‘জাতিসংঘে বাংলা চাই’ নিতে হবে রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ
‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ-মরি বাংলা ভাষা! তোমার কোলে, তোমার বোলে, কতই শান্তি ভালোবাসা’। এ গর্বের ভাষায় কথা বলার জন্যই ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রাজ পথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিল সালাম-বরকত-রফিক-জব্বারসহ আরও অনেকে। এরপরই রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই স্লোগান রূপ নেয় জয় বাংলায়। জন্ম নেয় একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের। স্বীকৃতিও মিলে বাংলা ভাষার।

বাংলা ভাষায় কথা বলে ৩০ কোটিরও বেশি মানুষ। আফ্রিকার দেশ সিয়েরালিওনের দ্বিতীয় দাপ্তরিক ভাষা বাংলা। সাহিত্যে নোবেল, চলচ্চিত্রে অস্কার, অনলাইন ও অফলাইনে সর্বত্র বাংলা ভাষা এগিয়েছে অনেক।

এরপরও জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষাগুলোর মধ্যে বাংলা ভাষা অন্তর্ভুক্ত না হওয়া হতাশাজনক। তাই বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের ৭ম দাপ্তরিক ভাষা করার দাবিতে চলছে অনলাইন ভোটিং ক্যাম্পেইন। একইসঙ্গে ‘জাতিসংঘে বাংলা চাই’ দাবিতে চলছে ভোটগ্রহণ।

দেশের শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সহযোগিতায় ও জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কম-এর আয়োজনে দেশব্যাপী চলছে ‘জাতিসংঘে বাংলা চাই’ অনলাইন ভোটিং কার্যক্রম।

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বরগুনা প্রেস ক্লাবে ‘জাতিসংঘে বাংলা চাই’ স্লোগানে অনলাইন ভোটিং ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়েছে। সেইসঙ্গে একটি র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

বরগুনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন মনোয়ারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাক, বরগুনা পৌরসভার মেয়র মো. শাহাদাত হোসেন, বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিচুর রহমান, বরগুনা সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা মো. আবদুল্লাহ আল নোমান, বরগুনা প্রেস ক্লাবের সম্পাদক আবু জাফর মো. সালেহ, জেলা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর হোসেন, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক গৌরাঙ্গ শিকদার শিবু, নারী নেত্রী হোসনে আরা হাসি ও সোহেলী পারভীন ছবি প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা জাতিসংঘের ৭ম দাপ্তরিক ভাষা বাংলাকে অন্তর্ভুক্ত করার এ দাবিকে সময়োপযোগী দাবি উল্লেখ করে বলেন, বিশ্বের সব দেশে অবস্থানরত বাংলা ভাষাভাষীদের এ বিষয়ে আরও সোচ্চার হতে হবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও আরও অনেক কিছু করার আছে। নিতে হবে রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ।
মো. সাইফুল ইসলাম মিরাজ/এএম/জেআইএম