ডিবি পুলিশের সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ১৪
দিনাজপুর সদর উপজেলার রামসাগর হাজি দিঘীর মোড়ে ডিবি পুলিশের সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কমপক্ষে পুলিশসহ ১৪ জন আহত হয়েছেন।
রোববার বিকেল ৫টার দিকে দিনাজপুর সদরের মহব্বতপুর হাজির মোড় এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এলাকাবাসী সড়ক অবরোধসহ বিক্ষোভ করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিকেল ৫টায় দিনাজপুর সদরের মহব্বতপুর গ্রামে ডিবি পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযান চালায়। এ সময় গ্রামের তসলিম উদ্দীনের ছেলে নুরুজ্জামান মাঠে মহিষ চরাচ্ছিলেন।
ডিবি পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে গাড়িতে উঠতে বলে। গাড়িতে উঠতে দ্বিমত করলে ডিবি পুলিশ এ নিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে বাক-বিতণ্ডায় জড়ায়।
একপর্যায়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে ডিবি পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে সন্ধ্যায় পুনরায় ডিবি পুলিশ আরও ফোর্স নিয়ে গিয়ে এলাকাবাসীর উপর হামলা চালায়।

এতে এলাকাবাসী লাঠিসোটা নিয়ে ডিবি পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এই সংঘর্ষে নারী পুরুষসহ ১০ জন এলাকাবাসী ও ৪ জন ডিবি পুলিশ আহত হয়েছেন। পরে সেখান থেকে পুলিশ আবারও পালিয়ে যায়।
এই ঘটনার প্রতিবাদে এলাকাবাসী মহব্বতপুর হাজির মোড় এলাকায় গাছের গুঁড়ি ফেলে রাস্তা অবরোধ করে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এলাকাবাসী রাস্তা অবরোধ করে রেখেছে।
সদর উপজেলার ৬ নং আউলিয়াপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এই ঘটনায় পুলিশসহ ১৪ জন আহত হয়েছেন।
এই সংঘর্ষে পুলিশ আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ্জামান আশরাফ বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।
এলাকাবাসীর দাবি, মাদকবিরোধী অভিযানের নামে গ্রামের নারী-পুরুষকে প্রায় এসে মারধর করে ডিবি পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় গ্রামের সবাই আজ রাস্তায় এসে তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেছে।
এ ব্যাপারে জানতে ডিবি পুলিশের ওসি মনিরুজ্জামানের ফোনে একাধিকবার কল দিয়েও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফোনে রিং হলে বার বার ফোন কেটে দেন তিনি।
এমদাদুল হক মিলন/এএম/জেআইএম