কাদেরকে ছাড়াই হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাত্রলীগের সম্মেলন
অবশেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে ছাড়াই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের বহুল কাঙ্ক্ষিত সম্মেলন। আগামীকাল শুক্রবার জেলা শহরের জাতীয় বীর আবদুল কুদ্দুস মাখন মুক্তমঞ্চে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
ওবায়দুল কাদের সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে সম্মেলন ‘ঝুলে’ থাকলেও এবার তাকে ছাড়াই সম্মেনের প্রস্তুতি নিয়েছে বর্তমান মোয়াদোত্তীর্ণ কমিটি। ওবায়দুল কাদেরের বদলে সম্মেলনে প্রধান অতিথি থাকছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২০১৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি মাসুম বিল্লাহ্কে সভাপতি ও রাসেল মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের ২৮ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। এক বছর মেয়াদী এই কমিটি তাদের ১৭৩ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে সময় নেয় আরও দুই বছর।
গেল বছর সম্মেলন নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়। ওই বছরই প্রথমে ১১ জুলাই এরপর ১৬ সেপ্টেম্বর এবং সর্বশেষ ২১ অক্টোবর সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করে দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। তবে বার বার তারিখ নির্ধারিত হলেও সম্মেলন আর হয়নি। সর্বশেষ তারিখ পেছানোর কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সম্মেলনে প্রধান অতিথি থাকবেন।
যদিও জেলার এক প্রভাবশালী সাংসদের কারণেই এতদিন সম্মেলন ‘ঝুলে’ ছিল বলে একাধিক সূত্রে জানিয়েছে। এর ফলে যথাসময়ে সম্মেলন না হওয়ায় এক বছরের জন্য গঠিত কমিটি দিয়েই গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলছে জেলা ছাত্রলীগের সব কার্যক্রম।
তবে চতুর্থবারের মতো তারিখ নির্ধারণের পর ফের আশা জাগে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভাতৃপ্রতীম এ সংগঠনটির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মাঝে। যদিও নির্দিষ্ট সময়ে সম্মেলন না হওয়ায় নতুন কমিটিতে পদ প্রত্যাশীদের মধ্যে অনেকেরই বয়স পেরিয়ে গেছে। অনেকে আবার ছাত্রত্বও হারিয়েছেন। তারপরও আশায় বুক বেঁধে আছেন তারা।
এদিকে সম্মেলনকে ঘিরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় এখন শোভা যাচ্ছে প্রার্থীদের রঙিন পোস্টার। প্রতিদিনই প্রার্থীদের সমর্থনে শহরে মিছিল বের করছেন কর্মী-সমর্থকরা। সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী তালিকায় নাম লিখিয়েছেন ডজন খানেক নেতা। এদের কেউ কেউ বর্তমান কমিটিতেও রয়েছেন।
সভাপতি প্রার্থী হিসেবে জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সহ-সভাপতি মিনহাজ উদ্দিন মামুন, আকরামুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম আপন, মেহেদী হাসান লেনীন, মো. মোমিন মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল হোসেন, ঢাকা মহানগর (উত্তর) ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি রিদোয়ান আনসারী রিমো ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন শোভনের নাম শোনা যাচ্ছে।
এছাড়া সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে জেলা ছাত্রলীগের মোয়াদোত্তীর্ণ কমটিরি সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন, সুজন দত্ত, দফতর সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, শহর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মিকাঈল হোসেন ও জহিরুল ইসলামের নাম শোনা যাচ্ছে।
তবে এসব প্রার্থীদের মধ্যে কয়েকজন প্রার্থী ছাত্রত্ব হারিয়েছেন বহু আগে। তাছাড়া কোনো-কোনো প্রার্থীর নামে অস্ত্র আইন ও ভাঙচুরসহ নানা অপরাধের অভিযোগে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
সম্মেলনের ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল হোসেন রুবেল জাগো নিউজকে বলেন, সম্মেলনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। শান্তিপূর্ণভাবেই সম্মেলন সম্পন্ন হবে বলে আমরা আশা করছি। তবে সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ততার কারণে ওবায়দুল কাদের এবারও আমাদেরকে সময় দিতে পারেননি।
আজিজুল সঞ্চয়/এফএ/আরআইপি