নওগাঁয় কালো তালিকায় ৭৬৭ চালকল মালিক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৩:৩৪ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭
নওগাঁয় কালো তালিকায় ৭৬৭ চালকল মালিক

চাল সরবরাহে সরকারি খাদ্যগুদামের সঙ্গে চুক্তি না হওয়ায় জেলার ৭৬৭টি চালকল মালিককে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। চলতি বোরো চাল সংগ্রহ মৌসুমে সরকার নির্ধারিত ক্রয়মূল্যের চেয়ে বাজারে ধান-চালের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়। ফলে এসব চালকলের মালিককে কালো তালিকাভুক্ত করেছে খাদ্য বিভাগ। এসব চালকল মালিক আমন মৌসুমসহ আগামী দুই বছর অর্থ্যাৎ চার মৌসুম সরকারি খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহ করতে পারবেন না।

চুক্তিবিহীন চালকল মালিকদের প্রতি সুনজর এবং সরবরাহকৃত চালকল মালিকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বোনাস ব্যবস্থার জন্য সরকারে সুদৃষ্টি কামনা করা হয়েছে।

জেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার ১১ উপজেলায় ১ হাজার ১৬৭টি চালকল রয়েছে। এর মধ্যে চলতি বোরো মৌসুমে ৪০০ জন চালকল-মালিক চাল সরবরাহের জন্য খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। অথচ এখন পর্যন্ত চাল সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা চার ভাগের এক ভাগও অর্জিত হয়নি।

খাদ্য বিভাগ সূত্রে আরও জানা যায়, জেলায় বোরো মৌসুমে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৪২ হাজার ২৫০ মেট্রিকটন। এ লক্ষ্যে ১ মে থেকে জেলার ১ হাজার ১৬৭টি চালকল মালিককে সরকারি খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহ করতে খাদ্য বিভাগের পক্ষ থেকে চুক্তি করতে বলা হয়। চুক্তির শেষ সময় ছিল ২০ মে। এই সময়ের মধ্যে মাত্র ১৬৫ জন চুক্তিবদ্ধ হন। পরে চুক্তির মেয়াদ ৩১ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়। বর্ধিত সময়ের মধ্যে আরও ২৩৫ জন চুক্তিবদ্ধ হন। মোট ৪০০টি চালকল মালিক ১১ হাজার মেট্রিকটন চাল সরবরাহ করতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। এ পর্যন্ত ১০ হাজার ৭শ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগ্রহের শেষ সময় ৩১ আগস্ট হলেও সময় ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সরকার চাল কেনার জন্য প্রতি কেজি সেদ্ধ চালের মূল্য ৩৪ টাকা এবং আতপ চালের মূল্য ৩৩ টাকা নির্ধারণ করেছে। অথচ খোলা বাজারে সর্বনিম্ন মানের চাল কেজিপ্রতি ৩৮ টাকা থেকে ৪০ টাকা। চাল উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় চালের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। লোকসান গুনতে হবে ভেবে অধিকাংশ চালকল মালিক খাদ্য গুদামে চাল সরবরাহ করতে চুক্তিবদ্ধ হননি। অনেক চালকল মালিক লাইসেন্স টিকিয়ে রাখতে লোকসানের কথা ভেবেই চাল সরবরাহ করতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।

চালকল মালিকরা মনে করছেন, একই বছরে দেশে দুইবার বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়েছে। ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আর সেজন্যই দফায় দফায় ধান-চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

সদর উপজেলার মেসার্স আল-আমিন চালকলের মালিক আব্দুল হাকিম বলেন, প্রতি কেজিতে ৩-৪ টাকা লোকসান করে খাদ্য গুদামে ১০ মেট্রিকটন চাল সরবরাহ করেছেন। ক্ষতি পুশিয়ে নিতে সরকার থেকে যে সুবিধা দেয়ার কথা ছিল তা এখনো দেয়া হয়নি। বোনাসের ব্যবস্থা করা হলে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হবে বলে মনে করেন।

জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, কোনো চালকল মালিক নিজের ক্ষতি করে খাদ্য গুদামে চাল দিতে চান না। আর খাদ্য গুদামের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ না হওয়ায় চালকল মালিকদের কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। জেলা চালকল মালিক সমিতির পক্ষ থেকে মাননীয় খাদ্য মন্ত্রীর কাছে কালো তালিকাভুক্ত অধ্যাদেশ বাতিলের অনুরোধ করেছেন। যাতে আগামীতে সরকারের চাল সংগ্রহ অভিযানে চালকল মালিকরা অংশগ্রহণ করতে পারেন।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, যেসব চালকল-মালিক চাল সরবরাহে চুক্তি করেননি, তারা আগামী দুই বছর কোনো চুক্তি করতে পারবেন না। আর যারা চুক্তি করেও চাল সরবরাহ করতে ব্যর্থ হবেন, তারা এক বছর (দুই মৌসুম) চুক্তি করতে পারবেন না।

আব্বাস আলী/এফএ/পিআর