এসএসসির ফরম পূরণের শর্ত মাথা ন্যাড়া
চাঁদপুরে মাথা ন্যাড়া করার শর্তে এসএসসির ফরম পূরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত আল আমিন একাডেমিতে এ ঘটনা ঘটে।
যেসব শিক্ষার্থী একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে তাদের মাথা ন্যাড়া করার বিনিময়ে এ সুযোগ দেয়া হচ্ছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে মুখ ফুটে কেউ কিছু বলছে না।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ প্রাইভেট না পড়ায় তাদের ইচ্ছে করে ফেল করিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলা হয়েছে। শর্ত মেনে ইতোমধ্যে ১৯ জন শিক্ষার্থী মাথা ন্যাড়া করে ফরম পূরণ করেছে।
ইংরেজি শিক্ষক জামাল হোসেন ও প্রধান শিক্ষক আব্বাস হোসেনের এ শর্ত অনুযায়ী অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা ফরম পূরণ করছে। বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটিতে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক প্রায় চারশ শিক্ষার্থীর মধ্যে টেস্ট পরীক্ষায় ৯১ জন কৃতকার্য হয়। বাকি ৩০৯ জন এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়। পরে অকৃতকার্য বিষয়ে পুনরায় পরীক্ষা নিলেও ফল ঘোষণা করেনি কর্তৃপক্ষ।
ফল ঘোষণা না করে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে ফরম পূরণ করানো হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে প্রাইভেট না পড়ায় অনেক শিক্ষার্থীকে অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কৌশল হিসেবে এত শিক্ষার্থীকে অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, ইতোমধ্যে ইংরেজি শিক্ষক জামাল হোসেনের নির্দেশে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৯ জন মাথা ন্যাড়া করতে বাধ্য হয়েছে। এ শর্ত দেয়ায় পর প্রধান শিক্ষক আব্বাসির সঙ্গে অনেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক যোগাযোগ করে। কিন্তু তিনি সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত বলে জানিয়ে দেন। এ কারণে বাধ্য হয়ে মাথা ন্যাড়া করে শিক্ষার্থীরা ফরম পূরণ করছে। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অনেক অভিভাবক শর্ত মেনে নিলেও ভেতরে ভেতরে তাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
পরীক্ষার সুযোগ না দেয়া হতে পারে- এ ভয়ে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ। এ ব্যাপারে শিক্ষক জামাল হোসেন ও অধ্যক্ষ এক প্রকার হুমকি দিয়ে রেখেছেন বিষয়টি যেন গণমাধ্যমকে না জানানো হয়।
গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঘুরে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষকের রুমের সামনে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের ভিড়। অনেক শিক্ষার্থী লজ্জায় মাথায় টুপি অথবা ক্যাপ দিয়ে মাথা ঢেকে রেখেছে।
অভিভাবকরা জানিয়েছেন, যেসব শিক্ষার্থী ছয় সাত বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে তাদের ফরম পূরণ করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, স্যারদের সব শর্ত মানার পরও হয়রানি করা হচ্ছে। অতিরিক্ত টাকা নিয়ে ৭ বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফরমও পূরণ করা হয়েছে। ন্যাড়া করার ব্যাপারে সাংবাদিকদের বললে স্কুল থেকে বহিষ্কারের হুমকি দেয়া আছে।
জানতে চাইলে এ বিষয়ে শিক্ষক জামাল হোসেন বলেন, আমি এমন নির্দেশ দিইনি। তারা নিজেরাই চুল কেটেছে। আমি এর কিছুই জানি না।
এ ব্যাপারে একাডেমির অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ আবদুল গাফফার (ইনচার্জ) বলেন, এমনটি হওয়ার কথা নয়। আমি বিষয়টি দেখছি। এরপর আর কোনো প্রশ্নের জবাব না দিয়েই রুম থেকে বেরিয়ে যান অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ আবদুল গাফফার।
ইকরাম চৌধুরী/এএম/জেআইএম