মেয়েকে বাঁচাতে থাকার ঘরটিও বিক্রি করে দিলেন বাবা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লালমনিরহাট
প্রকাশিত: ১১:১৮ এএম, ০১ অক্টোবর ২০১৭

৪ বছর বয়সী মেয়ে লতিফাকে বাঁচাতে মাত্র ১৪ হাজার টাকায় থাকার ঘরটিও বিক্রি করে দিয়েছেন বাবা লুৎফর রহমান মাখন। আর সেই টাকা দিয়ে অসুস্থ মেয়েকে ভর্তি করেছেন দিনাজপুরের পারবর্তীপুর মিশন হাসপাতালে। কিন্তু সেখানকার ডাক্তাররা জানিয়েছেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য লতিফাকে দ্রুত ভারতে নিয়ে যেতে হবে। সেখানে চিকিৎসা করালে তার সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

শিশু লতিফার দুটি কিডনিই নষ্ট হওয়ার পথে। ডাক্তাররা জানিয়েছেন লতিফার চিকিৎসা দ্রুত না করালে তার মৃত্যু ঝঁকি বেড়ে যাবে।

এদিকে গত তিন বছর ধরে মেয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন বাবা লুৎফর রহমান মাখন। ইতোমধ্যে মেয়ের চিকিৎসার জন্য প্রায় ৭ লাখ টাকা খরচ করেছেন তিনি। এখন আর পারছেন না তিনি।

লুৎফর রহমান মাখন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া ছোটখাতা গ্রামের বাসিন্দা। শিশু লতিফা, মাখন ও রাবেয়া বেগম দম্পতির ছোট মেয়ে। তার বাবা ডালিয়া এলাকায় দোকান করতেন। কিন্তু এখন আর করেন না।

lalmonirhat

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কিডনি রোগ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. মোবাশ্বের আলমের (সুজা) বরাত দিয়ে লুৎফর রহমান মাখন জানিয়েছেন, পরীক্ষা নিরীক্ষার এক পর্যায়ে ধরা পড়ে লতিফার দুটি কিডনিই নষ্ট হওয়ার উপক্রম। তাকে উন্নত চিকিৎসা দিতে হলে ভারতে নিয়ে যেতে হবে। এজন্য প্রায় ৪ লাখ টাকার প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ৩ বছর ধরে মেয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে চাষের জমিসহ অনেক কিছু বিক্রি করেছি। কয়েকদিন আগে লতিফা আবারও অসুস্থ হয়ে পড়ায় উপায় না পেয়ে থাকার একটি টিনের ঘর ১৪ হাজার টাকায় বিক্রি করে মেয়েকে পার্বর্তীপুর মিশন হাসপাতালে ভর্তি করেছি। এখানকার চিকিৎসকরাও বলছেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য লতিফাকে ভারতে নেয়া প্রয়োজন।

লতিফাকে কেউ সাহায্য করতে চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন তার বাবা লুৎফর রহমান মাখনের ০১৭৬৬-৩৯৪৯২৮ নম্বরে।

রবিউল হাসান/এমএএস/আইআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।