গাইবান্ধার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো চালাচ্ছে এমএলএসএসরা
গাইবান্ধায় জনবল সংকটের কারণে গ্রামের সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয় ফার্মাসিস্ট ও এমএলএসএসরা।
জেলায় ৫৬টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। এরমধ্যে মান উন্নীত করা হয়েছে ২৫টি ও উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে রুপান্তর করা হয়েছে ১৩টি।
সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত কেন্দ্রগুলো খোলা থাকার নিয়ম হলেও সকাল সাড়ে নয়টার পর এসে দুপুর একটা থেকে দেড়টার মধ্যেই বন্ধ করা হয়।
সরকার ২৪ ঘণ্টা রোগীদের সার্বক্ষণিক সেবা দিতে আবাসিক ভবন তৈরি করে দিলেও দীর্ঘদিন থেকে না থাকায় ভবনগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পরেছে। আবার থাকার উপযোগী ভবনগুলোতেও থাকেন না স্যাকমো ও এফডাব্লিউভি। ফলে এসব ভবনও ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। গাইবান্ধার সাত উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে এসব চিত্র।
গত ২৮ অক্টোবর দুপুর ১২টায় ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া, দেড়টায় উড়িয়া ও সোয়া দুইটায় উদাখালি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলো বন্ধ দেখা যায়। এসব স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসকদের থাকার জন্য আবাসিক ভবন থাকলেও দীর্ঘদিন না থাকায় সেসব এখন ভূতুরে ঘরে পরিণত হয়েছে। ঘরের টিনের চালা, দরজা-জানালা ভেঙে গেছে। ময়লা-আবর্জনায় ভর্তি হয়ে আছে মেঝে। নেই কোনো সীমানা প্রাচীরও। ফলে বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হয়ে যাচ্ছে।
এছাড়া ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্ব পাড়ে রয়েছে এরেন্ডাবাড়ি, ফজলুপুর ও ফুলছড়ি ইউনিয়ন। এই তিনটি ইউনিয়নের মধ্যে এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে কঞ্চিপাড়ার স্যাকমোকে শনিবার করে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এইদিন দুপুর ১২টায় কঞ্চিপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের সামনে পাঁচমিনিট দাঁড়িয়ে থাকতেই এমএলএসএস জাহাঙ্গীর আলম এসে কেন্দ্র খুললেন। এখানে শুধু ফার্মাসিস্ট পদটি শুন্য রয়েছে।

গত ২৯ অক্টোবর দুপুর সোয়া দুইটায় জামালপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র বন্ধ পাওয়া যায়। এখানে ছবি তোলার সময় বড় জামালপুর গ্রামের নাজমা বেগম (৪০) এসে অভিযোগ করেন, ২০ দিন আগে এই ক্লিনিকের একজনের কাছ থেকে হাতে টিকা দেয়ার পর ইনফেকশন হয়ে ওই স্থানটি ফুলে যায় ও পরে ঘা হয়। পরে আমাকে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। এক হাজার টাকা সুদের উপর নিয়ে ওষুধ খেয়েছি। যে ওষুধ লিখে দিয়েছে সে ওষুধও আমি এখান থেকে পাইনি। বিষয়টি স্যাকমোকে বলেও কোনো প্রতিকার পাইনি।
গত ৩০ অক্টোবর দুপুর সোয়া ১২টায় খোর্দ্দকোমরপুর কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সীমানা প্রাচীর নেই। আবাসিক কক্ষগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ভেতরে ঢুকেই বোঝা গেল এখানে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। তারা সিগারেটের প্যাকেটসহ বিভিন্ন কিছু ফেলে রেখে গেছেন। পার্শ্ববর্তী বাড়ির মানুষ একটি কক্ষে খড়ি রেখেছেন। টিউবওয়েলটিও নেই এখানে। আর জন্ম নিয়েছে বিভিন্ন ধরনের আগাছা।
এই কেন্দ্রে কর্মরত রয়েছেন স্যাকমো নীহার রঞ্জন পাল ও আয়া মনজিলা খাতুন। আর অন্য পদগুলো শুন্য রয়েছে। তালুক হরিদাস গ্রামের ইদ্রিস আলী (৩৫) বলেন, কেন্দ্রটি চালু হওয়ার পর কয়েক বছর আবাসিকে চিকিৎসক থাকায় ২৪ ঘণ্টা সেবা পাওয়া গেছে। কিন্তু এখন না থাকার কারণে ভবনটি নষ্ট হয়ে গেছে। এই ভবনে নিয়মিত এখন মাদকসেবীরা নেশাগ্রহণ করে থাকে।
গত ২৭ অক্টোবর দুপুরে সদর উপজেলার ধুতিচোরা গ্রামের বাসিন্দা সাহেব উদ্দিন (৫৯) অভিযোগ করেন, মাস দুয়েক আগে সোমবারের দিন দুপুর ১টার দিকে আমার নাতি সৌরভ মিয়ার বগলের নিচে বাঁশ দিয়ে আঘাত পেয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। কিছুতেই থামানো যাচ্ছিল না রক্ত। পরে গিদারী কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখি সেটি বন্ধ। পরে বাধ্য হয়ে বাজারে ফার্মেসিতে গিয়ে চিকিৎসা করাতে হয়েছে। ঘরের সঙ্গে চিকিৎসা কেন্দ্র থেকেও আমি সেবা পেলাম না। সেই ঘা সারতে একমাস লেগেছে। সে বাবদ প্রায় ৭ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এখানে ডাক্তারদের থাকার জন্য আবাসিক ব্যবস্থা থাকলেও তারা থাকেন না। মানুষ সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। অপরদিকে সরকারের লাখ লাখ টাকার সম্পদ ব্যবহার না করার ফলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এরপর ৩০ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে পৌনে দশটা পর্যন্ত সাহাপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের কেউই আসেননি। কেন্দ্র চত্বরে জমে আছে পানি। ভবন মেরামতের কাজ করছেন শ্রমিকরা। এই কেন্দ্রের আবাসিকে শুধু আয়া রাশিদা বেগম থাকেন। এই কেন্দ্রের আরও একটি নতুন কক্ষ নির্মাণ ও তিনটি টয়লেট বাড়ানো হয়েছে। এখন চলছে টাইলস বসানোর কাজ। এছাড়া আবাসিকে একটি টয়লেট মেরামত ও টাইলস বসানো হচ্ছে নতুন করে। তুলসীঘাট গ্রামের কৃষক আবদুস সাত্তার (৬৫) বলেন, এসব কেন্দ্র যখন শুরু হয় তখন আবাসিকে চিকিৎসক থাকায় কেন্দ্রে যেকোনো সময় গিয়ে সেবা পাওয়া যেত। কিন্তু এখন পাওয়া যায়না।
গত ১ নভেম্বর সকাল সাড়ে নয়টায় খোলাহাটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র তখনও খোলা হয়নি। আবাসিকে থাকার কক্ষের দরজা খোলা। ভেতরে বিভিন্ন ধরনের আগাছা জন্মেছে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় কক্ষগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কক্ষগুলোর পরিবেশ দেখে বোঝা যায় মাদকসেবীরা এখানে নিয়মিত মাদক সেবন করে। সেখানে দাঁড়িয়ে থেকে ছবি তোলার পাঁচ মিনিট পর এসে অফিসের দরজা খুললেন অফিস সহকারী মো. মানিকুজ্জামান। এখানে প্রায় আধা ঘণ্টা কথা হয় তার সঙ্গে।
মানিকুজ্জামান জানান, স্যাকমো বদলি হয়েছেন চলতি বছরের মার্চ মাসে। অনেকদিন থেকে নেই ফার্মাসিস্টও। এফডাব্লিউভি ফেরদৌসি আক্তার সপ্তাহে দুইদিন গ্রামগুলোতে পরিদর্শনে গেলে তখন এখানকার চিকিৎসা সেবা বন্ধ থাকে। এখানে কেটে গেলে ড্রেসিং ও সেলাই করা হয়না। টিউবওয়েলের পানিতে আয়রন, টয়লেট ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পরেছে সেজন্য অন্যের বাড়িতে যেতে হয়।

গত ৩০ অক্টোবর সকাল সোয়া ১০টায় পলাশবাড়ী উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রের প্রাচীর নেই। মাঠে গরু বাঁধা রয়েছে। গেটে তালা দেয়া আবাসিক কক্ষগুলো জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কেন্দ্রে তখনও এসে পৌঁছাননি ফার্মাসিস্ট আমিনুল ইসলাম। আর স্যাকমো সাহিদা বেগম ছুটিতে রয়েছেন। চিকিৎসক না থাকায় আয়া আইভি আকতার দায়িত্ব পালনে রয়েছেন।
তিনি বলেন, স্যাকমো ও ফার্মাসিস্ট সকাল ১১টার মধ্যে অফিসে আসেন। আবার দুপুর দুইটার মধ্যে চলে যান। এখানে রোগীদের ব্যান্ডেজ ও সেলাই করা হয়না। শুধুমাত্র ড্রেসিং করে দেয়া হয়।
একইদিন বিকেল চারটায় মহদীপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, চারপাশে সীমানা প্রাচীর থাকলেও গেট দিয়ে চলাচল করা হয়না। কেননা গেটের সামনেই রয়েছে একটি রাইসমিল। তাই এই গেটটি ব্যবহার করা হয়না। তার বদলে দেয়াল ভেঙে অন্য স্থান দিয়ে চলাচল করতে হয়। কেন্দ্রটিতে বিদ্যুৎ নেই, নেই বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত অফিস করার নিয়ম থাকলেও কেউই নিয়মমতো অফিস করেন না। ফলে অনেক দূরে থেকে মহিলারা এসে ফেরত যান।
গত ১ নভেম্বর সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, দোতলা ভবনের নিচতলার অফিস কক্ষের দরজা খোলা। ভেতরে কাউকে দেখতে পাওয়া গেল না। এখানে দাঁড়িয়ে থাকার পাঁচ মিনিট পর এলেন এমএলএসএস জিয়াউল হক। এফডাব্লিউভি না থাকলে তিনি এখানে রোগীদের চিকিৎসা দেন। না পারলে অন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলেন।
জিয়াউল হক জানান, বদলির কারণে এখানে স্যাকমো নেই চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে। এফপিআই, ফার্মাসিস্ট ও আয়া পদ শুন্য রয়েছে এখানে। পরিবার কল্যাণ পরিদর্শক মর্জিনা বেগম বেশির ভাগ সময় গ্রামগুলোতে গিয়ে দায়িত্ব পালন করেন। দোতলায় এফডাব্লিউভির থাকার কথা থাকলেও তিনি না থাকায় একটি কক্ষ ভাড়া দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এফডাব্লিউভি না থাকলে এখানে আমাকে রোগীদের অসুখের কথা শুনে ওষুধ দিতে হয়। এছাড়া আমাকে সপ্তাহে একদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে নাইট ডিউটি করতে হচ্ছে। এখানে চিকিৎসা নিতে আসা উত্তর সমস গ্রামের কৃষক সবুজ মিয়া (৩২) বলেন, প্রায় দুই মাস থেকে জ্বর, ভালো হয় আবার আসে। প্রসাবের রং হলুদ, এলার্জির কারণে কষ্ট পেতে হচ্ছে। ডাক্তার না থাকায় এখানে এসে চিকিৎসা পাওয়া যায়না। বাড়ির কাছে স্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকলেও সেবা পেলাম না।
জিয়াউল হকের মতো এমএলএসএস পদে কর্মরত আতাউর রহমান কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে রোগীদের রোগের কথা শুনে ওষুধ দেন। তিনি আবার প্রতি মঙ্গলবার রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে নাইট ডিউটি করেন। এখানকার আয়া মোর্শেদা বেগম ডিউটি করেন শ্রীপুর ইউনিয়নের এফডাব্লিউভির সঙ্গে। গ্রামগুলোতে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি তার সঙ্গে থাকেন।
গত ২ নভেম্বর বেলা পৌনে ১১টায় সাঘাটা উপজেলা পদুমশহর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র বন্ধ দেখতে পাওয়া যায়। সেখানকার দোতলা ভবনের জানালার বেশির ভাগই গ্লাস ভাঙ্গা। নিচতলার একটি কক্ষে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে কিছু আসবাবপত্র। কেন্দ্রটির দরজার সামনে ও আশেপাশে অসংখ্য সিগারেট ও দেয়াশলাইয়ের কাঠি পরে রয়েছে। এখানে কয়েকজন যুবক সিগারেট খাচ্ছিল। এই কেন্দ্র চত্বরে নিয়মিত জুয়ার আসর বসে। এই কেন্দ্রটি এলাকায় মাদকসেবীদের নিরাপদ স্থান বলে চিহ্নিত। বেশ কয়েকবার পুলিশ এসেও হানা দিয়েছিল এখানে। বাইরে টয়লেটটি ব্যবহারের অনুপযুক্ত। সীমানা প্রাচীর দেয়া থাকলেও ভবনটির গেট খোলা থাকে ২৪ ঘণ্টা। দোতলায় আবাসিকে কেউ থাকে না। ফলে বাইরে থাকা টিউবওয়েলটি চুরি হয়ে গেছে অনেকদিন আগেই।
এই কেন্দ্রের এমএলএসএস মগবুল হোসেনকে বেলা সোয়া ১১টায় পাওয়া যায় বোনারপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে। তিনি উপজেলায় এসেছিলেন বেতনের টাকা তুলতে। পরে এখানে এসে কাটান কিছু সময়।
মগবুল হোসেন জানান, পদুমশহর কেন্দ্রে স্যাকমো নেই তিন মাস থেকে। এফডাব্লিউভি ফরিদা পারভীন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন মুক্তিনগর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে। তিনি সেখানে যান ২ দিন, পদুমশহরে বসেন দুইদিন ও গ্রামগুলোতে দায়িত্ব পালন করেন দুইদিন। ফলে শুধুমাত্র সপ্তাহে দুইদিন অসুখে চিকিৎসা পায় পদুমশহর ও মুক্তিনগর কেন্দ্রে আসা রোগীরা। এখানে ফার্মাসিস্ট নেই। আয়া কাজ করেন সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। আবাসিকের কক্ষগুলো ভালো থাকলেও কেউ থাকে না। পানির মোটর নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। এ ছাড়া পানিতে প্রচুর আয়রন রয়েছে।
গত ৪ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাই ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ৪ জন রোগী বসে আছেন। এদের মধ্যে একজন মোছা. বেগম বলেন, ১৫ দিন থেকে আমার কানে ব্যথা, কান চুলকায়, চুলকালে আঠা বেরে হয়। এখানে থেকে ওষুধ খেয়ে ব্যথা সেরেছে। কিন্তু চুলকানি ও আঠা বের হওয়া ভালো হয়নি। সঙ্গে আমার দুই নাতি-নাতনিরও পাঁচদিন থেকে জ্বর ও কাশি। হাতে টাকা না থাকায় ওষুধ কিনে খাওয়াতে পারিনি। তাই এখানে এসেছি ওষুধ নিতে। এসে আধাঘণ্টা থেকে বসে আছি। কিন্তু ডাক্তার এখনও আসেনি।
এই কেন্দ্রের স্যাকমো খালেকুজ্জামান টিপু ও এমএলএসএস নজরুল ইসলাম তখনও এসে কেন্দ্রে উপস্থিত হননি। এখানে এফডাব্লিউভি ও ফার্মাসিস্ট পদ দুইটি শুন্য রয়েছে। কেন্দ্রে আয়া নুরজাহান বেগম একাই ছিলেন। তিনি লোকমারফত খবর পাঠালে দশ মিনিট পর আসলেন স্যাকমো খালেকুজ্জামান টিপু। এই কেন্দ্রের আবাসিক ভবনটির দুরাবস্থা। উপরে টিনের চালা ভেঙে গেছে। ঘরের ভেতরে ও ফাঁকা জায়গাগুলোতে আগাছা জন্মেছে। কক্ষের দরজা-জানালাগুলো ভেঙে গেছে। এসব কক্ষের পরিবেশ দেখে বোঝা যায় মাদকসেবীরা নিরাপদ জায়গা মনে করে এখানে মাদকগ্রহণ করে থাকে। বাইরে থাকা টয়লেট ব্যবহারের অযোগ্য।
এসব বিষয়ে গাইবান্ধা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক দেওয়ান মোর্শেদ কামাল জাগো নিউজকে বলেন, জনবল সংকটের কারণে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। সঠিকভাবে চিকিৎসা সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার জনবল চেয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। এছাড়া কচুয়া কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য রাস্তা তৈরির চেষ্টা করা হবে। এ ছাড়া এমএলএসএস কোনোভাবেই কোনো রোগীকে ওষুধ দিতে পারে না। এটা নিয়ম বহিঃর্ভুত। এছাড়া স্যাকমো ও এফডাব্লিউভিদের আবাসিকে থাকার জন্য নতুন নিয়ম চালু হচ্ছে। ধীরে ধীরে অকেজো আবাসিক ভবনগুলো মেরামত করা হবে।
রওশন আলম পাপুল/এমএএস/এমএস