উন্নতি হচ্ছে না কুড়িগ্রামের স্কুলগুলোর
প্রতিবছর প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ‘স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান’ (স্লিপ) নামে একটি বড় অঙ্কের বরাদ্দ দেয় সরকার।
এ বরাদ্দ মূলত দেয়া হয় বিদ্যালয় সজ্জিত এবং সাময়িক সমস্যা সমাধানের জন্য। কুড়িগ্রামেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৪০ হাজার করে টাকা দেয়া হয়েছে। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে এ টাকা দিয়ে প্রধান শিক্ষকরাই তাদের পকেট ভারি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে যথাযথ অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রামের ৯ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে এক হাজার ২১৭টি। গেল ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে এক হাজার ১৭৭টি বিদ্যালয়কে চার কোটি ৭০ লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। বরাদ্দ অনুযায়ী প্রত্যেক বিদ্যালয়কে ৪০ হাজার করে স্লিপের টাকা দেয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যে স্লিপের টাকা বিতরণ করা এবং কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ সজ্জিত করণের নামে সেই টাকা হরিলুট করলেও যেন দেখার কেউ নেই।
সরেজমিনে রাজারহাট উপজেলায় দেখা যায়, কবিরাজপাড়া কাদেরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছে ১০৫ জন শিক্ষার্থী। তাদের জন্য নেই কোনাে টিউবওয়েল, বেঞ্চ, টয়লেটে নেই কোনো সাবান। এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য নেই খেলাধুলার সরঞ্জামাদিসহ কোনো দেয়ালঘড়ি। সীমানা প্রাচীর না থাকাসহ নানান সমস্যায় জর্জরিত বিদ্যালয়টি।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জিল্লুর রহমান, মামুনুর রশীদ, গোলাম মোস্তফা বলেন, স্লিপের টাকা কখন কিভাবে প্রধান শিক্ষক পেয়েছেন আমরা জানি না। আর এই টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ের কোনো কাজ করা হয়নি। এছাড়াও নিয়মিত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক না এসেই হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করছেন।
এই বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল্ল্যা আজাদ স্লিপের ৪০ হাজার টাকা পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আমি পারিবারিক সমস্যার কারণে এখনও ওই টাকায় কোনো কাজ করতে পারিনি। তবে দ্রুত ওই টাকা খরচ করব।
টাকা খরচের সময় পার হওয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান, অফিসকে ম্যানেজ করে রেখেছি।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হয়েও তিনি প্রধান শিক্ষক পদবী ব্যবহার করছেন এমন প্রশ্নে বলেন, লেখা যায় এতে কোনো সমস্যা নেই।
প্রায় একই অবস্থা শিমুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল আলিম, গোপাল চন্দ্র বর্মন, সুশীল চন্দ্র সরকার ও বিদ্যুৎ বকসী জানান, স্লিপের টাকা কিভাবে কোথায় খরচ করা হয়েছে তা আমরা জানি না। আমাদেরকে জানানো হয় না। হিসাব চাইলে প্রধান শিক্ষকের রোষানলে পড়তে হয়। প্রধান শিক্ষকের বড় ভাই সুরেন্দ্র নাথ বর্মন বিদ্যালয়ের সভাপতি। কিভাবে কী করেছে সেটা তারাই ভালো জানেন।
এই বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ধনপতি রায় জানান, স্লিপের ৪০ হাজার টাকা পেয়েছি। তা বিদ্যালয়ের খরচ করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেখেছে।
অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষকগণ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকার শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য যথেষ্ট বরাদ্দ দিয়ে থাকে। শুধুমাত্র প্রধান শিক্ষক আর কমিটির সভাপতিরাই এই স্লিপের টাকা গোপনে আত্মসাৎ করেন। আমরা প্রতিবাদ করলেই আমাদেরকে বিভিন্ন ভাবে হেনস্তা করে।
স্লিপের টাকার বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষার অফিসার স্বপন কুমার রায় চেীধুরী জানান, স্লিপের টাকার কাজ স্ব-স্ব উপজেলার শিক্ষা অফিসার দেখেন। এ বিষয়ে তারাই ভালো জানেন। তবে টাকা ব্যয়ের অনিয়মের অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান জানান, স্লিপের টাকা নিয়ে কোনো ধরনের অভিযোগ পেলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নাজমুল হোসেন/এফএ/জেআইএম