ডিমলায় ভারতের জন্য নিবন্ধন বাতিলের দাবি ২ হিন্দু পরিবারের


প্রকাশিত: ০৩:১৭ পিএম, ১৪ জুলাই ২০১৫

ওপারে (ভারত) যাওয়ার জন্য জনগণনায় নিবন্ধন করে এখন হা-হুতাশ করছেন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার অভ্যন্তরে থাকা ৩১ নম্বর নগর জিকাবাড়ি ছিটমহলের বাসিন্দা দুই হিন্দু পরিবারের ৯ সদস্য। মঙ্গলবার এ দুই পরিবার জরিপকারীদের কাছে ছুটে গিয়ে ওপারে যাওয়ার নিবন্ধন বাতিল করে বাংলাদেশের নাগরিকত্বের জন্য নতুন করে নিবন্ধনের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে ওই দুই হিন্দু পরিবারের সদস্যরা তাদের ভারতে যাওয়ার নিবন্ধন বাতিল করা না হলে আত্মহত্যার কথা বলছেন।

সংশ্লিষ্ট ছিটমহল জনগণনাকারীদের সূত্রে জানা যায়, ওই ছিটমহলের অতুল চন্দ্র রায়ের তিন ছেলের  মধ্যে ভরত চন্দ্র রায় (৪৭), তার স্ত্রী গীতা রানী (৪২), তিন ছেলে সুশান্ত (১৪),  জয়ন্ত (১২), শুভ (৬) গত ১১ জুলাই এবং সনাতন চন্দ্র রায় (৩৪) তার স্ত্রী মিনতী রানী (৩০), দুই মেয়ে সূর্বণা (১২) ও বন্যা ১৩ জুলাই ভারতের নাগরিকত্বের জন্য নিবন্ধন করেন। অপর দিকে এই দুই জনের বড় ভাই রঞ্জিত কুমার রায় (৫০), তার স্ত্রী জয়ন্তী রানী (৪৫) এবং ছেলে প্রশান্ত চন্দ্র রায় ১৪ জুলাই বাংলাদেশের নাগরিকত্বের জন্য নিবন্ধন করেন। এই নিববন্ধনের আগে তারা ভারতের নাগরিকত্বে কি, কি সুযোগ সুবিধা পাবেন তা জানতে চেয়েছিলেন।

এ নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তার সূত্র ধরে গত ১১ জুলাই সকালে ওই হিন্দু পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলতে আসেন বাংলাদেশ রাজশাহীস্থ ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার সন্দ্বীপ মিত্র। সেদিন দুপুরেই এই পরিবারগুলোর মধ্যে ভরত চন্দ্র রায় ভারতের নাগরিকত্বের জন্য নিবন্ধন করেছিলেন। তার একদিন পর নিবন্ধন করেন সনাতনের পরিবার।

মঙ্গলবার সকাল থেকে ওই দুই পরিবার তাদের ভারতে যাওয়া নিববন্ধন বাতিল করে বাংলাদেশের নাগরিকত্বের জন্য জনগণনাকারীদের কাছে ছুটে যান। বিষয়টি নীলফামারী জেলা প্রশাসক জাকীর হোসেন এবং ডিমলা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিমের দৃষ্টিগোচরে আনা হয়।

ভরত চন্দ্র সাংবাদিকদের জানান, তিনি কলা বিক্রি করে সংসার পরিচালনা করেন। কিছু না বুঝেই হুট করে পরিবারকে ভারতের যাওয়ার জন্য নিবন্ধন করি। এখন সেই হটকারি সিদ্ধান্তটির ভুল বুঝতে পেরে এটি বাতিলের জন্য আবেদন করছি। তিনি জানান, তার স্ত্রী ও সন্তানরা কেউ ওপারে যেতে রাজি নন। তারা কান্নাকাটি করছে এবং বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করবে বলে নাওয়া খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

অপরদিকে, সনাতন রায় জানান, তিনিও কলা বিক্রি করেন। ভারতের নিবন্ধন বাতিলের বিষয়ে কী করতে কী করলাম বুঝতে পারিনি। আমার মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সূবর্ণা বাংলাদেশে থাকতে চায়। এখন মেয়ের কথা অনুযায়ী আমরাও বাংলাদেশে থাকবো। আমাদের ভারতের যাওয়ার নিবন্ধন বাতিল না হলে জান প্রাণের বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

নীলফামারী জেলা প্রশাসক জাকীর হোসেন বলেন, বিষয়টি জেনেছি এবং এটি সমাধান করা হবে। এদিকে এ ব্যাপারে বাংলাদেশ রাজশাহীস্থ ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার সন্দ্বীপ মিত্রের সঙ্গে কথা হলে তিনি জাগো নিউজকে মুঠোফোনে জানান, সমস্যা হলে সমাধানের পথও আছে। এমন সমস্যা পঞ্চগড় ও লালমনিরহাট জেলায় হয়েছিল। সেখানেও ভারতে যাওয়ার জন্য নিবন্ধনের পরে সেটি বাতিল করে বাংলাদেশের নাগরিকত্বের আবেদন করেছিলেন।  তাদের সেটি পরিবর্তন করে সমাধান করে দেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ৬ জুলাই থেকে জনগণনা নীলফামারীর চারটি ছিটমহলে এ পর্যন্ত ১১৬টি পরিবারের ৫২০ জন সদস্য নিবন্ধন করেছেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১৬২টি ছিটমহলের যৌথ জনগণনা গত ৬ জুলাই থেকে শুরু করা হয়। যা চলবে আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত।

জাহেদুল ইসলাম/এমজেড/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।