নিষ্ক্রিয় চাঁদপুর অনলাইন ইলিশ বাজার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি চাঁদপুর
প্রকাশিত: ১০:৪৬ এএম, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭
নিষ্ক্রিয় চাঁদপুর অনলাইন ইলিশ বাজার

দেশের প্রথম ব্র্যান্ডিং জেলা ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরে প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল অনলাইন ইলিশ বাজার। চাঁদপুরবাসীসহ দেশ ও বিদেশের ইলিশপ্রিয় মানুষদের চাহিদা পূরণের কথাটি মাথায় রেখেই চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছঘাট এলাকায় অনলাইন ইলিশ বাজার কার্যক্রম চালু করা হয়। কিন্তু প্রচার-প্রচারণা, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও দক্ষ জনবল দ্বারা অনলাইন মাধ্যমটি ব্যবহার না হওয়ায় এটি এখন নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে।

জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন গুগলে সার্চ দিলে দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা ইলিশ বাজারের নাম থাকলেও নেই চাঁদপুর অনলাইন ইলিশ বাজারের নাম। দক্ষ পরিচালক ও ওয়েব এসইও না থাকায় এ সাইটটির অস্তিত্ব কোনো সার্চ ইঞ্জিনে পাওয়া যায় না। সাইটটি অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠানটির সাইনবোর্ডেও কোনো লিংক/ওয়েব ঠিকানা নেই।

এছাড়া অনলাইন দুনিয়ার কোথাও এ সাইটের বিজ্ঞাপন নেই। এতে ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরের বাসিন্দারাও জানেন না এর ওয়েবসাইট ঠিকানা কোনটি।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দেশের প্রথম অনলাইন ইলিশ বাজার হিসেবে এটি স্থাপন হলেও প্রশাসনিক, সামাজিকসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতার অভাবে এটি সফলতার মুখ দেখছে না।

ব্র্যান্ডিং জেলার অংশ হিসেবে বর্তমান জেলা প্রশাসক আব্দুস সবুর মন্ডলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০১৬ সালের ২৩ নভেম্বর জাকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্যে দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) এনএম জিয়াউল এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. রুহুল আমীনসহ চট্টগ্রাম বিভাগের ৮ জেলার জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতে এই অনলাইন ইলিশ বাজারটি উদ্বোধন করা হয়েছিল।

চাঁদপুরের অনলাইন ইলিশ বাজার থেকে দেশ এবং দেশের বাইরের ক্রেতারা অনলাইনের মাধ্যমে ইলিশ কিনতে পারবেন এমনটাই কথা ছিল সেসময়। এখানে যেসব মাছ থাকবে তার সবগুলোর দাম নির্ধারণ করা থাকবে। এ বাজারে চাঁদপুরের বিভিন্ন প্রজাতির মাছও বিক্রি করা হবে। ক্রেতরা দেশে কিংবা দেশের বাইরে থেকে অনলাইনের মাধ্যেমে মাছ বুকিং দিতে পারবেন। তাদের সেই পছন্দের মাছ খুব সহজেই ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে।

আরও প্রতিশ্রুতি ছিল চাঁদপুরে ইলিশ নিষিদ্ধ সময়ে অনলাইন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। যখন নিষিদ্ধ সময় শেষ হবে তখন থেকে আবার অনলাইনে মাছ বিক্রির কার্যক্রম শুরু হবে। এতসব প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে তখন এটি চালু করা হলেও বর্তমানে এর বাস্তবয়ন অনেকাংশেই নেই।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় চাঁদপুর মাছঘাটে ইলিশের রমরমা আমাদানি ও বেচাকেনা। দাম মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের নাগালে থাকায় উপচে পড়া ভিড় থাকলেও ঝিমিয়ে আছে অনলাইন ইলিশ বাজার।

jagonews24

মাছঘাটের পাশেই থাকা এ প্রতিষ্ঠানটিতে গিয়ে দেখা যায়, একটি ডেস্কটপ কম্পিউটার বন্ধ অবস্থায় পড়ে আছে, নেই কোনো অপারেটর। পাশে বসে আছেন পাঁচজন পরিচালকের মধ্যে একজন ইদ্রিস আলী খান।

তিনি অনলাইন ইলিশ বাজারের কার্যক্রম সম্পর্কে জাগো নিউজকে বলেন, বর্তমানে ইলিশ বেচাকেনা ও অনলাইন ইলিশ বাজারের কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে, দেশ ছাড়াও বিদেশ থেকে চাঁদপুরের ইলিশের জন্য অনেকের ফোন পেয়ে থাকি, কিন্তু সরকারিভাবে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ রফতানি বন্ধ থাকায় আমরা ওর্ডার নিতে পারছি না। যদি সরকারিভাবে ইলিশ রফতানির ব্যবস্থা চালু করা হয়, তাহলে চাঁদপুরের রূপালি ইলিশের চাহিদা ব্যাপক বাড়বে এবং অনলাইন ইলিশ বাজারের উদ্দেশ্যও সফল হবে।

এছাড়া স্থানীয় সরকারি-বেসরকারি প্রশাসনসহ সচেতন মহল যদি অনলাইনের মাধ্যমে তাদের সখের ইলিশ মাছের অর্ডার দিতেন তাহলে এই ডিজিটাল পদ্ধতির প্রচারসহ এর প্রসারও ঘটতো।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে ইলিশের ভরা মৌসুম চলছে। এই ইলিশের ভরা মৌসুমে প্রতিদিন প্রায় ১শ মণ ইলিশ বিক্রির টার্গেট ছিল আমাদের। কিন্তু অনলাইন বাজারটির প্রচার-প্রচারণার অভাবে এখন ২০-২৫ কেজি মাছ বিক্রি করা কষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে আমাদের টার্গেট পূরণ আদৌ সম্ভব নয়।

ভরা মৌসুমে অনলাইনের মাধ্যমে পর্যাপ্ত পরিমাণ মাছ বিক্রি না হওয়ায় আড়াই থেকে তিন মণ মাছ ফ্রিজিং অবস্থায় স্টকে পড়ে রয়েছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অনলাইন ব্যবহারকারী সচেতন ব্যক্তি যারা আছেন তারা প্রতিদিন যে পরিমাণ ইলিশ আড়ৎ ও অন্যান্য খুচরা বাজার থেকে ক্রয় করেন, সেই পরিমাণ ইলিশ যদি আমাদের অনলাইনের মাধ্যমে ক্রয় করতেন তাহলে আমাদের এ সেবাটি সার্থক হতো এবং অনলাইন ইলিশ বাজারের প্রচারণাও বাড়তো।

অনলাইন ইলিশ বাজারে ৭শ থেকে সাড়ে ৯শ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫শ থেকে ৬শ টাকা কেজি দরে। এর মধ্যে ১ কেজি ওজনের একটি ইলিশ ১১শ টাকা কেজি তার উপরের সাইজ বিক্রি হচ্ছে ১২শ থেকে ১৪শ টাকায়।

তবে অনলাইন ইলিশ বাজার থেকে বর্তমানে বিক্রি হওয়া মাছের প্রক্রিয়াকরণে বরফ, ককশিটে প্যাকিং ও পরিবহন ব্যয় ক্রেতাকেই বহন করতে হয়।

সচেতন মহলসহ সকলের দাবি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি অনলাইন ইলিশ বাজারটি দক্ষ জনবল দিয়ে পরিচালনা না করেন তাহলে ব্র্যান্ডিং জেলার এ বাজার মুখ থুবড়ে পড়বে।

ইকরাম চৌধুরী/এফএ/আরআইপি