সন্তান বিক্রি করে থানায় অভিযোগ, ফেঁসে গেলেন মা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৮:৪০ পিএম, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭
সন্তান বিক্রি করে থানায় অভিযোগ, ফেঁসে গেলেন মা

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় জন্মের দুই মাসের মাথায় অভাব-অনটনের কারণে নিজের সন্তান বিক্রি করে দেয়ার পর থানায় শিশু চুরির অভিযোগ করতে গিয়ে ফেঁসে গেলেন মেহেরুন নেছা নামের এক মা।

নিজের সন্তান বিক্রি করে কৌশলগত কারণে শিশু চুরির অভিযোগ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে পুলিশের মধ্যস্থতায় উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়।

বুধবার দুপুরে মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী এলাকা থেকে শিশুকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় গৃহবধূ সোনিয়াকে আটক করার পর আসল ঘটনা বেরিয়ে আসে।

জানা গেছে, ফতুল্লার দেলপাড়া এলাকার সুজনের স্ত্রী গার্মেন্ট শ্রমিক মেহেরুন নেছা গত তিন মাস আগে বাচ্চা ডেলিভারির জন্য ঢাকার ডেলটা হাসপাতালে ভর্তি হয়।

একই সমস্যায় ওই হাসপাতালে ভর্তি হয় মুন্সিগঞ্জ টঙ্গিবাড়ীর মীর হোসেন বেপারীর স্ত্রী রহিমা বেগম। হাসপাতালে থাকা অবস্থায় তাদের মধ্যে একটি সু-সম্পর্ক গড়ে উঠে।

হাসপাতালে রহিমা বেগমের বাচ্চা প্রসব হওয়ার পর মারা যায়। আর মেহেরুন নেছার একটি ছেলে সন্তান জন্ম হয়। কিন্তু স্বামী কোনো কাজ না করার ফলে তাদের সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকে।

যার কারণে সন্তান হওয়ার পরও অভাবের কারণে নিজের সন্তানের প্রতি মায়া ত্যাগ করে রহিমা বেগমের ভাগনি সোনিয়ার মাধ্যমে ৩৫ হাজার টাকার বিনিময়ে রহিমার কাছে সন্তান বিক্রি করে দেন।

এ সময় তারা একটি স্ট্যাম্পের মাধ্যমে লিখিত করে নেয়। তার পর রহিমা বাচ্চার নাম রাখেন আলিফ। বাচ্চা বিক্রির এক মাস পর মেহেরুন নেছা মঙ্গলবার শিশু চুরি অভিযোগ এনে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ বুধবার মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী এলাকা হতে শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং সোনিয়াকে আটক করে। পরে উভয়ের কথা শুনে ফেঁসে যান অভিযোগকারী মেহেরুন নেছা।

ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান জানান, মেহেরুন নেছার শিশু চুরির অভিযোগ দায়েরের প্রেক্ষিতে মুন্সিগঞ্জ হতে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয় এবং সোনিয়া নামে এক নারীকে আটক করা হয়।

পরে উভয় পক্ষের কথা শুনে জানা গেছে মূল ঘটনা হচ্ছে অভাব-অনটনের কারণে মেহেরুন নেছা তার সন্তানকে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছিল। পরে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় শিশু চুরির অভিযোগ করা হয়। উভয় পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়া হয় বলে জানান ওসি।

মো. শাহাদাত হোসেন/এএম/এমএস