বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে অচলাবস্থা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পঞ্চগড়
প্রকাশিত: ০৫:৪০ এএম, ১১ নভেম্বর ২০১৭

ভারত থেকে বন্দর ইয়ার্ডে পাথর আনলোডের শর্ত দেয়ায় পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে পাথর আমদানি নির্ভর এই শুল্কবন্দর। ফলে সরকারের প্রতিদিন প্রায় ১৫ লাখ টাকা রাজস্ব হারানোর পাশপাশি কাজ না থাকায় বেকার হয়ে পড়েছেন বন্দরের শ্রমিকরা।

স্থলবন্দর ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিয়মানুযায়ী আমদানিকৃত পণ্য স্থলবন্দরের ইয়ার্ডে আনলোড করতে হবে। কিন্তু বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের ইয়ার্ডে পণ্য রাখার পর্যাপ্ত জায়গা নেই। এজন্য বন্দরের প্রক্রিয়া শেষ করে বিজিবির নির্ধারিত সীমানার মধ্যে আনলোড করা হতো। গত ১ নভেম্বর আমদানিকৃত পাথরের আড়ালে অবৈধভাবে আনা ২০ টন মোটর পার্টস (যন্ত্রাংশ) জব্দ করে বিজিবি। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক স্থলবন্দরের শুল্ক বিভাগের দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়। ঘটনার পর আমদানিকৃত পাথর বন্দর ইয়ার্ডে আনলোড করার শর্ত জুড়ে দেয় শুল্ক কর্তৃপক্ষ।

এর প্রতিবাদে রোববার (৫ নভেম্বর) থেকে পাথর আমদানি বন্ধ করে দেয় জেলা আমদানি রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশন। আমদানি বন্ধ থাকায় বন্দরের ওপারে ভারতের ফুলবাড়ি স্থলবন্দরে আটকা পড়েছে কয়েকশ পাথরভর্তি ট্রাক।

এদিকে এই শুল্কবন্দর দিয়ে প্রতিদিন আদানিকৃত দুই থেকে আড়াইশ পাথরভর্তি ট্রাকের বিপরীতে সরকারের কোষাগারে রাজস্ব জমা হয় প্রায় ১৫ লাখ টাকা। কিন্তু বন্দরের অচলাবস্থার কারণে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। পাশাপাশি কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন লোড আনলোড শ্রমিকরা।

শ্রমিক আহসান হাবিব বলেন, ভারত থেকে পাথরের গাড়ি আসা বন্ধ থাকায় আমাদের কাজ নেই। ৫/৬ দিন থেকে বসে আছি। এভাবে চললে আমরা কী করব আর পরিবার পরিজন নিয়ে কী খাবো?

আমদানিকারক ফরমান আলী বলেন, কিছুদিন আগে দুই নম্বরি কারবারের মাধ্যমে পণ্য আনার কারণে এই সমস্যা হয়েছে। এখন পোর্টের ইয়ার্ডে আমদানিকৃত পাথর আনলোড করতে হচ্ছে। এতে আমাদের পরিবহন এবং শ্রমিক খরচ অনেক বেড়ে গেছে। এজন্য আমরা পাথর আমদানি বন্ধ রেখেছি।

তবে বন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা আকম বজলুর রশীদ বলছেন, আমরা কাউকে পাথর আমদানি করতে নিষেধ করিনি। নিয়ম অনুযায়ী আমদানিকৃত পণ্য বন্দরের ইয়ার্ডে আনলোড করতে বলা হয়েছে। এতে তারা যদি আমদানি বন্ধ করে দেয় আমাদের কিছু করার নেই।

স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বেলাল হোসেন বলেন, পাথরের ট্রাকে অবৈধভাবে ভারতীয় কিছু পণ্য আনার ঘটনায় স্থলবন্দরে এই অচলাবস্থা। এ ঘটনায় বন্দরের উভয় পাশের শুল্ক বিভাগ কিছুটা চাপের মধ্যে রয়েছে। তবে আগামী রোববার এ নিয়ে বৈঠক বসার কথা রয়েছে।

পঞ্চগড় আমদানি-রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মেহেদী হাসান খান বাবলা বলেন, এখানে গাড়ি স্ক্যানার না থাকার করাণে অবৈধ ব্যবসায়ীরা এমন কাজ করেছেন। শুল্ক বিভাগ বন্দরের আশপাশে বিভিন্ন আনলোড পয়েন্টে তাদের লোকবল রাখতে পারেন। কিন্তু তাদের জুড়ে দেওয়া শর্ত অনুযায়ী বন্দর ইয়ার্ডে পাথর আনলোড করলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব।

সফিকুল আলম/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।