বরিশালে বিভিন্ন নদীর ২৬ পয়েন্টে ভাঙন
কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে বরিশাল জেলার বিভিন্ন নদীর ২৬ পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিলীন হচ্ছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি, গাছপালা, ও ফসলি জমিসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল। হুমকির মুখে রয়েছে জেলার নদী তীরবর্তী এলাকার হাজার হাজার পরিবার। এরই মধ্যে ভিটে বাড়ি হারিয়েছেন অর্ধশতাধিক পরিবার।
কয়েক দিনের ভাঙনে টনক নড়েছে জেলা প্রশাসনের। ভাঙন কবলিতদের ক্ষয়-ক্ষতির খবরা খবর জানতে ও জানাতে কন্ট্রোল রুম খোলা হচ্ছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভাঙন কবলিত এলাকায় দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার বাসিন্দারা।
সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়ন, চরআবদানী ও চরকাউয়া এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার রাতেও লামছড়ির বিস্তীর্ণ এলাকা কীর্তনখোলা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে সিংহেরকাঠী, বেলতলা ফেরিঘাট, সুন্দরবনসহ কয়েকটি ডকইয়ার্ড, বরফকল, সিটি কর্পোরেশনের সার্ফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টসহ বিশাল এলাকা।
অন্যদিকে, শুক্রবার রাতে বাবুগঞ্জ উপজেলার আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে একটি রাইস মিল, একটি স`মিল এবং ২টি বসত ঘর। ভাঙনের মুখে রয়েছে উপজেলার চাদপাশা ইউনিয়নের রাফিয়াদি এলাকার নদী তীরবর্তী শতাধিক পরিবার।
স্থানীয়রা জানান, আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে রুহুল আমিনের রাইস মিলর মালি, জসিম উদ্দিন সিকদারের স`মিল ও মনির সিকদার এবং সালাম সিকদারের বসতঘর বিলীন হয়ে গেছে। নদীর তীর জুড়ে বড় বড় ফাটল ধরায় হুমকির মুখে রয়েছে শতাধিক পরিবার। যে যার মতো পারছে আসবাবপত্রসহ বসত বাড়ি ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন।
ক্ষতিগ্রস্থরা জানান, প্রতি বছর ভাঙনের মুখে পড়তে হয়। আগে থেকে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানালেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন।
এছাড়া উপজেলার রাকুদিয়ার আবুল কালাম ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা পারভীনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জাগো নিউজকে জানান, এ বিষয়ে তাকে কেউ কিছু জানাননি। এখন শুনলেন। ক্ষতিগ্রস্থদের সাহায্য করতে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, বাকেরগঞ্জ উপজেলার কারখানা নদীতে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। উপজেলার লক্ষীপাশা, দুর্গাপাশা ও কবাই এলাকার শত শত পরিবার ভাঙন অতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী।
অপরদিকে, মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাড. মুনসুর আহম্মেদ জানান, তার এলাকার মেঘনা, তেতুলিয়া, ইলিশা, মাছকাটা, কালাবদর নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে কালীগঞ্জ লঞ্চঘাট ও পাতারহাট স্টিমার ঘাট এলাকায়। ভাঙন প্রতিরোধে আশু পদক্ষেপ গ্রহণে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছেন বলে জানান তিনি ।
এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নদী ভাঙনের খবর পাওয়া গেছে। বরিশাল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু জাগো নিউজকে জানান, এ বছর নদী ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সব কিছু শেষ হয়ে যাচ্ছে ভাঙনে। শুক্রবার রাতেও লামছড়ির বিস্তীর্ণ এলাকা কীর্তনখোলা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কাছে মানুষ বড় অসহায়। তিনি বলেন, ভাঙন রোধে এ এলাকায় তিন কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার । প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করতে সংশ্লিষ্ট দফতরকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরউদ্দিন আহম্মেদ জাগো নিউজকে জানান, বরিশালের ১০ উপজেলার বিভিন্ন নদীর ২৬টি পয়েন্টে ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন রোধে আগেই ৪০০ কোটি টাকার ছোট-বড় মিলিয়ে কয়েকটি কাজের প্রকল্প সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলো অনুমোদন না হওয়ায় ভাঙন রোধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছেনা।
বরিশাল জেলা প্রশাসক শহিদুল আলম জাগো নিউজকে জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে জেলা প্রশাসন। ভাঙন কবলিতদের ক্ষয়-ক্ষতির খবরা খবর জানতে ও জানাতে শনিবার কন্ট্রোল রুম খোলা হচ্ছে। ভাঙন কবলিত পরিবারগুলোকে সাহায্য ও সহযোগিতা করতে জেলা প্রশাসন প্রস্তত রয়েছে বলে জানান তিনি।
সাইফ আমীন/এমজেড/এআরএস/এমএস