ভূঞাপুরে ২২টি ঘাটে বালু পরিবহন বন্ধ


প্রকাশিত: ১২:২৩ পিএম, ২৪ জুন ২০১৫

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ২২টি ঘাট থেকে ট্রাক প্রতি ২০০ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বালু পরিবহন বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে। টাঙ্গাইল জেলা ট্রাক মালিক ও শ্রমিক সমিতির নেতারা এ বন্ধ ঘোষণা করেছে বলে জানা গেছে।

অপরদিকে ট্রাক মালিক-শ্রমিক সমিতির নেতারা বলেছেন, বালুর ঘাটে সিন্ডিকেট করে ট্রাক প্রতি ১৩০০ টাকা বালুর দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য এ বালু পরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে। বালু ঘাট মালিক ও ট্রাক মালিক-শ্রমিক সমিতির নেতাদের স্বার্থের দ্বন্দ্বের ফলে বিপাকে পড়েছে আবাসন শিল্প, সাধারণ গৃহ নির্মাণকারী এবং দরিদ্র বালু, ট্রাক ও নির্মাণ শ্রমিকরা।

জানা যায়, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ২২টি বালুর ঘাট চালু রয়েছে। এসব ঘাটের বালু উৎকৃষ্টমানের হওয়ায় নির্মাতা সংস্থা ও সাধারণ নির্মাণকারীদের নিকট চাহিদা খুবই বেশি। প্রতিদিন ৩৫০ থেকে ৪০০ ট্রাক বালু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন নির্মাণ সংস্থা ও সাধারণ নির্মাণকারীরা ক্রয় করে থাকে। এক মাস আগেও ভাড়া বাদে প্রতি ট্রাক বালুর দাম ছিল ২২০০ টাকা। বালুর ব্যাপক চাহিদা থাকায় বর্তমানে এক ট্রাক বালুর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫০০ টাকা। ট্রাক প্রতি ২০০ টাকা চাঁদা না পাওয়ায় বালুর দাম বৃদ্ধির অজুহাতে রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বালু পরিবহন বন্ধ রেখেছে টাঙ্গাইল জেলা ট্রাক মালিক-শ্রমিক সমিতির নেতারা।

বালুর ঘাট মালিকদের দাবি, সিরাজগঞ্জের বালু মহাল থেকে বর্তমানে বেশি দামে বালু কিনতে হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের জায়গা ব্যবহারের জন্য মোটা অঙ্কের টাকায় তা ইজারা নিতে হয়েছে। নদীতে পরিবহন খরচসহ নানা কারণে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এ কারণেই বালুর দাম বৃদ্ধি করতে হয়েছে।

ট্রাক মালিক-শ্রমিক সমিতির নেতারা জানান, নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের মালিকরা বালু কিনতে ঘাটে আসেন না। তারা ট্রাক মালিক-শ্রমিকদের মাধ্যমে বালু কিনে থাকেন। এক মাস আগেও প্রতি ট্রাক বালু ছিল ২২০০ টাকা। আর এ দামটি সকলেরই জানা। হঠাৎ করে বালুর ঘাট মালিকরা সিন্ডিকেট করে এক মাসের মধ্যে দু’দফায় ট্রাক প্রতি ১৩০০ টাকা দাম বৃদ্ধি করেছে। এতে করে বালুর ক্রেতারা ভূঞাপুর থেকে বালু কিনতে অনীহা প্রকাশ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ট্রাক পরিবহন ব্যবসা। আর বালুর দাম কমানোর দাবিতেই তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য বালু পরিবহন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।

বালু শ্রমিক খোরশেদ আলম, রফিক, সুরমান, ফরিদ, ভোলা, নুরুল ইসলামসহ অনেকেই হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, বালুর ঘাট বন্ধ থাকায় আয়-রোজগার নেই। সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। সামনেই ঈদ। ঘাট চালু না হলে ঈদের আনন্দ মাটি হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে বালুর ঘাটের অন্যতম মালিক মতিন সরকার বলেন, বেশি দামে বালু ক্রয়, পরিবহন ব্যয় ও অন্যান্য ব্যয় বৃদ্ধির কারণেই বালুর দাম বাড়ানো হয়েছে। অযৌক্তিক অজুহাত দেখিয়ে ট্রাকে বালু পরিবহন বন্ধ রেখেছে ট্রাক মালিক-শ্রমিক সমিতির নেতারা। তাদের কাজ ট্রাকের ভাড়া নিয়ে বালু পরিবহন করা, বালুর দাম নির্ধারণ নয়। আগে ট্রাক প্রতি ১০০ টাকা করে চাঁদা দেয়া হতো। বর্তমানে দাবিকৃত ২০০ টাকা চাঁদা না দেওয়াতেই মূলত তারা বালু পরিবহন বন্ধ রেখেছে।

টাঙ্গাইল জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি শওকত রেজা বলেন, বালুর দাম বৃদ্ধির কারণেই তাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গাড়ি প্রতি চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়।

এসএস/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।