রমজানের শুরুতেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ভয়াবহ যানজট


প্রকাশিত: ১০:৪১ এএম, ১৯ জুন ২০১৫
ফাইল ছবি

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বৃহস্পতিবার রাত থেকে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।  শুক্রবার বিকেল চারটা পর্যন্ত তা অব্যাহত রয়েছে।  এই যানজট গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অবস্থান নিয়েছে।  এতে রমজানের প্রথম দিনেই তীব্র যানজটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

ভুক্তভোগী চালক, যাত্রী ও পুলিশ সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাত দশটার দিকে মহাসড়কের কালিয়াকৈর বাইপাসে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এলোপাতাড়িভাবে যানবাহন চালানোর কারণে এ যানজটের সৃষ্টি হয়।  মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ায় ক্রমান্বয়ে ওই স্থানে যানজট দীর্ঘ হতে থাকে।  এক পর্যায়ে তা মহাসড়কের গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইল এলেঙ্গা পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃতি ঘটে।  ভয়াবহ এই যানজটে আটকা পড়ে মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।  সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নারী ও শিশু যাত্রী।  প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।



শুক্রবার বেলা ১২টার পর থেকে থেমে থেমে যানবাহন চলাচল করলেও দুপুর ১টার পর আবারো যানজটের সৃষ্টি হয়।  যানজটের বর্ণনা দিতে গিয়ে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাসের চালক তুহিন মিয়া জানান, এলেঙ্গার পর থেকে মির্জাপুর বাইপাস পর্যন্ত আসতে যেখানে সময় লাগার কথা ৪৫ মিনিট, সেখানে সময় লেগেছে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা।

ঢাকাগামী ট্রাকচালক আরিফুল ইসলাম জানান, এলেঙ্গা থেকে মির্জাপুর বাইপাস পর্যন্ত আসতে যেখানে সময় লাগত বড়জোর এক ঘণ্টা সেখানে যানজটের কারণে তার সময় লেগেছে প্রায় ৬ ঘণ্টা। 

অন্যদিকে, ঢাকাগামী বাসযাত্রী রিতা রানী ঘোষ জানান, তিনি ছয় ঘণ্টা ধরে স্বামী-সন্তান নিয়ে যানজটে আটকা পড়েছেন।
 
মির্জাপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হাজী আবুল হোসেন বলেন, সকাল দশটার দিকে তার নিজস্ব প্রাইভেটকার যোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলাম।  প্রায় দেড় ঘণ্টা যানজটে আটকা থেকে মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই থেকে ফেরত এসেছেন বলে তিনি জানান।

টাঙ্গাইলগামী বাসযাত্রী হারুন অর রশিদ জানান, সেহরি খেয়ে বাসে উঠে সকাল সাড়ে ১১টায় মির্জাপুর বাইপাস পর্যন্ত এসেছি।  রোজা রেখে যানজটে আটকা পড়ে থাকা সত্যিই কষ্টের বলে উল্লেখ করেন তিনি।  



মির্জাপুরের গোড়াই হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ূন কবীর জানান, মির্জাপুরের ধেরুয়া রেলক্রসিংয়ে বৃষ্টির কারণে বড় আকারের গর্তের সৃষ্টি হওয়াতে ওই স্থান দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের গতি কমে যায়।  এতে ওই স্থানে যানজটের সৃষ্টি হয়ে মহাসড়কের যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

মির্জাপুরের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর সাজেদুল করীম বলেন, মহাসড়কের কালিয়াকৈর বাইপাস বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এলোপাতাড়িভাবে যানবাহন চালানোর কারণে এ যানজটের সূত্রপাত হয়।  মহাসড়কে যানবাহনের চাপ ক্রমান্বয়ে বাড়ায় ওই স্থানে যানজট দীর্ঘ হতে থাকে।  এছাড়া শুক্রবার বেলা সাড়ে দশটার দিকে মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার রশিদ দেওহাটা নামকস্থানে মালভর্তি একটি ট্রাক বিকল হয়ে পড়ে।  এতে যানজট আরো দীর্ঘস্থায়ী হয়।

মির্জাপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক ভূঁইয়া জানান, সপ্তাহে দুই দিন বন্ধ এবং রমজান শুরু হওয়ায় বৃহস্পতিবার মানুষ ঘরমুখো ছিল। আর এ কারণে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়।  তাছাড়া যানবাহনের চালকরা মহাসড়কের উপর গাড়ির মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ায় তা তীব্র হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, মির্জাপুর, টাঙ্গাইল, গোড়াই হাইওয়ে, কালিয়াকৈর ও মির্জাপুর ট্রাফিক পুলিশ যানজট নিরসনে কাজ করে যাচ্ছে।

এআরএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।