সিআইডি ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি বরগুনা
প্রকাশিত: ০৪:৪১ পিএম, ২৮ মার্চ ২০১৮ | আপডেট: ০৪:৪৫ পিএম, ২৮ মার্চ ২০১৮

বরগুনায় সিআইডি ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে আসামিকে নির্যাতনের পাশাপাশি আসামির স্ত্রীকে যৌন নির্যাতন ও এক লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। বুধবার বেলা ২টায় বরগুনা প্রেস ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী গৃহবধূ লাভলী জানান, তার স্বামী মো. শহিদুল ইসলাম স্থানীয় ক্রোক শাহকারামতিয়া মাদরাসার দফতরি হিসেবে কর্মরত। ২০১১ সালের একটি হত্যা মামলার সাক্ষী ছিলেন তিনি।

গত শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শহিদুল ইসলাম মাদরাসায় কর্মরত থাকাকালে তাকে ফোন করে ডেকে নেন সিআইডি ইন্সপেক্টর মো. সিরাজ উদ্দিন। সেখানে উপস্থিত হলে শহিদুল ইসলামকে হাতকড়া পরিয়ে রাতভর নির্যাতন করে সিআইডি ইন্সপেক্টর সিরাজ উদ্দিন।

এ সময় ২০১১ সালের ওই মামলায় আলাউদ্দিন ওরফে অরুণ নামের স্থানীয় একজনকে জড়িয়ে স্বীকারোক্তি দিতে বলা হয়। পরদিন রোববার সন্ধ্যায় শহিদুল ইসলামকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আদালতে নিয়ে রিমান্ডের আবেদন করা হয়। পরে আদালত আগামী ৮ এপ্রিল শুনানির দিন ধার্য করেন। শহিদুল ইসলাম বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ রয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

লাভলী আরও বলেন, রোববার দুপুরে আমি, আমার ননদ ও দেবরের স্ত্রী সিআইডি পুলিশের কার্যালয়ে স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে যাই। ওই সময় আমাকে একাকি একটি কক্ষে নিয়ে দরজা বন্ধ করে যৌন হয়রানি করা হয়।

একই সময়ে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করে জিআর ৪৪৫/১১ (বর) মামলায় তার স্বামীকে তাদের শেখানো স্বীকারোক্তি দিতে পরামর্শ দেয়ার জন্য বলেন সিরাজ উদ্দিন। অন্যথায় আমাকে এবং আমার পরিবারের সবাইকে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেন সিরাজ উদ্দিন।

জানতে চাইলে সিআইডি ইন্সপেক্টর মো. সিরাজ উদ্দিন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ২০১১ সালের একটি হত্যা মামলার তদন্তে শহিদুল ইসলামের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। সে কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটিকে আড়াল করতে শহিদুলের পরিবার মিথ্যা অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে এবং আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে।

এ বিষয়ে বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তোফায়েল আহমেদ জানান, সংবাদ সম্মেলনের কথা তিনি শুনেছেন। বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন।

মো. সাইফুল ইসলাম মিরাজ/এএম/এমএস