মাছ আকৃতির ১০ কেজি ওজনের মিষ্টি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০৫:১৪ পিএম, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০৫:২৩ পিএম, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
মাছ আকৃতির ১০ কেজি ওজনের মিষ্টি

বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলায় একশ কেজি ওজনের একটি বাঘাইড় মাছের দাম ১ লাখ ২০ হাজার টাকা হাঁকা হয়েছে। তবে মাছটি কেউ এককভাবে কিনতে পারেননি।

মাছটি পরে কেটে বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া মেলায় ২০ থেকে ৮০ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছ ও ৪ কেজি ওজনের মিষ্টি বেচাকেনা হয়েছে।

বুধবার বগুড়ার গাবতলী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলায় এসব মাছ ও মিষ্টি বিক্রি হয়। মাছ ও মিষ্টির জন্য বিখ্যাত হয়ে উঠা এ মেলায় বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে।

jagonews24

গাবতলীর চকমড়িয়া গ্রামের ভোলা মিয়া, আবুল কাশেম, লাল মিয়া, আবদুল জলিল, মোস্তাক হোসেনসহ পাঁচ-ছয়জন মাছ ব্যবসায়ী জানান, যমুনা নদীর ৮০ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছ কেটে বিক্রি করছেন ১২০০ টাকা কেজি দরে। আর ১০০ কেজি ওজনের বিশাল আকৃতির মাছটি বিক্রি হয় ১২৫০ টাকা কেজি দরে।

এছাড়া মেলায় ১৭ কেজি ওজনের বোয়াল মাছের দাম হাঁকা হয়েছে প্রতি কেজি ১৬০০ টাকা। ১৫ থেকে ১৮ কেজি ওজনের কাতলা মাছ ২২০০ টাকা কেজি। ৮ থেকে ১০ কেজি ওজনের কাতলা মাছ ১২০০ টাকা, ১০ কেজির ওপরে আইড় মাছ ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া রুই, পাঙ্গাস ও অন্যান্য মাছ ওঠেছে মেলায়।

গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের ইছামতির নদীর তীরে পোড়াদহ এলাকায় বসেছিল দুইশ বছরের পুরনো প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী এ পোড়াদহ মেলা।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বিরোধে মণ্ডল পরিবারের জমির মালিকরা এবার পোড়াদহ মেলার নির্ধারিত স্থানে আগেভাগেই বোরো ধানের চারা রোপণ করেন। ফলে বহুল আলোচিত ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে’র নামে কেনা জমিতে এবার মেলা আয়োজন করে স্থানীয়রা।

বুধবার দিনব্যাপী সেখানে মাছ ও মিষ্টির মেলা বসানো হয়। সেই সঙ্গে থাকছে নাগরদোলাসহ গ্রামীণ নানা ধরনের খেলার আয়োজন।

মেলার উদ্যোক্তাদের একজন আব্দুল কাদের। তিনি বলেন, জায়গাটি দেখার জন্য প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসছে। জায়গাটিতে এবার একদিনের জন্য মেলা আয়োজন করা হয়েছে। এ বছর সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পারলে প্রতি বছরই সেখানে মেলার আয়োজন করা হবে। তবে পোড়াদহের মেলা যেখানে বসতো তার অল্প দূরে এ মেলা বসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছরের মাঘ মাসের শেষ বুধবার আয়োজিত এ মেলা কালের বিবর্তনে হয়ে ওঠে পূর্ব-বগুড়াবাসীর মিলন মেলা। পোড়াদহ নামক স্থানে হয় বলে এ মেলার নাম হয়ে যায় পোড়াদহ মেলা। মেলাকে ঘিরে আশপাশে প্রায় ২০ গ্রামের মানুষ মেয়ে ও জামাইকে নিমন্ত্রণ দিয়ে আপ্যায়ন করে। এ কারণে স্থানীয়রা আবার এ মেলাকে জামাই-মেয়ে বলে থাকে।

মেলার জন্য ১০ কেজি ওজনের মাছের আকৃতিতে মিষ্টি তৈরি করেছেন ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ। মহিষাবান এলাকার ব্যবসায়ী লতিফের দোকানে এ মিষ্টির দাম চাওয়া হয়েছে ৪ হাজার টাকা। এছাড়া এক কেজি, দুই কেজি, ৩ কেজি, ৪ কেজি ওজনের মিষ্টিও মেলায় পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন নামে। ২০০ মণ মিষ্টি রয়েছে এ দোকানে।

jagonews24

এ মেলায় মাছ, মিষ্টি, ফার্নিচার, বড়ই, পান সুপারি, তৈজসপত্র, খেলনা থাকলেও কালক্রমে মাছের জন্য বিখ্যাত হয়ে আসছে। মেলায় নাগরদোলা, চরকি, সার্কাসসহ শিশুদের জন্য অন্যান্য খেলা চলছে।

মেলায় মাছ কিনতে আসা বগুড়া শহরের ফুলবাড়ী এলাকার ব্যবসায়ী ও তরুণ রাজনীতিবিদ রাশেদুল আলম শাওন জানান, তিনি সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ৮ কেজি ওজনের একটি কাতল মাছ প্রতি কেজি ১২০০ টাকা দরে কিনেছেন।

স্থানীয় সমাজসেবক লুৎফর রহমান সরকার স্বপন জানান, হাজার হাজার মানুষের পদচারণা হয়ে থাকে এ মেলায়। তবে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তির কারণে এবার স্বল্প পরিসরে মেলা বসেছে। এরপরও উৎসব থেমে নেই। জামাই-মেয়েসহ আত্মীয়-স্বজনদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠেছে গোটা এলাকা।

গাবতলী মডেল থানা পুলিশের ওসি খায়রুল বাসার বলেন, পোড়াদহ মেলাটি সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কোনো প্রকার জুয়া কিংবা অশ্লীল নাচ-গানের চেষ্টা হলে তা দমন করা হবে।

লিমন বাসার/এএম/আরআইপি