কড়া নজরদারিতেও রাতের আঁধারে চলছে ইলিশ শিকার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০৬:৪৮ এএম, ০৬ অক্টোবর ২০১৭

মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের দেয়া নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতের আঁধারে শরীয়তপুরে ইলিশ শিকার করছে কিছু জেলে। তাদের প্রতিরোধ করতে মৎস্য বিভাগসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারির দাবি স্থানীয়দের। তবে মৎস্য বিভাগ আশ্বাস দিচ্ছে ইলিশ ধরা বন্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নড়িয়া সুরেশ্বর, চরাত্রা, নওপাড়া, ভেদরগঞ্জ তারাবুনিয়া, কাঁচিকাটা, দক্ষিণ তারাবুনিয়া, জাজিরা পালের চর, নাওডোবা, গোসাইরহাট মাঝেরচর, সাতপাক, কিশানবালা, ঠান্ডার বাজার, চরজালালপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ইলিশ শিকার করতে একাধিক জাল ফেলে রেখেছেন জেলেরা। এসময় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের ক্যামেরা দেখে নৌকা, জাল ও মাছ রেখে পালিয়ে যান জেলেরা।

মৎস্যজীবী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু এবং লোভী জেলে প্রতি বছরই এভাবে প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার করে থাকেন।

মনির মিজি, ইসমাইল পেদা, সোহগ হোসেন রাড়িসহ একাধিক জেলে বলেন, সরকারের ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা মেনে আমরা মাছ ধরা বন্ধ রাখলেও কিছু লোভী এবং অসাধু জেলে প্রতি বছরই প্রজনন মৌসুমে প্রসাশনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ইলিশ শিকার করে থাকেন। তাই তাদের প্রতিরোধ করতে মৎস্য বিভাগসহ প্রশাসনের আরও নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আব্দুস সালাম বলেন, ইলিশ শিকার বন্ধ রাখতে মৎস্য বিভাগ প্রতিনিয়িত অভিযান চালাচ্ছে। তারপরও কিছু অসাধু জেলে রাতের আঁধারে ইলিশ শিকারের চেষ্টা করছেন।

জেলা মৎস্য অফিসের মৎস্য জরিপ কর্মকর্তা মো. আবুল খায়ের জানান, ১ অক্টোবর থেকে ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার পর থেকে শরীয়তপুর জেলায় ৫৬ জেলেকে কারাদণ্ড, ১ লাখ ৪ হাজার টাকা জরিমানা এবং ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৩০০ মিটার জাল ও ১ হাজার ৯২৪ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা ইলিশ স্থানীয় এতিমখানা ও গরিবদের মাঝে বিতরণ এবং জাল পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এছাড়া ৬ দিনে ২৯টি মোবাইল কোর্ট ও ৮৭টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা ইয়াসমিন বলেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুমকে নিরাপদ করতে উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছে। আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ছগির হোসেন/এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।