বঙ্গবন্ধু সেতুর গাইড বাঁধে ৪র্থ দফায় ভাঙন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ০৮:০২ এএম, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব প্রান্তের দক্ষিণে গড়িলাবাড়িতে সেতুর গাইড বাঁধে শনিবার রাত থেকে রোববার পর্যন্ত ৪ দফায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এতে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার যমুনা নদীর তীরবর্তী গ্রামের ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে। ভাঙন প্রতিরোধে কাজ করছে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব সাইট অফিস কর্তৃপক্ষ।

বঙ্গবন্ধু সেতু ঘেঁষেই যমুনা নদীতে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও সেতু কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই এই ভাঙন হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

বঙ্গবন্ধু সেতুর দক্ষিণে ভাঙন কবলিত গড়িলাবাড়িতে শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া ভাঙনে সেতুর বাঁধের নতুন করে ১শ মিটার নদী গর্ভে চলে গেছে। সেই সঙ্গে গড়িলাবাড়ি, বিনোদ লুহুরিয়াসহ কয়েকটি গ্রামে ঘরবাড়ি আস্তে আস্তে নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে। এর আগে ৩ দফায় ভাঙনে সেতুর ২০০ মিটার রক্ষা বাঁধ এবং শতাধিক বাড়িঘর ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।ভাঙন অব্যাহত থাকায় হুমকির মধ্যে রয়েছে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৃহৎ স্থাপনা বঙ্গবন্ধু সেতু।

স্থানীয়রা জানান, যমুনা নদীতে দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে গোহালিয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হযরত আলী তালুকদার ও গোহালিয়াবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সুলতান মাহমুদসহ স্থানীয় প্রভাবশালীরা। আর এই কারণেই শুরু হয়েছে এ তীব্র ভাঙন। এছাড়া ভাঙন রোধে বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব সাইট অফিসের কর্মকর্তারা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

বাঁধটি দ্রুত মেরামত করা না গেলে একদিকে যেমন বঙ্গবন্ধু সেতু বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হবে। অন্যদিকে আশপাশের ৭ থেকে ৮টি গ্রাম নদী গর্ভে একেবারেই বিলীন হয়ে যাবে। এ নিয়ে আতঙ্কিত এলাকার সাধারণ মানুষ।

বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব সাইট অফিসের সহকারী প্রকৌশলী মো. ওয়াশিম আলী বলেন, এই ভাঙন মূল সেতুর বাইরে। জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করার চেষ্টা চলছে। বঙ্গবন্ধু সেতু ঘেঁষেই যমুনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তিনি।

জানা গেছে, ২০০৩ সালে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব কালিহাতী উপজেলার গড়িলাবাড়ি এলাকায় সেতুর দক্ষিণে গাইড বাঁধে সেতু রক্ষার্থে যমুনা নদীতে ব্লক ও কার্পেটিং করে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ)। বাঁধ তৈরির মাত্র ১৪ বছর পরেই বিবিএ কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে সেতুর গাইড বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে।

আরিফ উর রহমান টগর/আরএআর/পিআর