আবহাওয়া দিবস কী জানে না উপকূলের মানুষ
দক্ষিণাঞ্চলের সর্বশেষ উপকূলবর্তী জেলা সাতক্ষীরা। এ সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় আইলা ও সিডরের মতো বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ হানা দিয়ে হাজারো মানুষের সর্বস্ব কেড়ে নিয়েছে বারবার। যার ক্ষত আজও বয়ে বেড়াতে হচ্ছে সেখানকার মানুষকে। তবুও টনক নড়েনি আবহাওয়া অফিসের। আজও কোনো সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড বা আবহাওয়া বিষয়ে জনগণকে অবহিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়নি এখান থেকে। যার ফলশ্রুতিতে এখানকার অবহেলিত মানুষ জানেনও না আবহাওয়া দিবস কী?
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টা। সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিস। নেই কোনো কর্মকর্তা। চেয়ারে বসে ঘুমাচ্ছিলেন অফিসের পিওন। তবে হঠাৎ ছুটে এলেন সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মল্লিক শফিকুল ইসলাম।
মল্লিক শফিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে জানান, স্থানীয়ভাবে আবহাওয়া দিবসটি পালন করা হয় না। তবে খুলনায় বিভাগীয় পর্যায়ে পালন করা হবে। স্থানীয়ভাবে আবহাওয়ার কোনো পূর্বাভাস এখান থেকে দেয়া হয় না। আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয় সেন্ট্রাল থেকে। তাছাড়া আমাদের এখানে কোনো এক্সপার্টও নেই। তবে যেটুকু প্রয়োজন সেটুকু রয়েছে। এখান থেকে আবহাওয়া পর্যাবেক্ষণ করে অনলাইনের মাধ্যমে সেগুলো সেন্ট্রালে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তাছাড়া স্থানীয়ভাবে কোনো আবহাওয়া পূর্বাভাস জারি করা হয় না। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী আবহাওয়ার পূর্বাভাস জারি করা হয়।
তিনি আর বলেন, আমাদের অফিসের যেটুকু জনবল প্রয়োজন সেটুকু রয়েছে। তবে নৈশকালীন কোনো প্রহরী নেই। অফিসের স্টাফ রয়েছেন ৮ জন।
শফিকুল ইসলাম বলেন, বাতাসের চাপ, তাপমাত্রা, আদ্রতা, বাতাসের গতিবেগ-দিক, সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত, উজ্জল কিরণ, সৌর বিকিরণ এখান থেকে পর্যাবেক্ষণ করা হয়। তিন ঘণ্টা পর পর হেড অফিসে অনলাইনে রিপোর্ট পাঠানো হয়। তাছাড়া দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় এক ঘণ্টা পর পর রিপোর্ট দেয়া হয়।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া মোকাবেলা করেন কিভাবে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া হলে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়। সেখানে ও কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করা হয়।
এদিকে আইলা বিধ্বস্ত সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের মোসলেম উদ্দীন জানান, সর্বনাশা আইলা কেড়ে নিয়েছে তাদের সবকিছু। যার ক্ষয়ক্ষতি আজও এখানকার মানুষ পুষিয়ে উঠতে পারেনি। ক্ষতের চিহ্ন রয়ে গেছে রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন ঘরবাড়ি ও দালান কোঠায়। আইলার পর লবণাক্ততার কারণে সেখানকার টিউবয়েলের পানি এখনও কেউ পান করতে পারে না।
আবহাওয়া দিবসের বিষয়ে কিছু জানেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আবহাওয়া দিবস কী এটা আমাদের জানা নেই। তবে এমন যদি কোনো দিবস থাকে তবে সেটা সকলকে জানানো ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন বলেন, বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে সাতক্ষীরা আবহাওয়া পরিবর্তনের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য এরিয়া। সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় একটা সমস্যা হচ্ছে বজ্রপাত এবং এটা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাছাড়া সাতক্ষীরা একটি দূর্যোগপ্রবণ এলাকা। তাই আবহাওয়া দিবসের প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া উচিৎ এসব বিষয়ে জনগণকে সচেতন করা।
আকরামুল ইসলাম/এফএ/এমএস