অর্থ আত্মসাৎ : আমতলী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ জেলহাজতে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বরগুনা
প্রকাশিত: ০৭:২৯ পিএম, ১৩ মার্চ ২০১৮

অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার মামলায় বরগুনার আমতলী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মজিবুর রহমানকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মঞ্জুরুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে ৭ এপ্রিল আমতলী ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণের প্রজ্ঞাপন জারি হয়। ওই সময়ে কলেজ জাতীয়করণ হলেও শিক্ষক-কর্মচারী জাতীয়করণ হয়নি। পরে শিক্ষক ও কর্মচারীদের জাতীয়করণের কথা বলে ২০১৭ সালের শুরুতে অধ্যক্ষ মজিবুর রহমান তাদের কাছ থেকে ১৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা চাঁদা উত্তোলন করেন।

কিন্তু অধ্যক্ষ উত্তোলনকৃত টাকা দিয়ে কোনো কাজ করেনি বলে অভিযোগ শিক্ষক-কর্মচারীদের। পরে এ ঘটনায় অভিযোগ এনে আমতলী সরকারি কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ইউসুফ মিয়া বাদী হয়ে ওই বছর ১২ ফেব্রুয়ারি আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন।

পরে আদালতের বিচারক বৈজয়ন্তি বিশ্বাস মামলাটি আমলে নিয়ে বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল মোতালেব মিয়াকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। পরে অ্যাডভোকেট মোতালেব মিয়া ওই মামলার তদন্ত শেষে অধ্যক্ষ মো. মজিবুর রহমানকে অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের পরে মামলার আসামি অধ্যক্ষ মো. মজিবুর রহমান এ বছর ২৯ জানুয়ারি উচ্চ আদালত থেকে ৬ সপ্তাহের আগাম জামিন নেন। উচ্চ আদালত তাকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়। পরে অধ্যক্ষ মো. মজিবুর রহমান বরগুনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করে গত ৮ মার্চ মামলাটি পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বদলি করান।

মঙ্গলবার পাথারঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অধ্যক্ষ মজিবুর রহমান হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। আদালতের বিচারক মো. মঞ্জুরুল ইসলাম তার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার বাদী মো. ইউসুফ মিয়া জানান, আসামি কলেজের অধ্যক্ষ মজিবুর রহমান একজন প্রতারক শ্রেণির লোক। কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণের কথা বলে ১৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

তবে অধ্যক্ষ মো. মজিবুর রহমানের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তার পরিবারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কেউ কোনো মন্তব্য করেননি।

মোঃ সাইফুল ইসলাম মিরাজ/এএম/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :