ্পর মারতে থাকেন।

একপর্যায়ে শিক্ষকের হাত থেকে ছুটে পালাতে গেলে বাছির উদ্দিন তাকে ধরে নিয়ে টেনেহিঁচড়ে আবার ওই শিক্ষকের হাতে তুলে দেন।

এ সময় তার কান্নাকাটি শুনে এলাকাবাসী এগিয়ে গেলে তারা শোয়েবকে ছেড়ে দেন। শিক্ষক তার ছাত্রদের শাসন করলেও এমন নির্যাতনকে তিনি সমর্থন করেন না বলে জানান।

এ ঘটনার পর থেকে শিক্ষক আমজাদ হোসেন ও তার সহযোগী বাছির উদ্দিন পলাতক রয়েছেন এবং তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।

মো. আমিনুল ইসলাম/এএম/পিআর