প্রেমে প্রতারিত হওয়া এক কলেজছাত্রীর চিঠি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঝালকাঠি
প্রকাশিত: ১২:১৫ পিএম, ০২ নভেম্বর ২০১৭

‘আমার এ মৃত্যুর জন্য দায়ী মুরাদ খলিফা। প্রেমের ফাঁদে ফেলে ও আমার জীবনটা নষ্ট করে দিয়েছে। জোর করে আমার সর্বনাশ করেছে। মুরাদ কোরআন ছুঁয়ে শপথ করে আমার সব কিছু কেড়ে নিয়ে এখন অস্বীকার করছে। এখন আমারে চিনতেও পারে না সে।’

প্রেমিককে দোষী করে এভাবে দুই পৃষ্ঠার একটি চিঠি লেখে চিরবিদায় নেন কলেজছাত্রী ঝুমা আক্তার (১৮)। বৃহস্পতিবার ভোরে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।

ওই চিঠিতে কলেজছাত্রী ঝুমা আক্তার লিখেন, ‘মুরাদ খলিফা শপথ করে বলেছিল আমারে ছেড়ে যাবে না, আমারে বিয়ে করবে আর এখন সবকিছু অস্বীকার করতেছে। আমি অনেক কষ্ট নিয়ে এ পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলাম। আমাকে সবাই ক্ষমা করে দিও। আমার ভালোবাসার মধ্যে কোনো দোষ ছিল না। মুরাদ ইচ্ছে করেই আমার সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতা করছে। আমি চাই তোমরা ওর বিচার করো। তাহলেই আমার আত্মা শান্তি পাবে।’

মৃত ঝুমা আক্তার উপজেলার নলবুনিয়া গ্রামের আবদুল লতিফ হাওলাদারের মেয়ে ও রাজাপুর উপজেলার বড়ইয়া ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী।

college

চিঠিতে অভিযুক্ত মুরাদ খলিফা নলছিটি উপজেলার উত্তর কাঠিপাড়া গ্রামের নান্না খলিফার ছেলে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

মৃত ঝুমা আক্তারের বাবা আবদুল লতিফ হাওলাদার বলেন, বুধবার রাতে প্রতিদিনের মতো ঝুমা ভাত খেয়ে ঘরের একটি কক্ষে ঘুমাতে যায়। এরপর মুরাদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলে।

ধারণা করা হচ্ছে- মুঠোফোনে কথোপকথনে প্রেমে প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে কষ্টে ঝুমা আক্তার আত্মহত্যা করেন। যে আমার মেয়ের জীবন কেড়ে নিয়েছে আমি তার বিচার চাই। ঘটনার পর থেকে মুরাদ খলিফা পলাতক রয়েছেন।

এ বিষয়ে নলছিটি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম সুলতান মাহামুদ বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনহত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মো. আতিকুর রহমান/এএম/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :