৮৭ বছর বয়সী বিবিজান আজ অসহায়
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কসাইপাড়া গ্রামের বিবিজানের জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী জন্ম ১৯৩০ সালে। বর্তমানে তার বয়স ৮৭ বছর। স্থানীয়রা জানিয়েছে, বাস্তবে তার বয়স আরও বেশি। ঠিক কত বছর পূর্বে যে তার স্বামী মারা গেছেন সে হিসাব তার মনে নেই। তবে অনুমান করে বলতে পারেন, প্রায় ২০ বছর আগে অসুস্থতায় তার স্বামী মারা গেছেন।
স্বামী মারা যাওয়ার পর এক মেয়ে ও এক মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলে নিয়ে বিবিজান মানুষের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। কখনও ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এরই মধ্যে মেয়েকে বিয়ে দেন এক রিকশাচালকের সঙ্গে।
এরপর থেকে পার্শ্ববর্তী কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়ীয়া গ্রামে অন্যের জমিতে মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন শুরু করেন। এরই মধ্যে ছেলেকেও বিয়ে করান। কিন্তু পুত্রবধূর নির্যাতনে বাড়িছাড়া হতে হয় তাকে। একপর্যায়ে তার হতদরিদ্র ভাইয়ের বাড়িতে এসে আশ্রয় নেন বিবিজান। ভাইয়ের বড় সংসারে এক প্রকার আশ্রিতার মতো বসবাস করতে হচ্ছে তাকে। নিজেও ভুগছেন বার্ধক্যজনিত রোগে। বয়সের ভারে কর্মশক্তি হারানো অনেকটা অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে এই বৃদ্ধার। প্রতিদিন অন্যের হাতের দিকে চেয়ে থাকতে হয় তাকে। এক বেলা খাবার জুটলেও দু’বেলা না খেয়ে থাকতে হয়। ঈদের মতো বড় উৎসবে তার খোঁজ নেয়ার কেউ নেই। অথচ এখনও তার কপালে জোটেনি বয়স্ক ভাতা কিংবা বিধবা ভাতার কার্ড। বেঁচে থাকার জন্য তিনি একটি কার্ড চান।

গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্যদের কাছে অনেকবার ধরনা দিয়েছেন একটি বয়স্ক কিংবা বিধবা ভাতার কার্ডের জন্য। কিন্তু তিনি তা পাননি। বরং নানা আশ্বাসে তাকে বার বার ঘুড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
সরেজমিনের বৃদ্ধার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তাবিহীন ভাইয়ের বাড়ির পেছনে ধান খেত ও একটি ছোট জলাশয়ের পাশে একটি টিন ছাপড়ায় তার বসবাস। বিদ্যুৎবিহীন ঘরের মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে জগ, থালা-বাসন। একটি চুলা থাকলেও দীর্ঘদিন চুলোয় যে আগুন ধরেনি, তা দেখলেই বোঝা যায়। আসবাব বলতে রয়েছে একটি কাঠের চৌকি আর এক কোণে রয়েছে কিছু খড়ি। ঘরের ভেতরেই গজে উঠছে বিভিন্ন ধরনের আগাছা। একরকম বসবাসের অযোগ্য ঘরেই চলছে বিবি জানের বসবাস।
গাজীপুর ইউপির ৭নং ওয়ার্ড সদস্য মেহেদী হাসান সালাম বলেন, এজন্য কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন নি। তবে যোগাযোগ করলে অবশ্যই ভাতার কার্ডের ব্যবস্থা করে দেব।
এ ব্যাপারে শ্রীপুর উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মনজুরুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে যে তালিকা পাঠানো হয় তার ভিত্তিতেই আমরা কার্ড সরবরাহ করে থাকি। এর বাইরেও বয়স্ক ভাতা বা বিধবা ভাতার কার্ড পাওয়ার যোগ্য কেউ থাকে তাহলে আমি ব্যবস্থা করে দেব।
আমিনুল ইসলাম/এমএএস/এমএস