টানা বর্ষণে ফটিকছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত : হালদা-সর্তা খালে ভাঙন
গত এক সপ্তাহের বৃষ্টিতে ফটিকছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নষ্ট হয়েছে হাজার হাজার মৎস্য পুকুর ও মৎস্যঘের। সর্তা, হালদা, গজারিয়া, ধুরুং খালের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে তৈরি শত শত আমন ধানের বীজতলা নষ্ট হয়েছে।
এদিকে হালদা খালের পানির বিভিন্ন প্রজাতির সঙ্গে বড় বড় মাছ পাওয়া গেছে জেলেদের জালে। সরেজমিনে দেখা যায়, ফটিকছড়ি পৌর সদর, নাজিরহাট পৌর সদর, সমিতিরহাট, জাফতনগর, রোসাংগীরি, ধর্মপুর, বখতপুর, লেলাং, পাইন্দং. হারুয়ালছড়ি কাঞ্চননগর, সুয়াবিল, নারায়ণহাট ইউনিয়নের প্রায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বিবিরহাট বাজারের চরম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। বাজারের অনেক স্থানে হাঁটু পানি জমেছে।
ফটিকছড়ির অধিকাংশ রাস্তাঘাট, হাট-বাজার, নিচু এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ভেঙে পড়েছে যাতায়াত ও পরিবহন ব্যবস্থা। সীমাহীন দুর্ভোগ-ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে ফটিকছড়িবাসীকে। পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় অধিকাংশ রাস্তাঘাট জরাজীর্ণ থাকার এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
ফটিকছড়ির সদর বিবিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী সোহেল মাহামুদ লিপন ও মো. বেলাল জাগো নিউজকে জানান, ফটিকছড়ি পৌরসভায় আজো প্রয়োজনীয় কোনো নাগরিক সুযোগ-সুবিধা গড়ে উঠেনি। গত সাত দিনের প্রবল বর্ষণে ফটিকছড়ি পৌর সদরের বিভিন্ন বাসায় পানি উঠে যাওয়ার কারণে কেউ কেউ বাসাবাড়িতে তালা মেরে অন্যত্র চলে গেছেন।
ফটিকছড়ি পৌরসভায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় হাঁটু পানিতে তলিয়ে গেছে শহর। শত শত পৌরবাসী পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। নাজিরহাট পৌরসভা বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, এখানে নিয়মিত ড্রেন সংস্কার করা হয় না। অধিকাংশ নালা বা ড্রেন ব্যক্তি বিশেষের উদ্যোগে পরিস্কার করা হয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষ ড্রেন সংস্কার এবং তদারকি করলেও দীর্ঘদিনের জমে থাকা ময়লা ও আবর্জনার কারণে হাঁটু পানিতে তলিয়ে গেছে পৌর সদরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ধর্মপুর ইউপি সদস্য ইউসুফ বাবুল জাগো নিউজকে বলেন, সর্তা খালের ব্যাপক ভাঙনের কারণে আমার এলাকার ৫-৭টি পাড়া হুমকির মুখে রয়েছে। দৌলতপুরের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর উদ্দিন মাহমুদ জাগো নিউজকে বলেন, নাজিরহাট পৌর এলাকার ৪-৫টি স্থানে হালদা খালের ব্যাপক ভাঙন হয়েছে। শত শত পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।
নারায়ণহাট ইউপি চেয়ারম্যান আবু জাফর মাহমুদ জাগো নিউজকে বলেন, হালদা ও গজারিয়া খালের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। শত শত বীজতলা ও মৎস্য ঘের নষ্ট হয়েছে।
সমিতিরহাট ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, আমার এলাকার উপর দিয়ে প্রবাহিত হালদা খালের আরবানিয়া ঘাট, নাইচ্ছের ঘাট, দক্ষিণ নিচিন্তাপুর এলাকায় ব্যাপক ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, হঠাৎ ভারী বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে সর্তা, হালদা, ধুরুং, গজারিয়া খালের ভাঙন ও ঝুঁকিপূর্ণ বসতি, মানুষের ক্ষয়-ক্ষতির তথ্য চাওয়া হয়েছে। সার্বিক বিষয়ে খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে।
এমজেড/এমএস