দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোথাও ভর্তি হতে পারছে না শাহীন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৬:১৬ পিএম, ১২ জানুয়ারি ২০১৮

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ভর্তির সুযোগ পেয়েও অর্থের অভাবে লেখাপড়া বন্ধের পথে সিরাজগঞ্জের দরিদ্র শাহীন রেজার।

শাহীন রেজা সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল ইউনিয়নের জামতৈল গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে।

হতদরিদ্র পরিবার থেকে বেড়ে উঠে কোনো রকম ভর্তি পরীক্ষার কোচিং সেন্টারে ভর্তি না হয়েও নিজের চেষ্টায় শাহীন ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে জাবিতে সি-ইউনিটে কলা ও মানবিক অনুষদে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এতে সে মেধা তালিকায় ১২৩তম স্থান অর্জন করে ইতিহাস বিভাগে মনোনীত হয়।

একই শিক্ষাবর্ষে রাবিতে এ-ইউনিটে কলা ও মানবিক অনুষদে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে মেধা তালিকায় ৮৯তম স্থান অর্জন করে এবং ডি-ইউনিটে বাণিজ্য অনুষদের অধীনে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে মেধা তালিকায় ২২তম স্থান অর্জন করে ফাইন্যান্স বিভাগে মনোনীত হয়। এতো সাফল্য অর্জন করলেও অর্থাভাবে বন্ধের পথে শাহীনের লেখাপড়া।

শাহীন জামতৈল ধোপাকান্দি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০১১ সালে জেএসসি পরীক্ষা ও ২০১৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে গোল্ডেন জিপিএ-৫ লাভ করে বৃত্তিপ্রাপ্ত হয়। এরপর থেকে ডাচ বাংলা ব্যাংকের আর্থিক সহযোগিতায় লেখাপড়া চলে আসছিল তার। কিন্তু ২০১৬ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় জন্ডিস ও টাইফয়েডে অসুস্থ থাকায় তার পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় ফলাফল দাঁড়ায় জিপিএ-৪.৫৮। এ কারণে ডাচ বাংলা ব্যাংকের আর্থিক সহযোগিতা থেকে ছিটকে পরে শাহীন।

শাহীনের মা শামসুন্নাহার বলেন, শাহীনের বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে আমার দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে খুব কষ্টে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছি। শাহীনকে এতোদিন খুব কষ্ট করে লেখাপড়া করিয়েছি। কিন্তু বর্তমান সংসারের যে অবস্থা তাতে লেখাপড়া করাবো কি, সংসারই চলে না।

এ বিষয়ে শাহীন রেজা বলেন, আমার খুব ইচ্ছা লেখাপড়া করে জনগণের পাশে দাঁড়াব। প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে আমার লেখাপড়া নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় রয়েছি।

শাহীনের ডাচ-বাংলা ব্যাংক বৃত্তির সিরিয়াল নম্বর-১৭৯৮ (এসএসসি-২০১৪)। শাহীনের মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে ০১৭০০৬৬৭৪৪৪ নম্বরে।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এমএএস/জেডএ

আপনার মতামত লিখুন :