চাঁপাইনবাবগঞ্জে বেড়েছে বখাটেদের উৎপাত
চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্থানে বখাটেদের উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে স্কুল-কলেজগামী ছাত্রীদের স্বাভাবিক জীবন। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আর অজানা আতংকে দিন কাটছে অভিভাকদের। প্রকাশ্যে স্কুলগামী ছাত্রীদের বিভিন্নভাবে লাঞ্ছিত করছে বখাটেরা। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন বখাটেদের প্রতিরোধে অভিযানের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তা দেখা যায়নি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের ক্লাব সুপার মার্কেটের সামনে, গাবতলা মোড়, হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে, সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখার সমানের রাস্তা ও নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের পশ্চিম পার্শ্বের কোচিং সেন্টারের আশপাশের রাস্তায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বখাটেরা। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ক্লাব সুপুর মার্কেট, গাবতলা মোড়ের আশপাশ ও সেনালী ব্যাংক রোডে এবং বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে ৬টা পর্যন্ত কোচিং সেন্টারের সামনের রাস্তায় মোটরসাইকেলে ২-৩ জন করে বসে বেপরোয়া গতিতে চালাতে থাকে।
দুপুর পৌনে ১২টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শাখার মেয়েদের ছুটি হয় এবং আরেক শাখার মেয়েরা স্কুলে যায়। ওই সময় দলে দলে বখাটেরা স্কুল গেটের আশপাশে অবস্থান নেয়।
গতকাল শনিবার দুপুরেও স্কুল ছুটির সময় মুক্ত মহাদলের সামনে কয়েকটি মোটরসাইকেলে বসে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করতে দেখা গেছে।
এরা আগে গত ৭ মার্চ দুপুর পৌনে ১২টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ছুটির শেষে মেয়েরা বাড়ি যাওয়ার সময় ক্লাব সুপার মার্কেটের সামনে মোটরসাইকেলে থাকা তিন বখাটে মেয়েদেরকে লাঞ্ছিত করে। এ দৃশ্য দেখে সেখানে থাকা কয়েকজন সাংবাদিক চিৎকার করলে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়।
গত ৩১ জানুয়ারি পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জে নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে জেলা পুলিশের ভূমিকা’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকরা বখাটেদের উৎপাতের বিষয়টি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানকে জানালে তিনি পহেলা মার্চ থেকে ওইসব এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটা এখন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
আব্দুল্লাহ/এফএ/এমএস