প্রত্যাবাসনে রোহিঙ্গাদের সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে : ইয়াং হি লি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৬:৩২ পিএম, ২১ জানুয়ারি ২০১৮

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের দেখতে টেকনাফের পর উখিয়ায় এসেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াং হি লি।

রোববার দুপুরে বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসে বিভিন্ন ব্লক ঘুরে দেখেন তিনি। এ সময় তিনি আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থাসহ (আইওএম) ও দাতা সংস্থার অফিসে বসে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেন এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন ইয়াং হি লি। তবে ইয়াং হি লি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় বা পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি।

উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রোহিঙ্গা সর্দার লালু মাঝি বলেন, ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় ইয়াং হি লি জানতে চেয়েছেন আমরা মিয়ানমারে ফেরত যাব কি-না। উত্তরে আমরা বিভিন্ন শর্তের কথা জানিয়েছি। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

বালুখালী ক্যাম্পের মাঝি আয়ুব আলী বলেন, একসঙ্গে আমরা ৩০ জন রোহিঙ্গা ইয়াং হি লি’র সঙ্গে কথা বলেছি। সবাই প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে রোহিঙ্গাদের যৌক্তিক দাবি-দাওয়া তুলে ধরেছি। তিনি আমাদের ধৈর্য ধরতে বলেছেন।

পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে ছিলেন- উখিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাইলাউ মারমা, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান ও উখিয়া থানা পুলিশের ওসি মো. আবুল খায়ের প্রমুখ।

এর আগে শনিবার টেকনাফের নয়াপাড়া ও রইক্ষ্যং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন ইয়াং হি লি। তিনি বুধবার রাতে ঢাকায় পৌঁছান এবং শুক্রবার দুপুরে কক্সবাজার আসেন।

চলতি মাসে তার মিয়ানমার সফরের কথা থাকলেও সে দেশের নিষেধাজ্ঞার কারণে তিনি মিয়ানমারের পরিবর্তে বাংলাদেশে সফরে আসেন। এবার সাত দিনের সফরে ৫ দিন বাংলাদেশে থেকে ২৪ জানুয়ারি থাইল্যান্ড সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে তার।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এ দেশে আসতে শুরু করে রোহিঙ্গারা। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ আগস্টের পর প্রায় ৬ লাখ ৭২ হাজার ৯৫০ জন রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে এসেছে।

এসব রোহিঙ্গাকে টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শিবিরে রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা এখন বাংলাদেশে রয়েছে।

সায়ীদ আলমগীর/এএম/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :