ধুলাময় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দুর্ভোগ

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশিত: ০৫:১০ পিএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বেশির ভাগ অংশ দেখে চেনার উপায় নেই এটি মহাসড়ক নাকি গ্রামীণ সড়ক। মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ক্যাডেট কলেজ থেকে জামুর্কী পর্যন্ত মহাসড়কটি চার লেন উন্নীত করণ কাজ চলায় বিভিন্ন স্থানে ধুলার সৃষ্টি হচ্ছে। ধুলার কারণে মহাসড়টিতে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলছে। ফলে এ মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহন ও যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে চরম বিপাকে।

এছাড়া প্রতিনিয়তই সড়কে যানবাহন বিকল হওয়াসহ ঘটছে দুর্ঘটনা। মহাসড়কের আশপাশের ঘর-বাড়ি, দোকান আর গাছপালাও এখন ধুলায় ছেয়ে গেছে। সড়কটি দিয়ে চলাচলের সময় ধুলায় কিছুই দেখা যায় না এমনকি নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হয় চালক ও যাত্রীদের। তাছাড়া মহাসড়ক সংলগ্ন স্কুলে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করা ও মসজিদে নামাজ আদায় করা কষ্টের হয়ে দাঁড়িয়েছে।

jagonews24

সড়কের পাশে বসবাসকারীরা জানান, এ সমস্যা আজকের নয়। টানা দুই বছর ধরে চলছে। মহাসড়কের উন্নয়নের কাজ শুরু করা হলেও তা অনিয়মতান্ত্রিভাবে চলছে। ফলে সড়কের পাশে থাকা দোকানি ও বাড়ির মানুষদের অবস্থা খুবই খারাপ। এছাড়া সড়কের পাশের বেশির ভাগ পরিবারের সদস্যরা শ্বাসকষ্টসহ নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানা গেছে। মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে নাম মাত্র পানি দিয়ে ভিজিয়ে সাময়িক সময়ের জন্য ধুলা নিবারণ করলেও সেটা কোনো কাজে আসছে না।

টাঙ্গাইল থেকে ছেড়ে আসা বিনিময় পরিবহনের সুপারভাইজার আলম হোসেন, পিকআপ ভ্যানের চালক চঞ্চল মিয়া, পাথরভর্তি ট্রাকের চালক আল আমিন জানান, সামনে থাকা যানবাহন চলে গেলে পেছনের যানবাহনের চালক ধীর গতিতে যান চালিয়ে থাকেন। এতে সময় বেশি লাগছে। তাছাড়া ধুলার কারণে সামনে প্রায় ২৫/৩০ গজ কিছু দেখা যায় না । এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

পথচারী ও যাত্রীরা জানান, এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা এখন চরম দুর্ভোগের ব্যাপার। অসুস্থ কোনো মানুষ এ সড়কে চলাচল করলে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়বে। সড়ক দিয়ে বড় ধরনের কোনো যানবাহন গেলে ধুলায় অন্ধকার হয়ে যায় চারদিক। তাছাড়া যানবাহন চলার সময় ছোট-বড় গর্তের ঝাঁকুনিতে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে নাটিয়াপাড়া পর্যন্ত লেগুনাচালক রবিন মিয়া, আলতাফ মিয়া ও রহমান বলেন, ধুলার কারণে তাদের ঝুঁকি নিয়ে যান চালাতে হচ্ছে।

মির্জাপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে দেওহাটা পর্যন্ত ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের চালক আকবর হোসেন ও আলী মিয়া জানান, তাদের গাড়ি এমনিতেই ছোট। তারমধ্যে পর্যাপ্ত ধুলা। খুব হিসেব করে গাড়ি চালাতে হয়।

চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ থেকে আসা সুলতান আহমেদ জানান, তিনি দাতের চিকিৎসা করাতে সোমবার সকালে মির্জাপুরে আসেন। মহাসড়কে ধুলার কারণে বাসের ভেতর থাকা সবাই অস্বস্তি বোধ করেন।

jagonews24

মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, ধুলাবালির কারণে সাধরণত ফুসফুসের বিভিন্ন ধরনের রোগ হতে পারে। এছাড়া এলার্জিজনিত ঠান্ডা, কাশি, চোখের সমস্যাও হতে পারে। এ থেকে পরিত্রাণের উপায় হিসেবে মাস্ক ও সানগ্লাস ব্যবহার করা জরুরি। তাছাড়া বাসায় ফিরে নিজেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

দেওহাটা এ জে উচ্চ দ্যিালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খুরশেদ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ধুলার কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও মহাসড়ক দিয়ে চলাচলরত মানুষের নানা প্রকার সমস্যা হচ্ছে।

এ বিষয়ে মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত মির্জাপুর সড়ক উপ-বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী প্রদীপ কুমারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া হয়নি।

এস এম এরশাদ/আরএআর/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।