ভাঙাচোরা টিনের ঘরে চলছে পাঠদান

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ০৫:৫২ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

টিনের ঘরের দরজা-জানালা নেই। স্থানে স্থানে ভেঙে পড়েছে ঘরের বেড়া। মাথার ওপর একাধিক ছিদ্রযুক্ত টিনের চালা। সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার ১১৬ নং বালিয়াঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এমন শ্রেণিকক্ষে চলছে পাঠদান।

বছরের পর বছর জরাজীর্ণ ও ভাঙাচোরা টিনসেড ঘরে চলে এই পাঠদান। কোমলমতি শিশুরা ক্লাসে বসতে বাধ্য হচ্ছে। এছাড়া তাদের উপায় নেই। বার বার বলা হলেও বিদ্যালয়ের কোনো ভবন করছে না কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে হতাশ এলাকাবাসী।

জানা যায়, ১৯৭৬ সালে ৫১ শতক জমির ওপর স্থানীয় বিদ্যোৎসাহী মোকছেদ আলি শিকারী বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। কোনো রকমে বাঁশের বেড়া দেয়া ঘরে ক্লাস শুরু হয়েছিল তখন।

সবার সহযোগিতায় স্কুলটি ভালোভাবে চলার পর ১৯৯৯ সালে একটি অফিসসহ ৪ কক্ষ বিশিষ্ট একতলা বিল্ডিং নির্মাণ করা হয় সরকারিভাবে। এরপর স্বাভাবিক গতিতে চলে আসছে স্কুলটি। ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে ১২৭ জন। শিক্ষক রয়েছেন ৫ জন।

বালিয়াঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হান্নান বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় শতভাগ কৃতকার্যের পাশাপাশি এ+, ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তিও পেয়েছে বিদ্যালয়টি থেকে। কিন্তু বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় কক্ষ সংকট ও আসবাবপত্রের সংকট কাটানো সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, টিনের ঘর। দরজা-জানালা নেই। ভেঙে পড়েছে ঘরের বেড়া। মাথার ওপর একাধিক ছিদ্রযুক্ত টিনের চালা। মেঝেতে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দুই শিফটের স্কুলে প্রথম শিফটে শিশু, প্রথম, দ্বিতীয় ও ৫ম শ্রেণির ক্লাস নেয়া হয়।

দ্বিতীয় শিফটে তৃতীয়, চতুর্থ, ৫ম শ্রেণি ও অতিরিক্ত ক্লাস নেয়া হয়। এতে কমপক্ষে ৪টি কক্ষ প্রয়োজন। বাধ্য হয়ে কমিটি ও অভিভাবকরা নিজেদের অর্থে ১০ হাত প্রস্থ ও ১৮ হাত দৈর্ঘ্য একটি টিনের ঘর নির্মাণ করেন ২০১২ সালে। যেখানে ক্লাস নেয়া হচ্ছে। বর্তমানে সেটিরও ভগ্নদশা। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।

এ বিষয়ে আশাশুনি উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সামছুন্নাহার জাগো নিউজকে বলেন, যে স্কুলগুলোর ভবন সমস্যা সেগুলোর তালিকা আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। আশা করি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।

আকরামুল ইসলাম/এএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।