মাওলানা সা’দকে নিয়ে বিতর্কের অবসান চান তাবলীগ মুরুব্বিরা
তাবলীগ জামাতের বিশ্ব আমির মাওলানা সা’দ এর টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমায় যোগদানকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কের দ্রুত অবসান চেয়েছেন বাংলাদেশের তাবলীগ জামাত নেতৃবৃন্দ। এ ব্যাপারে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।
রোববার দুপুরে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের টঙ্গী অঞ্চল কার্যালয় চত্বরে বিশ্ব ইজতেমার ফলো-আপ সভায় বিশ্ব ইজতেমার শীর্ষ মুরুব্বিরা এ দাবি জানান।
সভায় তাবলীগ জামাতের ও বিশ্ব ইজতেমার মুরুব্বি সাবেক রাষ্ট্রদূত ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় যদি ভারতের মাওলানা সা’দ সাহেব না আসেন, তবে এটা বিশ্ব ইজতেমা থাকবে না। এটা হবে আমাদের স্থানীয় ইজতেমা, পাকিস্তানি ম্যানেজড ইজতেমা। এটা হবে বাংলাদেশি ইজতেমা, বিশ্ব ইজতেমা হবে না। কারণ অনেক বিদেশি ও দেশের মুসল্লিরা জানিয়েছেন- সাদ সাহেব যদি বিশ্ব ইজতেমায় অংশ না নিতে পারেন তবে তারা এ ইজতেমায় অংশ নেবেন না। এটা পাকিস্তানিদের একটা চাল। এ ব্যাপারে তিনি সরকার তথা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চেয়েছেন। এছাড়া বিদেশি মুসল্লিদের জন্য অন অ্যারাইভাল ভিসার মেয়াদ ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে চক্রান্ত হচ্ছে। বিশ্ব ইজতেমা সরিয়ে নিতে পাকিস্তানিরা আমাদের দেশের একটি পক্ষকে এ কাজে ইন্ধন দিচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবু বকর সিদ্দিক ইজতেমার মুরুব্বিদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের কথা থেকে মনে হচ্ছে, তাবলীগের শুরা মুরুব্বিদের মধ্যে আপনাদের যোগাযোগের গ্যাপ আছে। মন্ত্রী মহোদয় শনিবার তাবলীগের শুরা সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। ইজতেমার মুরুব্বিদের দাওয়াত তো আপনারা দিয়েছেন। দাওয়াতে কে আসবে না আসবে সেটাতো আপনাদের মুরুব্বিদের ব্যাপার। এ ব্যাপারে তিনি মুরুব্বিদের সঙ্গে আলোচনা করে ফয়সালার অনুরোধ জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সাল থেকে টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। মাঠে মুসল্লিদের স্থান সংকুলান না হওয়ায় ২০১১ সাল থেকে টঙ্গীতে দুই পর্বে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম বছর যারা (যে ৩২ জেলার মুসল্লি) টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নেবেন তারা পরবর্তী বছর সেখানে যাবেন না। ওই বছর এসব জেলার মুসল্লিরা নিজ নিজ জেলায় আঞ্চলিক ইজতেমায় শরিক হবেন। ২০১৫ সাল থেকে প্রতিবছর টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা পাশাপাশি জেলা জেলায় আঞ্চলিক ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আমিনুল ইসলাম/আরএআর/জেআইএম