এক হাজার হাতের দুর্গা
নোয়াখালীতে এবারও শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে চলছে ব্যাপক আয়োজন। তবে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্য কেন্দ্র চৌমুহনীতে এবারেও দেশ সেরা ও ব্যয়বহুল পূজার আয়োজনে ব্যস্ত মণ্ডপগুলো। আর কয়েকদিন পরই প্রতিমাগুলোকে নির্দিষ্ট মণ্ডপে নিয়ে যাওয়া হবে। তাই শেষ মুহূ্র্তে প্রতিমার কারিগরগণ এখন দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন। পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ব্যয়বহুল ও দৃষ্টিনন্দনভাবে তৈরি করা হচ্ছে মণ্ডপের কাজ।
নোয়াখালীর ৯ উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রতিমা তৈরি করা হয় চৌমুহনীতে। যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো থাকার কারণে প্রতি বছর চৌমুহনীর শ্রী শ্রী রাধামাধব জিউর মন্দির ও শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর আশ্রমে চলে বেশির ভাগ মণ্ডপের প্রতিমা তৈরির কাজ। প্রায় এক থেকে দেড় মাস ধরে নীরবে চলে এখানে প্রতিমা কারিগরদের নিপুন হাতের ছোঁয়ায় বিভিন্ন দেব-দেবির অবয়ব তৈরি। খড়, বাঁশ মাটিসহ বিভিন্ন সামগ্রী দিয়ে তৈরি হয় একেকটি প্রতিমা। প্রায় সবকটি প্রতিমার মূল অবয়ব তৈরি শেষ। এখন চলছে প্রথম ধাপের রঙের কাজ
সরেজমিনে গিয়ে দেয়া যায়, মণ্ডপগুলোতে সমসাময়িক সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা, দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক নানা পূরাকীর্তি, মন্দিরসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক পটভূমির আদলে মণ্ডপ তৈরি করা হচ্ছে।

চৌমুহনীর ত্রিশুল দুর্গাপূজা কমিটি এবার বৃদ্ধাশ্রম নিয়ে একটি পূজামণ্ডপ করছে। ইতোমধ্যে এর ৮০ ভাগ কাজ শেষ। এ মণ্ডপের কারিগর বিশ্বজিত জাগো নিউজ কে জানান, সমাজের উচ্চবিত্ত মানুষরা এক সময় মা বাবাবে বৃদ্ধাশ্রমে দিয়ে আসেন। তাদের তেমন খোঁজ খবর নেন না। যেহেতু মানুষ ধর্মভীরু তাই ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি ব্যবহার করে এবং মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যে বৃদ্ধাশ্রম আদলে এবার পুজামণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে।
একইভাবে চৌমুহনীর রাধামাধব জিউর মন্দির, অপরূপা, দশভূঁজা, ত্রিনয়নী, বিজয়া এবং মহায়মায়ার পাশাপাশি ত্রিশূল ও নবদুর্গা ব্যয়বহুল পূজা মণ্ডপ তৈরি করছেন।
এছাড়া মাইজদীতে মালঞ্চ সেবা সংঘের উদ্যোগে দেবী দুর্গার এক হাজার দুইটি হাত দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বিশাল আকৃতির দেবী দুর্গার প্রতিমা।
শরীয়তপুর থেকে আসা প্রতিমা কারিগর সমর কৃষ্ণ পাল জাগো নিউজকে বলেন, আর কয়েকদিনের মধ্যে প্রতিমার কাজ শেষ হয়ে যাবে। তবে অন্যান্য বছরের থেকে এবার কম মূল্যে প্রতিমা বানাচ্ছেন। কারণ দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টি ও বন্যার কারণে মানুষজন আগের মতো চাঁদা দেয় না। তাছাড়া অনেক পূজার স্থান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় আয়োজনকারীর বাজেটও কম।

নোয়াখালী জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি বাবু বিনয় কিশোর রায় জানান, নোয়াখালীতে এবার ১৬০টি পূজা মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। দেশ সেরা ও ব্যয়বহুল চৌমুহনীর পূজা দেখার জন্য প্রতি বছরের ন্যায় এবারও নোয়াখালী-ফেনী ও লক্ষ্মীপুর ছাড়া দেশের অনেক দূর থেকে লাখ লাখ ভক্তের সমাগম ঘটবে। ইতোমধ্য প্রতিটি পুজামণ্ডপ কমিটির পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্ততি নেয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, পূজারিরা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান করতে পারে সেজন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।
নোয়াখালী পুলিশ সুপার মো. ইলিয়াছ শরীফ (সেবা) জাগো নিউজকে বলেন, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। সবাই মিলেমিশে ও সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করে হিন্দু ধমালম্বীদের এ বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব যেন নিরাপদে নিশ্চিন্তে পালন করতে পারে সে লক্ষ্যে তারা ব্যাপক প্রস্ততি নিয়েছেন। র্যাব ছাড়াও পুলিশের মোবাইল টিম ও সাদা পোশাকধারী পুলিশ নিয়মিত মণ্ডপগুলো পরিদর্শন করছেন
তাছাড়া পূজা মণ্ডপগুলোকে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব দেয়া হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
মিজানুর রহমান/এফএ/আরআইপি