জ্বালানি তেল সংকটে দোহাজারীর পিকিং প্ল্যান্ট
জ্বালানি তেলের অভাবে বন্ধ হওয়ার পথে চট্টগ্রামের দোহাজারীর পিকিং পাওয়া প্ল্যান্ট। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে যে পরিমাণ তেল মজুদ ছিল তা প্রায় শেষের পথে। নতুন করে কোনো তেল সরবরাহ করা হয়নি বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির জন্য। ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন প্ল্যান্টটি বন্ধ হয়ে গেলে চট্টগ্রামে বাড়তে পারে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট।
বোয়ালখালী উপজেলার বেঙ্গুরা এলাকায় ভেঙে যাওয়া সেতু মেরামত হলেও এখনো ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। শনিবার সকাল পর্যন্ত সেতু দিয়ে কোনো যাত্রীবাহী বা মালবাহী ট্রেন চলাচল করতে পারেনি। নয় দিনেও উদ্ধার করতে পারেনি ডুবে যাওয়া তিনটি তেলভর্তি ওয়াগন।
শনিবার সকালে খুলনা থেকে একটি ডুবুরি টিম আনা হয়েছে। ডুবে থাকা ওয়াগনের হুক কাটার জন্য তারা কজ করছেন বলে জানােন ট্রেন পরিচালক রুকন উদ্দিন। তিনি জানান, ডুবে থাকা ওয়াগনগুলো একটা অন্যটার সঙ্গে সংযুক্ত বিধায় এগুলো বিচ্ছিন্ন করতে হবে।
একসঙ্গে দুটি ওয়াগন তোলার মতো যন্ত্রপাতি রেলওয়ের কাছে নেই বলেও তিনি জানান। রুকন উদ্দিন আরো বলেন, এখনো পর্যন্ত কোনো প্রকার ট্রেন চলাচল করেনি ওই সেতু দিয়ে।
এদিকে দোহাজারী বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আরিফুর রহমান ভূঁইয়া জানান, বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ১৫ দিনের ফার্নেস অয়েল মজুদ থাকা অবস্থায় তেল সরবরাহ করা হয়। সে হিসেবে গত শুক্রবার রেলের ওয়াগনে করে তেল নিয়ে আসা হচ্ছিল। তেলবাহী ওয়াগনটি খালে পড়ে গেলেও এ পর্যন্ত সেটি উদ্ধার করা হয়নি।
গাড়িতে করে বা অন্য কোনো উপায়ে তেল সরবরাহের কোনো সিস্টেমও এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে নেই। রেলের ওয়াগন থেকে সরাসরি তেলের ডিপোতে মজুদ করার সিস্টেম রয়েছে। গাড়িতে করে আনা হলে আবার সিস্টেম পাল্টাতে হবে। ফলে সেতু মেরামত না হওয়া পর্যন্ত তেল আনার কোনো উপায় নেই।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রে এ পর্যন্ত যে পরিমাণ ফার্নেস অয়েল মজুদ রয়েছে তা দিয়ে আর একদিন বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এরপর যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন। আর এতে চট্টগ্রামে বেড়ে যেতে পারে লোডশেডিং।
তিনি আরো বলেন, এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রতি ঘণ্টায় ২০ মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল লাগে। দৈনিক ১০ ঘণ্টা চালালে ২০০ মেট্রিক টন ফার্নেস তেল প্রয়োজন হয়।
তেল সরবরাহের বিষয়ে রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মফিজুর রহমান বলেন, বৃষ্টির কারণে খালে পড়া ওয়াগন উদ্ধার ও সেতুর মেরামত কাজে বিলম্ব হচ্ছে।
বিএ/এমএস